আব্দুস সবুর. তানোর
রাজশাহীর তানোর পৌরসভায় বিগত ২০২১-২২ অর্থ বছরের কাজ দেখিয়ে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের এডিবির টাকা হরিলুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত অবহেলিত পৌরবাসী। এছাড়াও সম্প্রতি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ সভায় মেয়র উপস্থিত না হওয়া এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন না করায় চটেছেন কর্তৃপক্ষরা। মেয়র ইমরুলের একের পর এক কান্ডে চরম অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পৌর নাগরিকরা। যে কোন সময় জনতা পৌর ভবন ঘেরাও সহ মেয়র ও পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এসবের জবাব নিতে নানা কর্মসূচির কথাও ভাবছেন। কারন উন্নয়নের মহা বার্তা দিয়ে মেয়র নির্বাচিত হলেও এডিবির বরাদ্দ ছাড়া কিছুই আনতে পারেননি। আবার সেটাও যদি তছরুপ হয় তাহলে এমন মেয়র না থেকে পদত্যাগ করায় উত্তম বলেও মন্তব্য সচেতন নাগরিকদের। ফলে দিনের দিন মেয়র তার ভাই ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছেন পৌরবাসী।
গত ২০২২-২৩ অর্থ বছরের এডিবির কাজ না করে টাকা হরিলুট করা হয়েছে জানতে চাইলে মেয়র ইমরুল ও অতিরিক্ত সহকারী প্রকৌশলী সরদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পৌরসভায় গিয়ে কার্যসহকারী মাহবুবের কাছে কাজের তথ্য নেন কাজ করা হয়েছে। সে মোতাবেক কারযসহকারী মাহবুর ২০২২ সালে জুনে যে দরপত্রে কাজ হয় সেগুলোর তথ্য দেন।
তার দেয়া তথ্য মতে, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড হরিদেবপুর গ্রামে আরসিসি ড্রেন ২ টি, তালন্দ সরদার পাড়ায় ব্রিক ড্রেন তিন জায়গায় ও সার ব্যবসায়ী বাবুর বাড়ী সংলগ্ন কার্লভাট নির্মান। এসব ১ নম্বর প্যাকেজে হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাক্স এন্টারন্যাশনাল, প্রোপাইটার সুমি খাতুন।২ নম্বর প্যাকেজে গোকুল ও মথুরাপুরগ্রামে ২ টি ব্রীক ড্রেন। ২য় প্যাকেজ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কিটস্ পার্ক প্রোপাইটার আব্দুল সালেক বোয়ালিয়া রাজশাহী।
৩য় প্যাকেজে চাপড়া গ্রামে সিসি রাস্তা, পুরানপুকুর গ্রামে প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাওসিন ট্রেডার্স, প্রোপাইটার আবু সাইদ পলাশ, রাজপাড়া রাজশাহী।
৪র্থ প্যাকেজ, কুঠিপাড়াগ্রামে ব্রিক ড্রেন, তানোরপাড়া গ্রামে ২ জায়গায় ব্রিক ড্রেন। সোমা কনস্ট্রাকশন, শফিকুল হক হেতেম খা রাজশাহী।
৫ নম্বর প্যাকেজে, গোল্লাপাড়া সিরাজ কমিশনের বাড়ির পার্শে ব্রিক ড্রেন দুই জায়গায়। সোমা কনস্ট্রাকশন, শফিকুল হক, হেতেম খা রাজশাহী।
৬ নম্বর প্যাকেজে, আমশো দক্ষিণ পাড়া গ্রামে মৃত আসানের বাড়ির সামনে ব্রিক ড্রেন, বাচ্চু মোল্লার বাড়ির কাছে প্রটেকশন ওয়াল, তাতিয়ালপাড়া শাহবানের বাড়ির পাশে প্রটেকশন ওয়াল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। হাবিবুর রহমান মোহর, তালন্দ, তানোর।
৭ নম্বর প্যাকেজে, চাঁনপুর ইসাহাকের বাড়ির কাছে ব্রিক ড্রেন, জিওল দুলালের বাড়ির কাছে ব্রিক ড্রেন, তিন জায়গায়, কাসারদিঘি খালের পার্শে আরসিসি রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, এসএস কনস্ট্রাকশন, জিয়াউর রহমান রাজশাহী।
৮ নম্বর প্যাকেজে, বুরুজ গ্রামের মন্দিরের পাশে ব্রিক ড্রেন, বুরুজ মাদ্রাসায় পানি সরবরাহের জন্য মটার ও ট্যাংকি স্হাপন, বর্যগ্রামে আরসিসি ড্রেন ও কার্লভাট নির্মান।
৯ নম্বর প্যাকেজে রায়তান বর্ষ গ্রামে ব্রিক ড্রেন। এমএইচ এন্টারপ্রাইজ, আকতার হোসেন, মুন্ডুমালা তানোর। তথ্য নেয়ার পর কার্যসহকারী মাহবুবের কাছে জানতে চাওয়া হয় এটাতো ২০২১-২২ অর্থ বছরের কাজের তথ্য, ২০২২-২৩ অর্থ বছরের কাজের তথ্য কোথায় নাকি এসব দেখিয়ে এডিবি বরাদ্দের টাকা তসরুপ করা হয়েছে কিনা তিনি জানান এটাই ২০২২-২৩ অর্থ বছরের কাজ। তিনি আরো বলেন, বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল ৫৮ লাখ টাকা কাজ হয়েছে তার বেশি টাকার। এইনা হল জনপ্রতিনিধি সরকারের বরাদ্দের চেয়েও বেশি টাকার কাজ করে থাকেন মেয়র ইমরুল। কি চমৎকার বর্ননা। কিন্তু বাস্তবটা হচ্ছে, এসব কাজ গুলো বেশির ভাগ কিনে করেছেন মেয়রের ভাই সোহেল রানা সহ তার অনুসারীরা সেটা অকপটে স্বীকার করলেন কার্যসহকারী। তথ্য মতে, জুন মাসের মধ্যে এডিবি বরাদ্দের কাজের খরচ সহ দরপত্র অনুযায়ী কাজ হয়েছে মর্মে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে হিসেব নিকেশ দেয়া হয়। এমন কি একটাকা বাঁচলেও জুন ক্লোজিংয়ের আগে দেখাতে হয় নইলে ফেরত দিতে হবে। অবশ্য সম্প্রতি পৌরসভার কার্যসহকারী মাবুরের কাছে পুনরায় জানতে চাইলে তিনি জানান, কাজের স্টিমেট তৈরি করা হচ্ছে অল্প দিনের মধ্যে দরপত্র আহবান করা হবে। অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী সরদার জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি। এমনকি হটএপে ক্ষুদে বার্তা দিলেও কোন জবাব দেননি। তবে মেয়র ইমরুল হক বলেন, দরপত্র বা টেন্ডার প্রক্রিয়া অনেক সময়ের ব্যাপার। এজন্য কোটেশনে কাজ করা হবে এবং আগামী জুনের মধ্যে পৌরসভায় কোন মাটির বা ভাঙ্গা চোরা রাস্তা থাকবে না। টেন্ডার ছাড়া কাজ করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, কাজ হলেও হলো বলে দায় সারেন মেয়র।