বুধবার

২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ

আবদুল গাফফার চৌধুরী আর নেই

Paris
Update : শুক্রবার, ২০ মে, ২০২২

এফএনএস : ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের রচয়িতা বিশিষ্ট সাংবাদিক, গীতিকার, কলামিস্ট ও সাহিত্যিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী আর নেই। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়ার চৌধুরীবাড়ি জন্মগ্রহণ করেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। তার বাবা হাজি ওয়াহিদ রেজা চৌধুরী ও মা জহুরা খাতুন। ১৯৫০ সালে গাফ্ফার চৌধুরী পরিপূর্ণভাবে কর্মজীবন শুরু করেন। এ সময় তিনি ‘দৈনিক ইনসাফ’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। মহিউদ্দিন আহমদ ও কাজী আফসার উদ্দিন আহমদ তখন ‘দৈনিক ইনসাফ’ পরিচালনা করতেন।

১৯৫১ সালে ‘দৈনিক সংবাদ’ প্রকাশ হলে গাফ্ফার চৌধুরী সেখানে অনুবাদকের কাজ নেন। এরপর তিনি বহু পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন। মাসিক সওগাত, দিলরুবা, মেঘনা, ইত্তেফাক, আজাদ, জেহাদ ও পূর্বদেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন বরেণ্য এই সাংবাদিক। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সপরিবারে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আগরতলা হয়ে কলকাতা পৌঁছান। সেখানে মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র সাপ্তাহিক জয়বাংলায় লেখালেখি করেন। এ সময় তিনি কলকাতায় দৈনিক আনন্দবাজার ও যুগান্তর পত্রিকায় কলামিস্ট হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দৈনিক জনপদ বের করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলজিয়ার্সে ৭২ জাঁতি জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে যান।

দেশে ফেরার পর তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে কলকাতা নিয়ে যান। সেখানে সুস্থ না হওয়ায় তাকে নিয়ে ১৯৭৪ সালের অক্টোবরে লন্ডনে যান। এরপর তার প্রবাসজীবনের ইতিহাস শুরু হয়। সাংবাদিকতার পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, স্মৃতিকথা, ছোটদের উপন্যাসও লিখেছেন তিনি। ‘চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’, ‘সম্রাটের ছবি’, ‘ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা’, ‘বাঙালি না বাংলাদেশী’সহ তার প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় ৩০। এ ছাড়া তিনি কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ নাটক লিখেছেন। এর মধ্যে আছে ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’, ‘একজন তাহমিনা’ ও ‘রক্তাক্ত আগস্ট’। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন গাফ্ফার চৌধুরী।

১৯৬৩ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার পান তিনি। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি পদক, একুশে পদক, শেরেবাংলা পদক, বঙ্গবন্ধু পদকসহ আরও অনেক পদকে ভূষিত হয়েছেন। এদিকে মেয়ের মৃত্যুর পাঁচ সপ্তাহের মাথায় চিরঘুমের গন্তব্যে পাড়ি দেওয়া বাংলাদেশের বরেণ্য সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর জানাজা আজ শুক্রবার লন্ডনের ব্রিকলেনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক গতকাল বৃহস্পতিবার (সকাল সাড়ে দশটায় জানান, যদি ডেথ সার্টিফিকেটসহ হাসপাতাল ও ফিউনারেল সংক্রান্ত সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় এবং ওঁর সন্তানদের সিদ্ধান্ত পেলে শুক্রবার জুম্মার নামাজ বা বাদ আসর ব্রিকলেন মসজিদে আবদুল গাফফার চৌধুরীর জানাজা ও দাফন হতে পারে।

গাফফার চৌধুরীর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠজন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ বলেন, সবশেষ ওঁর মেয়ে বিনুর মৃত্যুর পরও লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের বাসায় গাফ্ফার চৌধুরীর সঙ্গে দেখা হয়েছে। মেয়ে বিনীতা চৌধুরী বিনুকে হারিয়ে বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমেদ খান জানান, বিনু ছিলেন গাফ্ফার চৌধুরীর পিতৃভক্ত কন্যা। বিনুই বাবার সঙ্গে থেকে তার দেখভাল করতেন। বিনুকে হারিয়ে একেবারেই মুষড়ে পড়েছিলেন তিনি। ৮৭ বছর বয়সী গাফফার চৌধুরী ১৯৭৪ সালের অক্টোবর থেকে ব্রিটেনে বসবাস করছিলেন। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে যাওয়া-আসার মধ্যে ছিলেন। গাফ্ফার চৌধুরীর মৃত্যুতে ইউকে বাংলা প্রেস ক্লাব সভাপতি কে এম আবু তাহের চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুনজের আহমদ চৌধুরী গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, তার মৃত্যুতে বাংলা সাংবাদিকতা এক দিকপালকে হারাল।

মেয়রের শোক
প্রেস বিজ্ঞপ্তি : বর্ষীয়ান লেখক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। শোক বার্তায় রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বর্ষীয়ান লেখক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি-এর রচয়িতা। স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারে মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক জয় বাংলার’ প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন তিনি।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, স্মৃতিকথা, ছোটদের উপন্যাসও লিখেছেন তিনি। পেশাগত কাজে সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক, ইউনেস্কো পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মানিক মিয়া পদকসহ দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পদক ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। সাংবাদিকতা ও সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। তিনি তাঁর কর্মের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। শোক বার্তায় রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris