এফএনএস
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক দেখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আওয়ামী লীগও চায় একটি ভালো, ত্রুটিমুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন। তবে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে বিএনপি কূটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সংলাপে বিশ্বাস করে না। রাষ্ট্রপতি ও নির্বাচন কমিশনের সংলাপে তারা যায়নি। বিএনপি দূতাবাসে চুপিচুপি আসে, কাউকে জানায় না। আওয়ামী লীগ আমন্ত্রণ পেয়ে এসেছে। সবাইকে জানিয়েই এসেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ কারও নির্দেশনা শোনে না, সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী চলে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- আগামী নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য, সুষ্ঠু ও অবাধ হবে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শেখ হাসিনার সরকার নির্বাচন কমিশনকে সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপি মনের দিক থেকে নির্বাচনে যেতে ইচ্ছুক নয় বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যে দল সংলাপে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ উপেক্ষা করে, এমনকি নির্বাচন কমিশন তাদের (বিএনপি) দুই বার সংলাপে আমন্ত্রণ করেছে। তবে সংলাপের ব্যাপারে বিএনপির বরাবরই একটা অনাগ্রহ রয়েছে। আসলে মনের দিক থেকে বিএনপি নির্বাচনে যেতে ইচ্ছুক নয়। কারণ তারা জানে নির্বাচনে শেখ হাসিনা এবং তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগই আবার ক্ষমতায় আসবে। তাই হেরে যাওয়ার ভয়ে বিএনপি কূটকৌশল অবলম্বন করছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা যে তথ্য পাচ্ছি তাতে বিএনপি ২০১৪-১৫ সালের মতো আবারও আগুনসন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের ওপর ভর করে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা করছে। বিএনপি আন্দোলনের নামে দেশের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যাম্বাসেডরদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আজকে বৈঠকে আসা। আগামী নির্বাচন কেমন হবে এবং বিএনপি নির্বাচনে আসবে কিনা এসব বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। তাছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাতটি দেশের সঙ্গে কথা বলেছি। পাশাপাশি অনেক এক্সচেঞ্জে এজেন্টরা এসেছেন। তাদের সঙ্গে আমাদের অনেক ব্যবসা আছে। এসব নিয়েও আমাদের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী নির্বাচন নিয়ে যা বলছে, এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আপনাদের মতামত কী-এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলেছি, যেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল (গত বুধবার) তার বক্তব্যে বলেছেন-আগামী নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য, সুষ্ঠু ও অবাধ হবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং নির্বাচন কমিশনকে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে আজকে আমাদের বক্তব্যের কোনো ভিন্নতা নেই। তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যা বলেছেন, আমরা তাই প্রতিধ্বনি করেছি। একই সঙ্গে আমরা আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছি।