স্টাফ রিপোটার : রাজশাহী নগরীর রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করতে গিয়ে সপ্তাহখানেক পূর্বেও জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অপরিকল্পিত কর্মের পরিপ্রেক্ষিতে। গেলোবার, রাস্তাঘেষে বড় ড্রেনের কাজ করতে গিয়ে পাড়ামহল্লার ছোট ও মাঝাড়ি আকৃতির ড্রেনের মুখগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কারণে ছায়ানীড় এলাকা, মহলদারপাড়া ও রেডিপাড়া এলাকাসহ ১৭নং ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতার মতো ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। ঐ সময় ড্রেন থেকে উপচে পড়া পানি রাস্তা ও বাসাবাড়ি ছাড়াও এলাকার মসজিদ ও মাদ্রাসার বারান্দাতেও প্রবেশ করার মতো ঘটনাও ঘটে।
কিন্তু, এবার আর জলাবদ্ধতার ভোগান্তি নয়; ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের অবহেলা আর খামখেয়ালিপনার পরিপ্রেক্ষিতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি খননের সময় ভূগর্ভস্থ বা মাটির নিচে থাকা ওয়াসার মোটা পানির পাইপ ফেটে গিয়ে উক্ত খননস্থানে হুহু করে পানি জমতে থাকে। পানির লাইন ফেটে যাবার কারণে গতকাল বিকাল চারটা থেকে সমস্ত এলকায় বন্ধ হয়ে যায় ওয়াসার পানি সরবরাহ। চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ে এলকাবাসি। পাইপ ফেটে যাবার পরপরই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ বন্ধ করে ঐস্থানেই গাড়ি রেখে স্থান ত্যাগ করে বলে জানান এলাকাবাসি।
নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ডের রোডপাড়া, মহলদারপাড়া ও ছায়ানীড় আবাসিক এলাকার বাসিন্দা বাবু, আনোয়ার, আকবর, মসজিদের সভাপতি রাব্বানি ও সেক্রেটারি সাদেক, সজিব সহ আরো অনেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল আনুমানিক চারটার সময় বিমানবন্দর সড়ক সম্প্রসারণের কাজের অংশ হিসেবে রাস্তার পূর্বপার্শ্বে ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটি খননের কাজ করছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডন এন্টার প্রাইজের লোকজন। ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি খননের কাজ করার সময় প্রথমে ছোট্ট একচি পানির লাইন ভেঙ্গে যায়। এরপরেও কর্মীরা সতর্কতাবলম্বন না করে দেদাড়ছে চালিয়ে যায় মাটি খননের কাজ।
কয়েক মিনিট পরেই উচ্চ শব্দে ওয়াসার ছয় ইঞ্চি পানির পাইপ ড্রেজার মেশিনের আঘাতে ফেঁটে যায়। পাইপটির প্রায় চারফিট অংশজুড়ে দুমরে মুচড়ে ভেঙ্গে যাওয়াতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই উক্ত খননকৃত প্রায় একশ ফিট গর্তটি পানিতে একাকার হয়ে যায়। পানির মূল লাইন ফেটে যাওয়াতে আশেপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় বন্ধ হয়ে যায় ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি। পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পরেন এলাকবাসি। মসজিদের মুসল্লি থেকে শুরু করে বাসাবাড়ির গৃহীনিরা পড়েন বিপদে। সন্ধ্যা অবদিও ওয়াসা কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেউ উক্ত ভাটকৃত পাইপটি মেরামত না করায় ওয়াসা অফিসে কর্মরত ঐ এলাকার একজন ব্যক্তি নিজ দায়িত্বে উক্ত ফাটলকৃত অংশটি মেরামত করার চেষ্টা চালান।
এলাকার স্থানীয়রা আরো জানান, গতকাল সকাল নয়টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত নওদাপাড়া এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। যার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে। বিকাল চারটা নাগাদ বিদ্যুৎ আসার কয়েক মিনিট পরেই ঠিকাদারের কাজের প্রেক্ষিতে ওয়াসার পানি সরবরাহ পাইপটি ফেঁটে যায়। বাসাবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রসা ও মার্কেটের ট্যাপকলগুলো ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কল দিয়ে ময়লাযুক্ত লাল পানি নির্গত হতে থাকলে এলাকার লোকজনের মধ্যে অনেকটাই আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েক মিনিট ধরে কল দিয়ে হঠাৎ করে লাল পানি নির্গত হতে দেখে অনেকেই কৌতুহল বসত নওদাপাড়া হাটের সামনে এসে জানতে পারে ওয়াসার পানি সরবরাহের পাইপে ফাটল ধরেছে। সন্ধ্যা অবদি ঐ এলাকায় ওয়াসার পানি সরবরাহ বন্ধ ছিল। সুনির্দিষ্ট সময় ও রুটিং মাফিক ওয়াসার পানি সরবরাহ দেয় বলে আগামী সকাল ছাড়া ওয়াসার পানি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাও নেই বলে জানান এলাকার ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়রা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য মাটি খনন কাজ শুরু করার পূর্বে ডিজাইনানুযায়ী সতর্কতার সাথে কাজ করলে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতো না। কারণ, কাজ শুরু করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিয়মানুযায়ী উক্ত স্থানের একটি ম্যাপ ও কাজের দিকনির্দেশনা দিয়ে দেন সংশ্লীষ্ট কর্তৃপক্ষ। সে হিসেবে নগরীর কোথায় কোন স্থানে ওয়াসার পানির লাইন আছে, কোথাই টিএন্ডটির কেবল আছে বিষয়গুলো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অবগত থাকারই কথা। কিন্তু, তারা সবকিছু জানার পরেও কেনো অপরিকল্পিতভাবে কাজ করছে বিষয়টি সকলকেই হতবাগ করেছে। জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য যদি উন্নয়নমূলক কাজ করা হয় তবে, সেই কাজের জন্য জনভোগান্তি বৃদ্ধি পেলে সে কাজের মূল্যায়ন ও গুরুত্ব খুব স্বাভাবিক কারণের হ্রাস পাবে সকলের কাছে বলেও মন্তব্য স্থানীয়দের।
উল্লেখ্য যে, বিমানবন্দর সড়ক থেকে নওহাটা পর্যন্ত দুই লেন থেকে রাস্তা চার লেনে সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে বেশ কয়েকমাস ধরে। রাস্তার উভয় পার্শ্বে গভীর ড্রেন ও ফুটপাত তৈরির জন্য প্রথম ধাপে ড্রেন নির্মাণের নিমিত্তে খনন করা হচ্ছে মাটি। প্রায় দশ কিলোমিটার লম্বা ও চার লেনের রাস্তার কাজটি চার গ্রুপে বিভক্ত। এরমধ্যে প্রথম দুই ধাপের কাজ করার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) থেকে কার্যাদেশ পেয়েছে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে একটি হলো নগরীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডন এন্টারপ্রাইজ। যার সত্বাধিকার হলেন হারুণÑঅরÑরশিদ।