সোমবার

১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে ৫ দিন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্রীড়াকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে : মিনু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের নেতাদের বৈঠক তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার : মিলন সাংবাদিকসহ জনগণের সহযোগিতা কামনা করলেন আরএমপি কমিশনার মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা যেন লোক দেখানো না হয় : জামায়াত আমির রাজশাহী কোর্ট কলেজে বরণ-বিদায় ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পেলেন কবি শামীমা নাইস ছোট্ট জান্নাতের মৃত্যু যেনো নাড়িয়ে দিলো প্রতিটি হৃদয়

রাজশাহীতে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

Paris
Update : রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩

স্টাফ রিাপর্টার : ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি অর্জন করে মহান বিজয়। পৃথিবীর মানচিত্রে খচিত হয়Ñ বাংলাদেশ। তাই আজকের এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাব-গাম্ভীর্যের সঙ্গে উদ্যাপন করে বাঙালি জাতি। সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করা হয় মহান বিজয় দিবস।  এ উপলক্ষ্যে শনিবার (১৬ ডিসেম্বর)সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জেলা পুলিশ লাইন্সে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আনিসুর রহমান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার, জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ, পুলিশ সুপার মো: সাইফুর রহমান, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তর ও সংস্থার প্রধান, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণি-পেশার সর্বস্তরের মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।  মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সকাল ৯টায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে বিভাগীয় কমিশনার প্রধান অতিথির বক্তৃতা রাখেন। ইতিহাসের মহানায়ক স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদ ও ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, শহিদের আত্নত্যাগ কখনো বৃথা যায় না। শহিদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে আমাদের মহান বিজয়। তাঁরা আমাদেরকে বিশে^র দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার পথ তৈরি করে দিয়ে গেছেন। ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে অকুতোভয় বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তির মূলমন্ত্রে। ১৯৭১ সালে আজকের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় বাঙালি জাতির দীর্ঘদিনের আকাক্সিক্ষত ও গৌরবান্বিত বিজয়। সেইসঙ্গে অবসান হয় বাঙালি জাতির ২৩ বছরের শোষণ ও বঞ্চনার। এই বিজয় শাসকের বিরুদ্ধে শোষিতের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের, বঞ্চনার বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের। তিনি বলেন, মুক্ত বাঙালি জাতি ধীরে ধীরে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ উন্নয়নের মহাযাত্রায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশে^র দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে। মহান বিজয়ের ৫৩তম বছরে এসে আমরা বেশকিছু গৌরবময় সাফল্য অর্জন করেছি। বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ হতে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। আমাদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ এখন পৃথিবীর ৩৫তম অর্থনীতির দেশ। মেগাপ্রকল্পগুলো তুলে ধরে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বাংলাদেশে এখন শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে। দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আমরা পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল করতে পেরেছি। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জমিসহ ঘর প্রদান করে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশে^ বিরল নজির গড়েছেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় মনোনিবেশের আহ্বান জানান। এদিকে শনিবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং বিজয় দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আনিসুর রহমান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার, জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ, পুলিশ সুপার মো: সাইফুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী, প্রফেসর (অব.) ড. মু. শামসুল আলম, বীর প্রতীক বক্তৃতা করেন।  শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বাদ জোহর মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং সুবিধামতো সময়ে অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। দিনটি লক্ষ্য রেখে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির রাজশাহী কার্যালয় চিত্রাঙ্কন, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এাদকে এদিন প্রথম প্রহরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশপাশি সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকাল ১১টায় সিএন্ডবি মোড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাসিকের কাউন্সিলরবৃন্দ। এরপর কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ পৃথক পৃথকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর কুমারপাড়াস্থ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে আলাদাভাবে পুস্পার্ঘ অর্পণ করেন মহানগর আওয়ামী ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris