সোমবার

২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চারঘাটের গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে আমের মুকুল

Paris
Update : সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১

একে আজাদ (সনি), চারঘাট : ফাল্গুন এখনও আসেনি, শীতও শেষ হয়নি। এ বছর মাঘ মাসের শুরু থেকেই আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে রাজশাহী চারঘাট-বাঘার আমগাছে। পৌষের শেষেই আগাম এই মুকুলে আম চাষিদের মনে আশার প্রদীপ জ্বলে উঠেছে। আম গাছ ও মুকুলের পরিচর্যায় ব্যস্ত এ অঞ্চলের আমচাষীরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বেশ কিছু এলাকার আম বাগানে এখন আগাম আমের মুকুল শোভা পাচ্ছে। মুকুলের পরিমাণ কিছুটা কম হলেও ইতোমধ্যে মালিকরা পরিচর্যা শুরু করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চারঘাট-বাঘা দুটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আম গাছে আগাম মুকুল শোভা পাচ্ছে। আমের মুকুলে এখন মৌমাছির গুঞ্জন। মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ যেন জাদুর মতো কাছে টানছে তাদের। গাছের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় তাই চলছে ভ্রমরের গুন গুন সুরের ব্যাঞ্জনা। শীতের স্নিগ্ধতার মধ্যেই শোভা ছড়াচ্ছে স্বর্ণালী মুকুল।

আম গাছের মালিকরা জানান, আগাম মুকুল দেখার পর থেকে মনটা ভালোই লাগছে। এ মুকুল টিকে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে। তবে আগাম মুকুল দেখে আম চাষীরা অনেকে খুশি হলেও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, শীত বিদায় নেয়ার আগেই আমের মুকুল আসা ভাল নয়। এখন ঘন কুয়াশা পড়লে গাছে আগেভাগে আসা মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা ফলনেও প্রভাব ফেলবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার প্রায় ৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এসব আম বাগানে নির্ধারিত সময়ের আগেই আবহাওয়াগত ও জাতের কারণেই মূলত আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। প্রতি বছরই কিছু আমগাছে আগাম মুকুল আসে। এবারও আসতে শুরু করেছে। ঘন কুয়াশার কবলে না পড়লে এসব গাছে আগাম ফলন পাওয়া যায়। আর আবহাওয়া বৈরী হলে কিছুটা ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নিয়ম মেনে শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসবে সেসব গাছে মুকুল স্থায়ী হবে।

এ দিকে উপজেলার কালূহাটি, নন্দনগাছী, নিমপাড়া, শলুয়া, পরানপুর, রাওথা, তালবাড়িয়া, কাকরামারী, ইউসুফপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগাম মুকুল আসা বাগান গুলোতে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক স্প্রে করছেন চাষী ও ব্যবসায়ীরা। যাতে করে বৈরী আবাহাওয়ার আঘাত আসলেও আমের মুকুলের কোন ধরণের ক্ষতি করতে না পারে।

উপজেলা জুড়েই এখন বাগানে বাগানে চলছে মুকুল পরিচর্যার কাজ। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চলছে বাগান পরিচর্যা। উপজেলার কালুহাটি গ্রামের আম চাষী বাহাদুর রহমান বলেন, আমগাছে আগাম মুকুল বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করছে। আগাম গাছে মুকুল আসায় চাষীরা চরম খুশি। তবে বৈরী আবহাওয়া আঘাত না হানলে আমের বাম্পার ফলন আশা করা যায়।

উপজেলার কাঁকরামারী এলাকার আম চাষী মুজিবুর রহমান বলেন, আগাম মুকুলে যাতে করে কোন ধরণের কীট পতঙ্গ আঘাত করতে না পারে সেজন্য এখন বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার চাষী ও ব্যবসায়ীরা। তবে আগাম মুকুল দেখে ধারনা করা হচ্ছে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার লুৎফুন নাহার বলেন, বেশ কিছু এলাকার আম বাগানে আগাম মুকুল দেখা দিয়েছে।

অল্প কিছুদিনের মধ্যে হয়ত সব গাছেই মুল ফুটে উঠবে। আবহাওয়া পরিবর্তন অর্থাৎ যে আবহাওয়াটা মুকুল হওয়ার জন্য দরকার সেটা আগেই পেয়েছে সেজন্য আগাম মুকুল এসেছে। এছাড়া আগাম জাতের গাছেও আগাম মুকুল আসে। আর বৈরী আবহাওয়ার কবলে না পড়লে আগাম মুকুলের ক্ষতির কোন সম্ভাবনা নেই।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris