১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানে সু চি ও প্রেসিডেন্ট আটক

প্রকাশিত: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: lead
মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানে সু চি ও প্রেসিডেন্ট আটক
বিজ্ঞাপন

এফএনএস : মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী গত নির্বাচন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি’র (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চি এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিনতকে আটক করে দেশটির ক্ষমতা দখল করেছে। মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্টকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। একই সাথে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে সেনা টহল জোরদারের পাশাপাশি পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত ও টেলিফোন-ইন্টারনেটসহ টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। এদিকে নির্বাচিত নেতাদের মুক্তি দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া।

গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল এনএলডি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। তবে ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তোলে দেশটির সেনাবাহিনী। এবার সেই অভিযোগেই অভিযান চালিয়ে সু চিসহ এনএলডির শীর্ষ নেতাদের আটক করা হল। এর আগে শনিবার সশস্ত্র বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। দেশটিতে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করতে পারে- এমন উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছিল, তারা দেশের সংবিধান রক্ষা করবে, মেনে চলবে এবং দেশের আইন অনুসারে কাজ করবে। শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ প্রতিনিধিসহ এক ডজনেরও বেশি দূতাবাস একটি সম্ভাব্য অভ্যুত্থানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয়ে মিয়ানমারকে অবহিত করে এবং “গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে চলার” আহ্বান জানায়।

এদিকে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চি এবং দেশটির রাষ্ট্রপতি উইন মিনতকে আটক করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল সোমবার ভোরে সেনাবাহিনীর অভিযানে তাদের আটক করা হয়। দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকেও আটক করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্র মায়ো নিউনত সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, অং সান সু চি, রাষ্ট্রপতি উইন মিনত এবং অন্য শীর্ষ নেতাদের সোমবার ভোরে আটক করা হয়েছে। জনগণকে উত্তেজিত না হয়ে আইন অনুসারে প্রতিক্রিয়া দেখানোর আহ্বান জানান তিনি। গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল এনএলডি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। তবে ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তোলে দেশটির সেনাবাহিনী।

এবার সেই অভিযোগেই অভিযান চালিয়ে সু চিসহ এনএলডির শীর্ষ নেতাদের আটক করা হল। গত সপ্তাহে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতারণার’ অভিযোগ নিয়ে মিয়ানমারে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে তার সমাধান না হলে ‘ব্যবস্থা নেওয়ার’ পরিকল্পনা আছে তাদের। এটি কি অভ্যুত্থান হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র ‘সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না’ বলে মন্তব্য করলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এরপর গত শুক্রবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও মিয়ানমারে অবস্থিত পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাস দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে সেনা হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানায়। যদিও পরের দিনই দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে অভ্যুত্থানের আশঙ্কা নাকচ করে বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সংবিধান মেনে আইন অনুযায়ী কাজ করবে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন