সর্বশেষ সংবাদ
মোদির আশ্বাসেও দিল্লিতে থামছে না বিক্ষোভ মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে : এমপি মিলন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে ওয়াসা এমডির উন্নয়ন-নাগরিক সেবা নিয়ে আলোচনা রাজশাহীতে ট্রেন অবরোধে ক্ষতি ৩৫ লাখ টাকা, ভোগান্তিতে পড়েন ২০ হাজার যাত্রী পাবনায় খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাসহ তার বাবা ও স্ত্রীর পাঁচ বছর করে কারাদন্ড জোরেশোরে চলছে রোপা-আমন রোপনের কাজ একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটির আট প্রকল্প অনুমোদন রাজশাহী নগরীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ‘রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে গুজবে কান দিবেন না’

শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

Paris
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন ফোনালাপের বিষয়টি সামনে আসার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে এ সম্ভাবনা আরও প্রবল হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। যদিও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। এর আগে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেন সাহাবুদ্দিন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগের শীর্ষ কোনো সাংবিধানিক পদে এখনও বহাল আছেন। একাধিক সূত্রের দাবি করে, চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি টেলিফোনে সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। সূত্রগুলো জানায়, রাষ্ট্রপতি ৯ মে লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই ফোনালাপের বিষয়টি জানতে পারে। এরপরই তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয় বলে সূত্রগুলোর দাবি। তবে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, সম্ভাব্য পদত্যাগের পেছনে শুধু ওই ফোনালাপই কারণ নয়, বিষয়টা ‘আরও জটিল’। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনা সম্প্রতি ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানানোর পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। গত ১০ জুলাই রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। একই সময়ে দেশের ভেতরে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর দল পুনর্গঠনের নানা উদ্যোগও পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ। বিএনপির ওই নেতা বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে। এর মাধ্যমে সরকার বোঝাতে চাইবে যে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে, এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে সরকার। গত ১৭ জুলাই মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি ঠিক কবে পদত্যাগ করতে পারেন বা তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তিনি বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। সে সময় তিনি আরও বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন। এরপর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন বলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মধ্যে ফোনালাপের কোনও তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। এরকম যদি কিছু হয়ে থাকে তাহলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পায়নি। যদি সেটা সত্যি হয়ে থাকে অবশ্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্ত করবে, সরকারও সেটা তদন্ত করবে। মার্কিন দূতের ঢাকা সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের বহুপাক্ষিক সম্পর্ক আছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। সেগুলো আরও সুগম হবে এবং আমরা আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আমাদের ডিপ্লোমেসি, ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি সব কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, নিয়ে যাওয়া হবে, সেটাই আলোচনা হবে বলে আমার আমি মনে করি।
-এফএনএস


আরোও অন্যান্য খবর
Paris