মঙ্গলবার

২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানোরে ঝলসে দেওয়া হয়েছে ধানগাছের পাতা!

Paris
Update : বুধবার, ১০ মে, ২০২৩

তানোর সংবাদদাতা
রাজশাহীর তানোরে পূর্ব বিরোধের জেরে রোপনকৃত ধানে ঘাষ মারা বিষ দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছেন প্রতিপক্ষ বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার তালন্দ ইউনিয়ন(ইউপির) কালনা গ্রামে ঘটে রয়েছে এমন ঘটনা। রাতের আধারে এমন ভাবে বিষ দেওয়া হয়েছে ধানের পাতা ঝলসে কালো আকার ধারন করেছে। এতে করে জমির মালিক ক্ষোভে আর জমিতে যান নি। এর আগে একই ভাবে আলুর গাছে বিষ প্রয়োগ করে সবকিছু নষ্ট করে দেয়। ফলে একের পর এক ফসলহানির ঘটনায় চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ফসল রোপনকারী গনো।
গত মঙ্গলবার দুপুরের দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, তানোর পৌর এলাকার চাপড়াগ্রাম পার হয়ে তালন্দ ইউপির কালনাগ্রামে প্রবেশের মুখে পাকা রাস্তার উত্তরে থোড় ধান গাছের পাতা মরে কালচে ও ঝলসে অবস্থায় আছে। সেখানে কিছু শ্রমিক রাস্তার গাছের নিচে বসে ছিলেন, তাদের কাছে ধান গাছের পাতার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান, এসব জমি চাপড়াগ্রামের গনোর। ঘাষ মারা বিষ দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। কি কারনে জানতে চাইলে তারা জানান আমরা কিছুই জানিনা। এর আগে আলুর গাছেও বিষ দিয়ে নষ্ট করে দেয়। প্রায় ১০-১২ দিন আগে বিষ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, ধান গাছে এমন ভাবে বিষ দেওয়া হয়েছে শীষ তো দুরে থাক খড়ও পাবে না। ব্যক্তির আক্রোশ ফসলের উপর কেন পড়বে। এক বিঘা আলুর জমিতে ধান রোপন করতে খরচ প্রায় ৬-৭ হাজার টাকা হয়। সময়মত সেচ পানি পাওয়া যায় না, দিনের পর দিন ঘুরে সেচ নিয়ে জমি রোপন করেছেন। পবিত্রা রমজান মাসে প্রচন্ড খরতাপের সময় জমি রোপন করেছিলেন গনো। কিন্ত মাস না যেতেই সব ধান গাছ পুড়িয়ে ফেলেছে। আমরা এমন ঘটনা অতীতে দেখিনি।
বুধবার সকালের দিকে চাপড়া মোড়ে দেখা হয় গনোর সাথে। তিনি জানান, প্রায় তিন বিঘা জমির আলুর গাছে বিষ মেরে নষ্ট করা হয়েছিল। আলুর খরচ পর্যন্ত দুরে থাক প্রচুর লোকসান হয়েছে। আলু তুলে প্রায় পুনে তিন বিঘা জমিতে ধান রোপন করেছি। ধানের এক মাস বয়সের সময় ঘাস মারা বিষ দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। একের পর এক ফসল পুড়িয়ে ফেলছে। কারা এসব করছে জানতে চাইলে তিনি জানান আমার আপন ভাইরা আমিনুল, কি কারনে, তিনি জানান সে নাকি জমি পাবে। যদি জমি পায় তাহলে তো দিতে হবে। তাকে বারবার বলা হচ্ছে কাগজপত্র নিয়ে আসেন দশজন বসে যদি জমি পায় ছেড়ে দিব। সেটা না করে শহর ও বিভিন্ন এলাকা থেকে দলবল এনে রাতের আধারে ফসল পুড়িয়ে ফেলছে এবং বিভিন্ন ভাবে প্রান নাশের হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছেন। এসব নিয়ে কোন অভিযোগ বা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন কি জানতে চাইলে তিনি জানান, কার কাছে অভিযোগ করব, সে প্রভাবশালী, ভয়ে কিছুই বলতে পারিনি।
সে শহরের ছোটবনগ্রাম এলাকায় থাকে। তবে গনোর ভাইরা আমিনুল অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন আমার জমিতে জোরপূর্বক ধান রোপন করে সে পুড়িয়ে আমার উপর দোষ দিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন এঘটনা অজানা, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে। তবে যাই হোক ফসল পুড়িযে নিজেকে বাহাদুর ভাবা ঠিক না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পংকজ চন্দ্র দেবনাথ জানান, ফসল পুড়িয়ে ফেলা অমানুবিক। যারাই এমন ঘটনা ঘটায় তাদের বিবেক আছে কিনা সন্দেহ। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris