স্টাফ রিপোর্টার : ঈদুল ফিৎ্র-এর কেনাকাটার রমজানের শেষ দশকে পোশাকের পাশাপাশি বিশেষ স্থান দখল করে আছে পবিত্রতার প্রতিক আতর, সুরমা ও টুপি। তাই সাধারণ সময়ের চেয়ে শনিবার এসবের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত। আর ক্রেতাদের পছন্দের সুগন্ধি সরবরাহ করতে বিক্রেতাদের ব্যস্ততাও বেড়েছে অনেক বেশি। যে কারণে এ তিনটি পণ্যের কদরও বেড়েছে কয়েকগুণ। আর মহানগরীর বাজারগুলো দেখলে মনেই হবেনা দেশে কোন করোনার আক্রমণ চলমান রয়েছে। তারপরেও বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানার যেন কোন বালাই নেই।
বর্তমানে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সরকারিভাবে সার্বক্ষনিক বিশেষ করে বাজারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন তদারকি না থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রেও উদাসিনতা দেখা যাচ্ছে।
ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রমজানের শেষ দশকে অধিকাংশ ক্রেতা পোশাক পরিচ্ছদ কেনার পর্ব শেষ করছেন। তবে লেডিস কর্নারগুলোতে মহিলা ক্রেতাদেরও ভীড় ছিল লক্ষনীয়। করোনার ক্রান্তিকাল পার করায় এ বছর ঈদকে ঘিরে ছোট-বড় সকল শ্রেণীর মানুষের মাঝে বইতে শুরু করেছে আনন্দের জোয়ার। শেষ সময়ে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন শপিংমলগুলোতে শুরু হয়েছে কেনা কাটার ধুম।
রাজশাহী মহানগরীর অন্যান্য দোকানগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে ব্যস্ততা। তবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই সকাল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত চলে তাদের বেচাকেনা। তবে ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ক্রেতার সংখ্যা আরো বাড়ছে। কিন্তু দেশি ও বিদেশী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসব আতর কতটুকু স্বাস্থ্য সম্মত সে বিষয়ে ক্রেতা বা বিক্রেতাদের কোন নজরই নেই। আর করোনার কারণে আটকে থাকা আতরগুলো এবার বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গত দুই বছর ধরে আটকে থাকা আতর ঈদের আগেই শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছি।
তবে এসব আতরের মেয়াদ না থাকার বিষয়ে দোকানীরা বলেন, আতরের মেয়াদ কখনোই শেষ হয়না। আর দুই বছর আটকে থাকা তো কোন ঘটনাই না। কিন্তু ক্রেতাদের ভাষ্য, এবার অধিকাংশ আতরের ক্ষেত্রেই ব্যাপক ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। তারা বলেন, বর্তমান বাজারে যেসব আতর পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো পোশাকে লাগালে দাগ হয়ে যাচ্ছে। ফলে সন্দেহ হচ্ছে এসব আতরের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে আতর ঘরসহ মহানগরীর হড়গ্রাম বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ক্রেতাদের অভিযোগ আজীবনই থাকবে। বেশির ভাগই ক্রেতা মান সম্পন্ন পন্য ব্যবহারে উৎসাহী নয়। তারা শুধু দামের দিকটাই দেখে, মানের দিকে নয়। যে কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। তবে যারা দামি আতর কিনছেন তাদের আতর থেকে দাগ হওয়ায় কথা নয়। আর ওইসব ক্রেতার ক্ষেত্রে আতরের দাম বাড়লেও কোন আপত্তি করছেন না। লক্ষীপুর ভাটাপাড়া এলাকার দোকানী ঈমামুল বলেন, ক্রেতাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে সৌদি আতর।
সৌদি আতরের মধ্যে রয়েছে- সুলতান, সিলভার, রর্ডস, সফট, দালাল, এ্যারোসা, আল-ফারিস, বাখুর। প্রতি বোতল আতর বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে চারশ’ টাকা পযর্ন্ত। ইন্ডিয়ার আতরের মধ্যে রয়েছে- মজমা, জেসমীন, ফেন্সি বুকেট, সালমা, ফান্টাসিয়া, ভিকি। এ আতর প্রতি আউন্স বিক্রি হচ্ছে দুইশ’ থেকে তিনশ’ টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে দেশীয় আতর। এর মধ্যে- শাহী দরবার, কাঁচা বেলী, ফাওয়াকী, মদীনা, সিকে অন সায়মা, ব্লাক স্টোন, বকুল, মুসকে আম্বার, গোলাপ, কোবরা, লীলা, গোলে লায়লা, ম্যাগনেট ইত্যাদি।