সোমবার

২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তীব্র শীতেও মাঠের কাজে যে নারীরা

Paris
Update : মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

ধামইরহাট প্রতিনিধি : নওগাঁর ধামইরহাটে স্মরণকালের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার মধ্যেও পেটের দায়ে কৃষি শ্রমিকরা মাঠে মাঠে পানিতে নেমে বোরো ধান রোপন করছে। শীতের কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবন যেখানে স্থবির হয়ে পড়েছে সেখানে কৃষি শ্রমিকরা অনেক কষ্ট করে কাজ করছে। বর্তমানের উপজেলার ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধান রোপন চলছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে,চলতি ইরি বোরো মওসুমে এবার ধামইরহাট উপজেলায় ১৬ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার অতিক্রম করেছে। গত সোমবার পর্যন্ত এ উপজেলায় ১৬ হাজার ৭শত ৭৫ হেক্টর জমিতে ধান রোপন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষক বোরো ধান চাষ করবে।

গত আমন মওসুমে কৃষকরা ধানের দাম বেশি পাওয়ায় এবার অধিক জমিতে বোরো ধান চাষ করা হচ্ছে। অধিকাংশ জমিতে জিরাশাইল ও কাটারভোগ জাতের ধান রোপন করা হয়েছে। এছাড়া ব্রিধান ৫৮,৮১,৮৬,৮৯ এবং সুগন্ধি গোল্ডেন আতব ধান রোপন করা হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার সর্বত্র প্রচন্ড শৈত্য প্রবাহ চলছে। অধিকাংশ সময় সূর্যের মুখ দেখা যায় না। সোমবার সকালে তাপমাত্রা ছিল সাত থেকে সাড়ে ৭ ডিগ্রী। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে মাঠে মাঠে নারী ও পুরুষ কৃষি শ্রমিকরা পেটের দায়ে কাজ করছে। নারী ও পুরুষ শ্রমিক সমান কাজ করলেও মজুরীর ক্ষেতে নারীদের প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে।

এব্যাপারে ধামইরহাট ইউনিয়নের বেনীদুয়ার মিশনপাড়া গ্রামের আদিবাসী নারী কৃষি শ্রমিক লতিকা মার্ডী অনেকটা অভিযোগের সুরে বলেন,মাঠে আমরা পুরুষের সমান কাজ করলেও নারী হওয়ায় মজুরী কম পাই। পুরুষরা চারশত টাকা পেলে নারীরা পায় তিনশত টাকা। তাছাড়া শুনি সরকারের পক্ষ থেকে অনেক কম্বল (গরম কাপড়) বিতরণ করা এলেও আমাদের ভাগ্যে সেগুলো জুটে না। মানুষ যখন জবুথবু হয়ে পড়েছে তখন প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে পেটের দায়ে আমাদেরকে খোলা মাঠে কাজ করতে হচ্ছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.ইস্রাফিল হোসেন বলেন,দুই দফায় সরকারের পক্ষ থেকে এ উপজেলায় ৫ হাজার ১শত ৩০ পিচ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

আবার চাহিদা পাঠানো হয়েছে। গরম কাপড় আসলে অবশ্যই ক্ষৃদ্র-নৃগোষ্ঠির মাঝে বিতরণ করা হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজা বলেন,গত আমন মওসুমে কৃষকরা ধানের দাম বেশি পেয়ে বোরো ধান চাষে ঝুঁকে পড়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো ধান রোপন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বোরো ধান চাষে কৃষকদের সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris