সর্বশেষ সংবাদ
মোহনপুরে আড়াই হাজার মানুষের হাতে কৃষি ও উন্নয়ন প্রণোদনা বুধপাড়া আলিম মাদ্রাসার বৃত্তিপ্রাপ্ত ১২ শিক্ষার্থীকে রাসিক প্রশাসকের অর্থ প্রদান সাপাহারে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক কোচিং ফি আদায়ের অভিযোগ নিরাপত্তা কৌশল যেন জনগণকে সরকার প্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন না করে : প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর শিক্ষার উন্নয়নে সর্বাধিক কাজ করে যাবেন এমপি হাবীবা খুব শীঘ্রই ঈশ্বরদী বিমান বন্দর চালু করা হবে : প্রতিমন্ত্রী পুতুল সাপাহারে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ উদ্বোধন বর্ষায় দেখা নেই বৃষ্টির, হচ্ছে না জমি চাষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সুশাসন দাবিতে রাজশাহীতে ১১ দলের বিক্ষোভ মিছিল

তানোরে ভারী বর্ষণে ডুবেছে ধান ভেসে গেছে হাজারো পুকুরের মাছ

Paris
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৩

তানোর থেকে প্রতিনিধি
টানা ভারী বর্ষনের কারনে বন্যায় রাজশাহীর তানোরে ডুবতেই আছে কৃষকদের রক্তঘামের ফসল রোপা আমন ধান। প্রায় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত টানা ভারি বর্ষন হয়েছে। যার কারনে ঘরবন্দী হয়ে পড়ে জনসাধারণ। টানা বৃষ্টির কারনে উজান থেকে আসা পানির ঢলে গ্রামীন রাস্তা ঘাট ও গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে করে উপজেলার চান্দুড়িয়া, কামারগা, পাঁচন্দর ও কলমা ইউনিয়ন এবং তানোর পৌরসভায় রোপা আমন ধান ডুবেছে, ডুবতেই আছে। তবে বৃষ্টি কমার কোন সম্ভব না দেখা যাচ্ছে না। ফলে উপজেলার জনসাধারণের একমাত্র উপার্জনের উপায় রোপা আমন ধান ডুবতেই আছে। একারনে হতাশায় কপালে ভাঁজ পড়েছে কৃষকদের।
জানা গেছে, রোপা আমন রোপনের সময় বৃষ্টির পানির দেখা ছিল না। আষাঢ়, শ্রামন ও ভাদ্র মাসেও এত পরিমান বৃষ্টি হয়নি। কিন্তু আশ্বিন মাসের প্রথম দিকে তেমন বৃষ্টি না হলে প্রায় ৮/১০ দিন ধরে মাঝারি ভারি বৃষ্টি হতেই আছে। সবচেয়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয় বুধবার রাত প্রায় ৯ টা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় তিনটা পর্যন্ত টানা ভারি বর্ষন হয়েছে। এবৃষ্টিতেই বিলকুমারী বিলের পানি বাড়তেই আছে। শুধু তাই না উজান থেকে নামতেই আছে পানির স্রোত। যেদিকেই চোখ যায় সেদিকেই থইথই করছে পানি। প্রতিটি ব্রীজের মুখ দিয়ে নামতেই আছে স্রোত।
কৃষকরা বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে বৃষ্টি থামলেও আকাশে প্রচন্ড মেঘ। হয়তো রাত থেকেই আবার শুরু হবে পানি। যে পরিমান পানি হয়েছে বছরের মধ্যে এত পরিমান বৃষ্টি হয়নি। নিচের জমিগুলো ডুবে যাবে। রোপা আমনের মারাত্মক ক্ষতি সাধন হবে যা আমাদের সর্বনাশ। শুধু রোপা আমনের ক্ষতি না পুকুরের মাছ বের হয়েছে প্রচুর পরিমানে। টানা বৃষ্টির কারনে সবজি খেতও ক্ষতির মুখে পড়েছে। উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কামারগাঁ শ্রীখণ্ডা গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন, যে হারে পানি বাড়তে শুরু করেছে তাতে করে এই ইউপির রোপা আমনের ফলন পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, কামারগাঁ ব্লকের কামারগাঁ ৩০ হেক্টর, মাদারিপুর ৮ হেক্টর, ছাঐড় ১৪ হেক্টর, কৃষ্ণপুর ৫ হেক্টর ও পাঁচন্দর ব্লকের মোহাম্মদ পুর ৭ হেক্টর, চাঁদপুর ১০ হেক্টর এবং চান্দুড়িয়া ব্লকের চান্দুড়িয়া ১৫ হেক্টর সিলিমপুর ৫ হেক্টর। তানোর পৌরসভায় ১১০ হেক্টর। সব মিলে ২০৩ হেক্টর রোপা আমন ধান ডুবেছে এর মধ্যে আংশিক ১৫৭ হেক্টর ও পুরোপুরি ডুবেছে ৪৬ হেক্টর। তবে কলমা ইউপির আজিজপুর, চন্দনকোঠা, কুজিশহর সহ ওই ইউপির ধান ডুবার কোন তথ্য দিতে পারেন নি কৃষি অফিস। উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, উপজেলায় রোপা আমনের চাষাবাদ হয়েছে ২২ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে। তবে ধান ডুবেছে পুরোপুরি ভাবে ৪৬ হেক্টর এবং আংশিক ডুবছে ১৫৭ হেক্টর জমি। অবশ্য বৃষ্টির পানি একেবারে থেমে গেলে এর সঠিক হিসেব পাওয়া যাবে। যে সব জমি ডুবেছে এবং পানি ঢুকেছে সে সব জমি থেকে তিন চার দিনের মধ্যে পানি বের হলে ধানের তেমন ক্ষতি হবে না। কিন্তু এর চেয়ে বেশি সময় পার হলে ধান হবে না।
এদিকে রাজশাহীর তানোরে ৪ দিন ধরে ভারী বর্ষণ ও ব্যাপক বৃষ্টিপাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় আড়াই হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এরমধ্যে তানোর পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত আমশো তাঁতিয়ালপাড়া, গোকুল মথুরা, তালন্দ, ধানতৈড় ছাড়াও কালিগঞ্জ এবং শিবনা দমদমার বেশ কয়েকটি পুকুর ভেসে ক্ষতি হয়েছে বেশি। এসব পুকুরে বিভিন্ন জাতের বড় মাছ ও পোনা ছিল। উপজেলা মৎস্য বিভাগের হিসাবমতে, পুরো উপজেলায় ব্যক্তি মালিকানা পুকুরের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার। আর সরকারি খাসপুকুর রয়েছে এক হাজারের মতো। গত ২ সেপ্টেম্বর সোমবার থেকে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে ঢলের পানি বৃদ্ধি পেয়ে এসব পুকুর তলিয়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এরির্পোট লেখা পর্যন্ত উপজেলার আড়াই হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের সংখ্যা আরও বাড়বে। এসব পুকুরে বিভিন্ন জাতের বড় মাছ ও পোনা ছিল। এতে টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই কোটি। এসব পুকুরে প্রায় ৩০ মেট্রিক টন মাছ ছিল। পোনা ছিল প্রায় ২৫ লাখ। নির্ভরযোগ্য মৎস্যচাষী ও ব্যবসায়ী সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ বিষয়ে তানোর পৌর এলাকার আমশো তাঁতিয়ালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বুলবুল ও সিহাব জানান, মথুরাপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহমানের পুত্র নাজমুল হাসান একজন বড় মৎস্য চাষি। তিনি ব্যক্তি মালিকানা শতাধিক বিঘার ১২টি পুকুর বছর চুক্তি লীজ নিয়ে মাছচাষ করেন। তার কামলা (লেবার) হিসেবে মাছের খাদ্য প্রদান ও পুকুর দেখভাল করেন তারা। আমশো, মথুরাপুর ও তাঁতিয়ালপাড়া মৌজায় এসব একেকটি পুকুর ২০ থেকে ৮ বিঘা পর্যন্ত জলাধর। কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে এসব পুকুর ভরে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। বড় মাছগুলোর ওজন ছিল দুই থেকে আড়াই কেজি।
ধানতৈড় গ্রামের কাজি আলী বলেন, ভারী বর্ষণে অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ৩০টি পুকুরে কেবল বড় মাছ ছিল। সব ভেসে গেছে। এখন পথে বসার অবস্থা। একই এলাকার মাছচাষি বুলবুল জানান, তারও পাঁচটি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এ মাসেই সব মাছ বিক্রি করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সর্বনাশ হয়ে গেছে।
মৎস্যচাষী নাজমুল হাসান বলেন, তিনি ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা লোন নিয়ে পুকুরে মাছচাষ ব্যবসা করে আসছেন। এ অবস্থায় গত ৪ দিনের ভারী বর্ষণ ও ব্যাপক বৃষ্টিপাতে তার সব পুকুর প্লাবিত হয়ে মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। কোন মতেই রক্ষা করা যাচ্ছে না। চাষকৃত এসব মাছ বিক্রি করে এনজিও গুলোর কিস্তি চালান। এখন কি করব বলে চিন্তিত হয়ে হতাশ হয়ে পড়েন হাসান।এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল হোসেন, ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু মুষুলধারে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের জন্য বের হওয়া সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের সংখ্যা নোট করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্র্রহণ করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris