এফএনএস : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সুস্থ হওয়ার মাধ্যমে বিএনপি যে মিথ্যাচার করে সেটি প্রমাণিত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে টিভি ক্যাবল অপারেটর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরছেন, এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেগম জিয়া সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার যে সংবাদ এসেছে এজন্য স্বস্তি প্রকাশ করছি ও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন ঘরে ফিরে যান।
তিনি বলেন, বিএনপি যে তার স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনীতি করেছে, বেগম জিয়ার সুস্থতার মাধ্যমে এটিই প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে তারা। চিকিৎসকদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে। বলেছে বেগম জিয়াকে যদি বিদেশে নেওয়া না হয় তাহলে তার যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই যে কথাগুলো বলেছিলো, বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে তারা যে অপরাজনীতি করেছে এটিই আজকে প্রমাণিত। তিনি আরও বলেন, এর আগেও তারা একই কাজ করেছিল। আগেও যখন খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তখনও একই কথা বলেছিলেন।
বিদেশ না নিলে তাকে বাঁচানো সম্ভব না, এবারও একই কথা বলেছিল। এই বিএনপি মিথ্যাচার করে, এটিই প্রমাণিত হলো বেগম জিয়ার সুস্থ হওয়ার মাধ্যমে। সম্প্রচার মাধ্যম ডিজিটাল করতে আগামী ১ এপ্রিল থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে সেট টপ বক্স কার্যকরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রচার মাধ্যম ডিজিটাল করতে আমরা যে উদ্যোগ নিয়েছি সেটা বাস্তবায়ন করতে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আপনারা জানেন এ ব্যাপারে একটি মামলা হয়েছিল। ডিজিটালাইজড করতে না পারার কারণে এই মাধ্যমের সঙ্গে যারা যুক্ত তারা যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন একই সঙ্গে দেশও বঞ্চিত হচ্ছে।
সরকার যে ভ্যাট ট্যাক্স এ খাত থেকে পায় সেটি সঠিকভাবে আদায় হয় না। এটি বছরে প্রায় দেড় থেকে হাজার কোটি টাকার কম নয়। এজন্য আমরা গ্রাহককে আরও ভালো সেবা দেওয়ার জন্য, এ সেবা দেওয়ার পেছনে যারা আছে তারাও যাতে তাদের ন্যায্য হিস্যাটা পায় এবং রাষ্ট্র যাতে বঞ্চিত না হয় এজন্যই এটিকে আমরা ডিজিটালাইজড করতে চাই। আজ আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আপনারা জানেন যে এ উদ্যোগ নেওয়ার পর একটি মামলা হয়েছিল হাইকোর্টে। আমাদের উদ্যোগের ওপর একটি স্থগিতাদেশ এসেছিল। সেটি আমরা মন্ত্রণালয় থেকে ফেইস করেছি, আদেশটা স্থগিত হয়েছে।
অর্থাৎ এখন ডিজিটালাইজড করার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। তিনি বলেন, আমরা একটি টাইম ফ্রেম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আলোচনায় বসেছি। যে আলোচনাটা হয়েছে সেটি হচ্ছে, আমরা গ্রাহককে দুই মাস সময় দিয়েছি, অর্থাৎ আজ (গতকাল মঙ্গলবার) হলো ১ ফেব্রুয়ারি, ঢাকা এবং চট্টগ্রামে ৩১ মার্চের মধ্যে সব গ্রাহককে ডিজিটাল সেট টপ বক্স গ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। ১ এপ্রিল থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে যাতে আমরা সেট টপ বক্স সবাইকে দিতে পারি সে লক্ষ্য ঠিক করে সবাই কাজ করবো।
ড. হাছান জানান, আরও দুই মাস সময় দিয়ে ৩০ মে’র মধ্যে সব বিভাগীয় ও মেট্রোপলিটন শহরে একই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এসময় তথ্যসচিব মো. মকবুল হোসেন, বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (এটকো) সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।