বুধবার

১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী লিবিয়ায় অপহৃত মান্দার আলমগীরের মৃত্যু, আড়াই মাস পর মরদেহ শনাক্ত রাজশাহীতে ক্লুলেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, বিএনপি নেতাসহ ২ জন গ্রেপ্তার পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি বিএমডিএ’র ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা নতুন সরকারের অধিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়তে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে : রিটন রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক কিশোর দেশের ৬৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকছেন : তথ্যমন্ত্রী

পানির অভাব রোপা-আমনের মাঠে

Paris
Update : বুধবার, ২৮ জুন, ২০২৩

তানোর সংবাদদাতা : রবেন্দ অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি ধান উৎপাদনের অন্যতম এলাকা রাজশাহীর তানোর উপজেলা। আষাঢ় মাস পড়লেও বৃষ্টির দেখা নেই, অথচ রোপা আমন রোপনে বীজ তলা প্রস্তুত করে ফেলেছেন কৃষকরা। কিন্তু বৃষ্টির পানি না হওয়া ও গভীর নলকূপের অপারেটরদের নানান অজুহাতে জমি চাষ করতে পারছেন না কৃষকরা। আষাঢ় মাস পড়লেও তেমনভাবে বৃষ্টির দেখা নাই। বৃষ্টিনির্ভর রোপা আমন চাষীরা চাতক পাখির মত চেয়ে আছেন আকাশ থেকে কখন নামবে ভারি বর্ষন। এমনকি বীজ তলার বীজ রোপন উপযোগী হলেও পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে পড়েছে। এতে করে চরম ভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

কামারগাঁ ইউপি এলাকার কৃষক রউ, আবদুল জানান, আষাঢ় মাস মানেই অঝরে বৃষ্টি। আষাঢ় মানে জমি চাষ রোপনে মহা ব্যাস্ত সময় পার করে কৃষকরা। কিন্তু এবারের চিত্র পুরোটায় বদলে দিয়েছে আবহাওয়া। কামারগাঁ ইউপির কৃষক লুৎফর, বিপুল, মাহবুর, রিগানসহ অনেকে জানান, অন্য এলাকার চেয়ে আমরা আগে ধান রোপন করে থাকি। এজন্য বীজতলাও আগে তৈরি হয়। তবে এবার বৃষ্টির পানি না হওয়ার কারণে জমি চাষ করা যায়নি। এমনকি বীজ তলায়ও পানি নেই, ফেটে গেছে। বৃষ্টি হলে এতদিনে জমি চাষ হয়ে যেত এবং অনেকে রোপন করে ফেলতেন। কারণ রোপা আমন উত্তোলনের পর আলু রোপন হয়। আষাঢ় মাসের ১৩ দিনে বৃষ্টির পানি তেমন ভাবে হয়নি। তবে ১৩ আষাঢ় মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঝেমাঝে হালকা বৃষ্টি হয়েছে কিছুকিছু এলাকায়। এমন বৃষ্টিতে জমিতে তীল পরিমান পানি জমেনি।

বাধ্য হয়ে জমির আইলের কাজ করা হচ্ছে। মুন্ডুমালা পৌর এলাকার কাউন্সিল মোড়ে বেশকিছু শ্রমিকরা আইলের কাজ করছিলেন। সেখানেই ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর বাক্কার তিনি জানান, আমাদের এলাকার জমি গুলো উঁচু। কয়েক ঘন্টা ভারি বর্ষন না হলে জমিতে পানি লাগবে না ও চাষ করা যাবেনা। আষাঢ় মাসের ১৩ দিনে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঝেমাঝে বৃষ্টি হচ্ছে। ১৩ দিন পর মনে হচ্ছে আষাঢ় মাস। কিন্তু ভারি বর্ষন হয়নি। অবশ্য বিকেল তিনটার কিছু সময় বৃষ্টি হয়েছে। এবৃষ্টিই এক বা দু ঘন্টা হলে জমি চাষ করা যাবে। কিন্তু এক বা আধা ঘন্টা বৃষ্টির পর পুনরায় খরতাপ শুরু হচ্ছে, একারনে জমিতে পানি জমছেনা, আবার বীজতলাতেও পানি থাকছেনা। প্রবীন কৃষক, আবদুর রহিম, মুকবুল, হান্নান, সাইদুর সহ অনেকে জানান, কয়েক উপজেলা জেলার মধ্যে রোপা আমন আবাদ হয় বেশি এউপজেলায়। আর রোপা আমন আবাদে উপজেলার জনসাধারনের জীবিকা নির্বাহের অবলম্বন। বৃষ্টি নেই সেচ পাওয়া যাচ্ছে না, মহা বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অন্য চাষাবাদ না করলেও রোপা আপন সবাই চাষ করে। কারণ বৃষ্টি নির্ভর রোপা আমন। সেচের খরচ বাঁচে বিঘায় গভীর নলকূপে ১৫০০ টাকা, আর মটরে বাঁচে ৩০০০-৩৫০০ টাকা। পানি না হওয়ার কারণে জমিতে প্রচুর পরিমানে ঘাস ও ন্যাড়া খাড়া অবস্থায় রয়েছে। আগে যদি বিঘায় চারটি করে চাষ দিয়ে জমি রোপন করা যেত। কিন্তু এবার ৬-৭ টির বেশি করে চাষ লাগবে। মাসুদ, সারোয়ার, ইকবাল সাহেব জানান, বীজ প্রস্তুত, কিন্তু জমি চাষ করতে পারছিনা। আবার বীজের বয়স বেশি হলে ফলনও কম হবে।

পদকপ্রাপ্ত আদর্শ কৃষক নুর মোহাম্মাদ বলেন, আষাঢ় মানেই ঢলমারা বৃষ্টি। খাল বিল পুকুর ও জমিগুলোতে বৃষ্টির পানিতে থইথই করে। কিন্তু জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবের কারণে আষাড়ের ১৩ দিনে মনে হল এটা আষাঢ় মাস। এত দিনে জমি রোপনের জন্য প্রস্তুত হয়ে যেত, আষাঢ়ের ২০ দিন পর থেকে শ্রাবন মাসে জমি রোপন করে থাকেন। বিগত দশ বছর ধরে আগাম রোপা আমন চাষ হয়। কারণ রোপা আমন রোপনের আগেই আলুর জন্য জমি লীজ নিয়ে নিচ্ছে। একারনে আগাম রোপন হয়। উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, বৃষ্টির কারণে জমি চাষ হয়নি। তবে শ্রাবন মাস ধরে রোপন করে থাকেন। কিন্তু আলুর জন্য আগাম রোপন হয়। এবারে রোপা আমনের লক্ষমাত্রা ২২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমি। তবে বৃষ্টি না হলে সেচের মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হবে জানান এই কর্মকর্তা।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris