বুধবার

২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ

দুর্যোগ ঝুঁকি সংবেদনশীল জনবান্ধব রাজশাহী নগর উন্নয়ন মাস্টারপ্ল্যান

Paris
Update : বুধবার, ১০ মে, ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার
দুর্যোগ ও ঝুঁকি সংবেদনশীল জনবান্ধব রাজশাহী নগর উন্নয়ন মাস্টারপ্ল্যান (২০২২-২০৪১) এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। আগামী ২০ বছরে রাজশাহী নগরীকে আরো পরিকল্পিত, টেকসই, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব, পর্যটনমুখী, শিল্প-ব্যবসা বান্ধব ও স্মার্ট নগরী বিনির্মাণের লক্ষ্যে আরডিএ’র নতুন মাষ্টার প্ল্যানটি বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ এবং নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সফলতার পরিচয় দিয়েছে বলে নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা মত দেন। এদিকে নগরবাসীর অভিমত, রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আরডিএ’র নতুন এ মাস্টার প্ল্যান (২০২২) এবং তার হাত দিয়েই আগামীতে বৈশি^ক জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত নগরায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাসহ সরকারের ভিশন ৪১, ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ এর সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বুয়েট, রুয়েট, রাবিসহ দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞ পরামর্শক টিম গঠন, অত্যাধুনিক ডিজিটাল সার্ভে, ওয়াসা, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, রাসিক সকল কাউন্সিলর ও অন্যান্য স্টেহোল্ডারদের মতামত, সুবিধা-অসুবিধা, উন্নয়ন চাহিদা জেনে ২০২২ এর নতুন মাস্টার প্ল্যানটি তৈরী হয়েছে বলে জানি। ২০০৪ সালের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী আরডিএ’র কিছু কাজ হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম এবং পরিবর্তন করাও দরকার। পুরাতন শহরে নতুন মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পুরোপুরি কাজ করা সম্ভব না। নতুন নতুন আরো আবাসিক-বাণিজ্যিক এলাকা আগামীতে গড়ে উঠছে বা উঠবে, সেগুলোতে প্রশস্থ ও অভ্যন্তরীন সড়ক নির্মানসহ বৈদ্যুতিক লাইন, গ্যাস লাইন, পানির লাইন, ডিস ও নেট লাইনসহ সবগুলো মাটির নিচ দিয়ে সংযোগ থাকে সে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। খেলার মাঠ, ঈদগাহ, লেক কিংবা জলাধার, আরো সবুজ, শিক্ষা ও শিল্প নগরী,পাশাপাশি আধুনিক ও মান সম্মত আগুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকবে। রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসকে আরো আধুনিক মানের করতে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আগামী সিটি নির্বাচনের পর রাসিক এলাকা সম্প্রসারিত করে আরডিএ কিংবা আরএমপি’র এলাকার সমান করতে উদ্যোগ নেয়া হবে। যাতে রাজস্ব আয় যেমন বাড়বে অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘গ্রামে থাকবে শহরের সব সুযোগ-সুবিধা’ সেই লক্ষ্য পূরণে নগরবাসীকে নিয়ে সেভাবে কাজ করছি। সলিড ওয়াষ্ট ম্যানেজমেন্ট দেশের অন্যান্য নগরীর চেয়ে ভাল। ইতোমধ্যে ময়লা আলাদাকরণ, পুণ:ব্যবহারযোগ্য এবং জমির ক্ষতি না হয় এমন পরিবেশ বান্ধব ও লাভজনক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে যা অচিরেই বাস্তবায়ন হবে। রাসিক ও আরডিএ একে অপরকে সহযোগিতার মাধ্যমে সমন্বিতভাবে কাজ করলে রাজশাহী নগরীরর উন্নয়ন কাজ আরো ভালো হবে এবং দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে তিনি মত দেন।
আরডিএ’র চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বলেন, মাষ্টারপ্ল্যানটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ার পর তদানুযায়ী ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এতে নগরবাসীর অনেকেই খুশি এজন্য যে আগের প্ল্যান অনুযায়ী যারা এনওসি পায়নি এখন তারা পাচ্ছে। আবার আবাসিক জোনে না পড়ায় কেউ কেউ অভিযোগ নিয়ে আসছে, এরকম সমস্যাগুলো লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে যাতে মাষ্টার প্ল্যানটিকে রিভাইজ করার সুযোগ থাকলে সেগুলো দেখা হবে। তিনি আরো বলেন, নতুন ২টি আবাসিক এলাকাসহ অত্যাধুনিক মানের একটি বৃহৎ মার্কেট গড়ে তোলার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। স্টেকহোল্ডার হিসেবে সচেতন নগরবাসী, রাসিক ও সরকারের সহযোগীতা পেলে আগামীতে মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
রাসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দীন বলেন, নদীর তীরবর্তী প্রাচীন এ নগরটি বর্তমানে বন্যামুক্ত শহর বলা যায়। ভুমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে রাজশাহী। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব লক্ষনীয়। মাস্টারপ্ল্যানটি থিউরিক্যালি খুবই ভালো। এটি বাস্তবায়ন করতে বর্তমান সময়ের মত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা থাকা দরকার। নগরীর উপশহর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী আবাসিক, কিন্তু সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার, ছোট-বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে উঠলে বসবাসের যোগ্য জায়গা আর থাকে না। সেদিকে কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া দরকার। সফল মেয়র লিটনের প্রচেষ্টায় আবাসিক এলাকাসহ নগরীর সকল রাস্তা, লাইটিং, ওয়াক-ওয়ে ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে যা অভুতপূর্ব বলে জানান। আরডিএ’র একাধীক সুত্র জানায়, ২০২৩ সালের শুরুতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ২০২২-৪১, শিরোনামে মহাপরিকল্পনাটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়, যা রাজধানী ঢাকাকে ভুমিকম্প সহনীয় করে গড়ে তোলাসহ চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ অন্যান্য নগর ও পৌরসভার মহাপরিকল্পনা গ্রহণের জন্যও একটি মাইলফলক।
আরডিএ সুত্র জানায়, ২০১৭ সালে বর্তমান সরকার আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দুর্যোগ ঝুঁকি সহিষ্ণু রাজশাহী নগর উপহার দিতে এবং সরকারের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগের মহাপরিকল্পনাটি হালনাগাদের জন্য প্রস্তাবিত একটি প্রকল্প অনুমোদন করে। এতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৮ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা। মাঝখানে করোনা মহামারির কারণে মাঠ পর্যায়ের কাজের গতি হ্রাস পেলেও প্রায় ৩৬৬ বর্গ কিমি. এলাকা নিয়ে গঠিত রাজশাহী শহর মহাপরিকল্পনাটিতে সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ভূমি ব্যবহার ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এর জন্য দুর্যোগ ঝুঁকি মডেলিং এর মাধ্যমে এবং জিআইএস পদ্ধতিতে গোটা এলাকা সার্ভের পর ২০২২ সালের জুন মাসে মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ শেষ হয়। এ মহাপরিকল্পনাতে প্রথমবারের মত প্রধান ৪টি দুর্যোগ ভুমিকম্প, খরা, বন্যা এবং অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি নিরুপণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। আর এ জন্য প্রকল্প এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ড, পৌরসভা ও ইউনিয়নবাসীর মতামত নেয়া হয়েছে। মহাপরিকল্পনাটির খসড়া গণশুণানীর জন্য দেড় মাস উন্মুক্ত রাখা হয়, মতামত প্রদানের জন্য টেকনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞগণ, উন্নয়ন সংস্থা, সুধি ও সাংবাদিকদের নিয়ে রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামানের সভাপতিত্বে জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, পরিকল্পিত রাজশাহী নগরী গড়ার লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালে ১ম এবং ২০০৪ সালে ২০ বছর মেয়াদী ২য় মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris