ইউসুফ আলী চৌধুরী : মুক্তির যুদ্ধে জয়ী হলেও জয়ী হতে পারেননি জীবন যুদ্ধে এমনি এক ৭১ এর রণাঙ্গণের অকুতোভয় তালিকা বিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম সিরাজ। জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে লেপটে আছে এক বীরত্ব গাঁথা ইতিহাস। সিরাজ ওরফে শম্ভ ২৫ জুন ১৯৫১ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খাসেরহাট কবিরাজ টোলা গ্রামে পিতা তিতু মিয়া ও মাতা ছকিনার ঘরে জন্মগ্রহন করেন। সিরাজ প্রতিবেদককে জানান, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় তাঁর বয়স ২০ বছর। বিনোদপুর হাই স্কুলে মুক্তিযুদ্ধের ক্যাম্প। পাকিস্থানের হাত থেকে দেশ রক্ষায় বিভিন্ন এলাকার যুবক মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করছে। সিরাজ ও মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহনের প্রস্তুতি নেয়।
একদিন বিনোদপুর হাই স্কুল ক্যাম্পে আমি (সিরাজ) জয়নালকে সাথে নিয়ে সেক্টর কমান্ডার ডাঃ মোঃ মঈন উদ্দিন আহম্মদ মন্টুর সাথে দেখা করেন। সে সময় কমান্ডার আমাকে (সিরাজ) এবং জয়নালকে মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়ার রান্না করার দায়িত্ব দিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করেছি। মুক্তিযুদ্ধ শেষ দেশ স্বাধীন হলো। মুক্তিযুদ্ধ শেষে যার যার বাড়ীতে ফিরে এলাম। সংসারে অভাব শুরু হলে কাজের সন্ধানে রাজশাহীতে চলে আসি। তারপর ভাড়ায় রিক্সা চালানো শুরু করি এবং রিক্সা মালিকের নিউ কলোনী (বিহারী কলোনী) বাসায় থাকি। রাজশাহীতে দীর্ঘদিন বসবাসের কারনে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক হয়ে যায় পরবর্তীতে পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করছি।
রাজশাহী আসার পর আমার জন্মস্থান বিনোদপুর খাসেরহাটে যাতায়াত খুব কম হয়েছে। আমার অজ্ঞতা আর দারিদ্রতার কারণে আজ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হওয়ার আবেদন করা হয়নি। বিনোদপুর ক্যা¤েপ যারা ছিল, আমি ছাড়া সবাই এখন মুক্তিযোদ্ধা ইতিমধ্যে অনেকে মারাও গেছে। এখন বৃদ্ধ কাজ করার শক্তি নাই বিরস্তইল মসজিদের মুঠির চাল তুলি, কমিটি আমাকে কিছু চাল দেয় তা দিয়ে অতি কষ্টে দিনযাপন করছি। ওয়ারেন্ট অফিসার (অবঃ) মোঃ আলতাফ হোসেন বলেন, সিরাজ ওরফে সম্ভু ভাই বাবুর্চী হিসাবে আমাদের বিনোদপুর ক্যাম্পে রান্না করতেন, এখনও মুক্তিযোদ্ধার তালিকাতে নাম উঠেনি এটা দুঃখজনক।
প্রতিবেদককে জানান ক্যাম্পের প্রত্যক্ষদর্শী বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আমজাদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব নুরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব সাইদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ আহসান হাবীব, বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ কাইউম আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাঃ মশিউর রহমান বাচ্চু বিশ^াসসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা সিরাজকে বিনোদপুর ক্যাম্পে রান্না করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছে সিরাজের একটাই আবেদন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমাকে যথাযোগ্য সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া হোক।