শনিবার

২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ

নগরীর ২১নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ফারুকের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা

Paris
Update : রবিবার, ১৮ জুন, ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার

আসন্ন নির্বাচনে রাসিকের ২১নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী মাত্র দুইজন। নিযাম উল আজীম নিযাম নির্বাচন করছেন ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে। আর মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি গোলাম ফারুকের প্রতীক মিষ্টি কুমড়া। গেল ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী নিযামের প্রতীক ছিল এই মিষ্টি কুমড়া। তাই প্রতীকের বিষয়টিকে ভাগ্যের চাকার সাথে তুলনা করার পাশাপাশি সাবেক কাউন্সিলের নানামুখি প্রশ্নবিদ্ধ কর্মের প্রেক্ষিতে অনেকেই মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, এবার গেলবারের মিষ্টি কুমড়া প্রতীকেরই জয়ের সম্ভাবনা বেশি। এই ওয়ার্ডের নাগরিকদের চাওয়া পাওয়া আর প্রত্যাশার বিশ্লেষণে বোঝা যায়; নতুন মুখের সন্ধানে তারা। একইব্যক্তি বারবার নির্বাচিত হবার কারণে ইতিমধ্যেই ভাটা পড়েছে নাগরিক সেবায় বলে মন্তব্যের সাথে যোগ করেন তাদের নতুন প্রত্যাশার বিষয়টিও।

নিজের ইশতেহার আর নাগরিকদের অধিকার নিয়ে একান্ত আলাপচারিতায় প্রার্থী গোলাম ফারুক তুলে ধরলেন সাবেক কাউন্সিলর নিযামের ভোটকেন্দ্রিক বেশকিছু স্পর্শকাতর বিষয়। সাথে আরো তুলে ধরলেন নানা অভিযোগ আর অনিয়মের বিষয়গুলোও। নিজের জয় নিয়ে আশারবাণীও শোনালেন নতুন প্রজন্মের সমাজসেবক দাবিদার কাউন্সিলর প্রার্থী ফারুক।  তিনি জানান, নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে গত ১২ জুন রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বর্তমান কাউন্সিলর ও এবারের প্রার্থী নিযামের বিরুদ্ধে। টিসিবি’র কার্ডকে ঢাল করে গরীব আর নিম্নবিত্ত ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়ার মতো বিধি লঙ্ঘণের বিপরীতে উক্ত অভিযোগটি করেন ফারুক। অভিযোগকারী ছাড়াও ঐ ওয়ার্ডের সচেতন ব্যক্তিরা নিজ নিজ মন্তব্যে বলেন, ভোট ব্যাংক শক্তিশালী করতে হলে কোন প্রকার শর্ত ব্যতীরেকেই ভালবাসা, আচার-আচরণ আর নাগরিক অধিকারগুলোকে সমবন্টনের মাধ্যমেই নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রতীয়মান করতে হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার, দ্রারিদ্রতা ও আহারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে জিম্মি করে ভোট ব্যাংক সুঠাম করার চেষ্টা কখনোই একজন প্রকৃত সমাজসেবক বা জনপ্রতিনিধির হাতিয়ার হতে পারেনা। জনপ্রতিনিধির একমাত্র হাতিয়ার হওয়া উচিত নাগরিকদের ভালবাসা আর বিশ^াস। আর সেটি অর্জন করা যায় সেবারমানে সমবন্টন আর সমান অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে বলে মন্তব্য প্রার্থী ফারুকের। তিনি আরো বলেন, যোদ্ধা শুধু অস্ত্র হাতে নিয়েই হয় না, দেশের ক্রান্তিকালে মানুষের খাদ্যের যোগান দিয়েও যোদ্ধা হওয়া যায়। ১৯৭১ সালের ক্রান্তিকাল আমি না দেখলেও, ২০২০ সালের ‘কোভিড-১৯’ মহামারির ভয়াবহতা আমি দেখেছি। তাই সাধ্যমতো আমি এই ওয়ার্ডের গরীব, অসহায় ও কর্মহীন মানুষের পাশে দাড়িয়েছিলাম তাদের মুখে কিছুটা খাদ্যসামগ্রী আর অন্ন দেবার অভিপ্রায় নিয়ে। নিজের মুখের হাসির চাইতে অন্যের মুখের হাসিটাই মানুষের বড় পাওয়া বলেই আমি মনে করি।

সর্বশেষ নির্বাচনে ৩৬০২ ভোট পেয়ে ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন নিযাম উল আজীম নিযাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আসাদুজ্জামান রেবু পেয়েছিলেন ১৩৬২ ভোট। প্রায় ২ হাজার তিনশ ভোট ব্যবধানে বিজয়ী হওয়া তিনবারের কাউন্সিলর প্রার্থীকে পরাজিত করাটা কি সম্ভব ? জানতে চাইলে প্রার্থী গোলাম ফারুক প্রতুত্ত্বরে বলেন, ‘মানুষ যখন বিকল্প ও বিশ^স্ত কোন কিছু পায়না, তখন সবরকম কষ্ট-গ্লানি আর অপমান সহ্য করে হলেও সিচিউয়েশন মেনে নেয়। কিন্তু, সেটিরও একটি শেষ আছে। নাগরিকরদেরকে যখন আপনি জিম্মি করে কৌশলে নিজ স্বার্থের জন্য তাদেরকে ব্যবহার করবেন, তখন সেটির স্থায়ীত্ব কখনো কখনো দীর্ঘ হলেও সুদীর্ঘ হয়না। কোন না কোন ঝড়ে আপনি নির্ঘাত পতীত হবেন। কারণ, মানুষ চাই নিজের অধিকারের পূর্ণতা। আমি নির্বাচিত হলে নাগরিকদেরকে সেই পূর্ণতা দেবার কাজেই মগ্ন থাকবো। এছাড়াও শ্রেণী-পেশা আর দলমত নির্বিশেষে নাগরিক সেবার বিষয়টিকে সমধিকারে পরিণত করবো। কাউন্সিলর কার্যালয়ে এসে অনেকেই স্বেচ্ছাচারিতার বেড়াজালে পতীত হয়ে সরকারি সেবা পেতে নাজেহাল হন বলেই শুনেছি। এছাড়াও বিভিন্ন ধরণের সরকারি অনুদান ও প্রণোদনা পাবার ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির বিষয়গুলো নিয়েও অভিযোগ কম না। আমি নির্বাচিত হলে, ঐসকল প্রতিবন্ধকতা জিরো টলারেন্সে আনতে চায়। নাগরিকদের দৌড়গৌড়ায় তাদের প্রাপ্য অধিকার ও সেবা পৌছে দিতে আমি কাজ করবো বলে নিজ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মিষ্টিকুমড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া গোলাম ফারুক। এই ওয়ার্ডের অধিকাংশ পাড়ামহল্লা থেকে এবার পরিবর্তনের জোয়ার উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, বিগত কয়েক ট্রাম দায়িত্বে থাকার পরেও কাউন্সিলর নিযাম ওয়ার্ডবাসির আপন হতে পারেননি। যিনি এতো দীর্ঘ সময়েও নাগরিকদের কাছে আসতে ব্যর্থ হয়েছেন; তিনি আর কখনোই পারবেন না গরীব আর অসহায় মানুষের বন্ধু হতে। তিনি শুুধু বড়লোকদের বন্ধু; গরীবের না। এছাড়াও তিনি সেবাগ্রহীতাদের সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যেই স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেন বলেও অভিযোগ আছে। যেটা অনুচিত। কোন কারণে কাউন্সিলর নিযামের বাসাতে দেখা করতে গেলে সেটা যেনো আকাশের চাঁদ হাতে পাবার সমতুল্য বলেও মন্তব্য ভুক্তভোগীদের। এছাড়াও আছে অন্যের জমিতে ভাড়াটিয়া গুন্ডাবাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে সেটি দখল নেবার অচেষ্টার মতোও নানা অভিযোগ। নানাদিক বিবেচনায় এই ওয়ার্ডের অধিকাংশ স্থানীয়দের এবারের প্রত্যাশা কাউন্সিলর পদে পরিবর্তন।  সে বিবেচনায় এগিয়ে আছেন মিষ্টিকুমড়া প্রতীকের গোলাম ফারুক বলেও মন্তব্য স্থানীয়দের।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris