বুধবার

২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ

গোমস্তাপুরে বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি সংকট কাটাতে পাতকুয়ার ব্যবহার

Paris
Update : সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২২

গোমস্তাপুর সংবাদদাতা : বিনাখরচে পাতকুয়ার মাধ্যমে সেচের সুবিধা পাচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের হাজার হাজার চাষী। ফলে স্বল্প সেচের মাধ্যমে ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে চাষীদের আস্থার জায়গায় রূপান্তরিত হয়েছে পাতকুয়া। সংশ্লিষ্টরা বলছেন- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রতিনিয়ত পানির স্তর নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের চাষিরা।

এ অঞ্চলের কৃষি ও সুপেয় পানির নির্ভরযোগ্য আধার ছিল পাতকুয়া। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাবমার্সিবল পাম্প, গভীর নলকূপসহ নানা প্রযুক্তির কাছে হারিয়ে যায় পাতকুয়া। দীর্ঘদিন পর আবারও কৃষি কাজসহ অন্যান্য কাজের জন্য পাতকুয়ার প্রয়োজন অনুভব করছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। এতে করে বরেন্দ্র আঞ্চলে সেচ কাজসহ বহুমুখি কাজে ব্যবহার শুরু হয়েছে পাতকুয়ার।

বিএমডিএ অফিস সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তপুর উপজেলার ২১টি পাতকুয়া রয়েছে। তার মধ্যে সচল রয়েছে ১৭টি পাতকুয়া। কৃষক ও প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা বলছেন, পাতকুয়ার ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবনমান পাল্টে গেছে। পাথরকূজা গ্রামের উপকারভোগী কৃষক মাহবুব আলী বলেন, গত মৌসুমে জমিতে তিনি সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে ফসলে সেচ দেয়ায় পানির সমস্যার সমাধান হয়েছে। এখন জমিতে বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, লাউ, মরিচ চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, টমেটো, আলু চাষের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে।

সম্পূর্ণ বিনা খরচে হওয়ায় মাহবুব আলীর মতো অনেক চাষী খুশি। একই উপজেলার আরেক কৃষক রহিম আলী বলেন, পাতকুয়াগুলো সূর্যশক্তিতে চলার কারণে বিদ্যুৎ বা ডিজেল ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। জলবায়ুর তেমন কোন ক্ষতি হয়না। এছাড়া ইচ্ছে মতো পানি তোলা যায়। আরো একজন কৃষক জাব্বার আলী জানান, গত রবি মৌসুমে অন্য কৃষকদের পাশাপাশি তিনি নিজেও ৫ বিঘা জমিতে সবজির আবাদ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। সেইসঙ্গে অন্যরাও এর মাধ্যমে সবজি চাষে লাভবান হচ্ছে।

বিএমডিএর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোখলেশুর রহমান বলেন, পাতকুয়া খননের মাধ্যমে বরেন্দ্র এলাকায় স্বল্পসেচে ফসল উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় পাতকুয়া নির্মাণ করা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বিএমডিএ। ২০২০ ও ২০২১ সালে এগুলো নিমার্ণ শেষ হলেও এর কার্যকারিতা অব্যাহত রয়েছে। আর এসব পাতকুয়ার মাধ্যমে সুবিধাভোগ করছেন হাজার হাজার জন।

পাতকুয়ার মাধ্যমে স্বল্পসেচের বিভিন্ন ফসল চাষে বিনামূল্যে সেচ সুবিধা পাওয়ায় উপকৃত হচ্ছে এসব উপজেলার হাজারো প্রান্তিক কৃষক। তিনি আরো বলেন, পাতকুয়ার সুবিধা হল- এখানে কোনো কৃষকের কাছ থেকে পানি খরচ নেওয়া হয় না। শুষ্ক মৌসুমে এটা খুবই কার্যকরী। কৃষকবান্ধব সরকার কৃষকের জন্য নিত্য-নতুন সেচের ব্যবস্থা করে যাচ্ছেন। পাতকুয়ার ব্যবহার নিয়ে বর্তমানে এলাকার কৃষকদের মাঝে বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এগুলোর যথোপযুক্ত ব্যবহার হবে বলেও আমরা যথেষ্ট আশাবাদি।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris