এফএনএস : করোনা ভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রী, আমলা, চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীসহ ৫ শতাধিক ব্যক্তি টিকা নিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া প্রথম করোনা ভাইরাসের টিকা নেন। এর আগে গত বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভার্চ্যুয়ালি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে প্রথম করোনার টিকা নিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী (আইসিটি) জুনাইদ আহমেদ পলক।
পাশাপাশি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার টিকা নিয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এছাড়াও স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা ভাইরাসের টিকা নেন তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে করোনার (কোভিড-১৯) প্রথম টিকা নেন হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড নেক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. শেখ নুরুল ফাত্তাহ রুমি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রায় ৪শ স্বাস্থ্যকর্মী করোনার টিকা দেওয়া হয়।
পাশাপাশি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১শ ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ৬০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে এ টিকা দেওয়া হয় জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার টিকাদানের পর আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টিকাদান বন্ধ রাখা হবে। এই কয়েক দিন টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ করা হবে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
২৪ ঘণ্টায় নিবন্ধন ১২৫৩ : করোনার টিকা নিতে বাধ্যবাধকতা রয়েছে ডিজিটাল নিবন্ধনের। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর নিবন্ধন শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ‘সুরক্ষা’ প্ল্যাটফর্মে টিকা গ্রহণে ইচ্ছুক মোট এক হাজার ২৫৩ জন নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের পর ডিজিটাল নিবন্ধন প্ল্যাটফর্ম ‘সুরক্ষা’ অ্যাপে অনলাইন নিবন্ধনে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। উন্মুক্ত হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময়ে এক হাজার ২৫৩ জনের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সিস্টেম অ্যানালিস্ট মাসুম বিল্লাহ বলেন, এখন পর্যন্ত ১২৫৩ জনের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। যারা ফ্রন্টলাইনার ক্যাটাগরিভুক্ত এবং যাদের বয়স ৫৫ বা ৫৫ বছরের বেশি এখন শুধু তাদেরই নিবন্ধন হচ্ছে।
যারা ফ্রন্টলাইন পেশায় আছেন এবং ফ্রন্টলাইনার হিসেবে যাদের তথ্য আমাদের কাছে ইতোমধ্যে এসেছে শুধু তাদেরই নিবন্ধন হচ্ছে। এদিকে ফ্রন্টলাইনার হিসেবে টিকা নিতে আগ্রহীদের তালিকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো হয় বলে জানান এই কর্মকর্তা। নিবন্ধন সফল হওয়া ব্যক্তিদের সবার বয়স ১৮ বছর বা তার চেয়ে বেশি বলে নিশ্চিত করেছে আইসিটি বিভাগ। নিবন্ধন পাওয়া আগ্রহীদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি পেশাজীবীও রয়েছেন। তবে তাদের বয়সসীমা, কর্মস্থল এবং ভৌগলিক অবস্থান আরো কিছু সময় পরে জানানো হবে বলে আইসিটি থেকে বলা হয়।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে টিকা নেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। অনলাইন নিবন্ধন নিয়ে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, এই সুরক্ষা প্ল্যাটফর্ম আমাদেরই মেধাবী তরুণরা তৈরি করেছে। এর সকব তথ্য জমা হচ্ছে ন্যাশনাল ডাটা সেন্টারে। কাজেই সব তথ্য আমাদের কাছেই থাকছে। আমি নিজেও অনলাইনে নিবন্ধন করে টিকা নিয়েছি। আপনারা দেখেছেন যে, টিকা নেওয়ার আগে আমার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে যাচাই করা হয়েছে। আমি সবাইকে অনুরোধ জানাবো যেন সবাই এখানে নিবন্ধন করেন। নিবন্ধন হলে টিকা কার্যক্রম আরো সহজতর হবে।