রবিবার

৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
৪০ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ৮ দেশের ১৬ মার্কিন স্থাপনা ধ্বংস করেছে ইরান রাজশাহীর জলাবদ্ধতা রোধে এক্সাভেটর দ্বারা ড্রেনের কাদা অপসারণ তোমরা প্রত্যেকেই দেশের অ্যাম্বাসেডর : প্রধানমন্ত্রী রাসিকের রাজস্ব কর্মকর্তার নিজ বাসভবনে দোয়ার অনুষ্ঠান নগরীর বাইতুল মামুর জামে মসজিদের উন্নয়নে ৫ লাখ টাকার অনুদান দিলেন রাসিক প্রশাসক মোহনপুরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ একমন ধান বিক্রি করে হচ্ছে না একজন শ্রমিকের মুজুরি মহান মে দিবস উপলক্ষে রাসিক প্রশাসকের বাণী নাচোলে রেলওয়ের গোডাউনের যায়গা লিজ নিয়ে মালামাল লুটের অভিযোগ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে রাসিক প্রশাসক

পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন চলছে কারসাজি চক্রের ইশারায়

Paris
Update : বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১

এফএনএস : স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ধুঁকে ধুঁকে মরছে। দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের অর্থের যোগানদাতা দেশের পুঁজিবাজার নিজস্ব শক্তিমত্তা নিয়ে আজো গড়ে উঠতে পারেনি। সবক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুঃশাসন দমন করার মতো প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি নিয়ে গড়েই উঠতে পারেনি দেশের এই বাজার। উন্নত থেকে শুরু করে উদীয়মান- সব পুঁজিবাজারেই উত্থান-পতন হয়। এক বছর উত্থান হয় তো পরের বছরই পতন। এক শেয়ারের দাম বাড়ে তো আরেক শেয়ারের দাম কমে।

আসলে এটি নির্ভর করে কোম্পানির পরিচালন দক্ষতা ও মুনাফার ওপর। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি কেতাবি নিয়ম। কারসাজিই এই বাজারের শেয়ারের দাম উত্থান-পতনের মূল কারণ। কারসাজির কারণে ভালো কোম্পানির শেয়ারের দাম তলানিতে থাকে আর মন্দ কোম্পানির শেয়ার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাজারকে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিতে হবে। আর বিভিন্ন সময়ে যারা কারসাজিতে যুক্ত তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সূত্র জানায়, কারসাজি চক্রের ফাঁদে পড়ে মুনাফার আশায় লগ্নি করা বিনিয়োগকারীরা মূল পুঁজি হারাতে বসেছেন। গুটিকয় স্বার্থান্বেষী তাদের টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে। গত দেড় বছরে হাতেগোনা কয়েকটি চক্র নিজেরা কেনাবেচা করে ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করতে নানা গুজব ছড়িয়ে দর বাড়িয়েছিল। এর কেন্দ্রে একজন সরকারি কর্মকর্তা। সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও প্রলুব্ধ হয়ে যখন শেয়ার কিনেছেন এবং দর বেড়েছে, তখন ওই চক্র তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে। ফলে ক্রমাগত দর হারাচ্ছে শেয়ারগুলো।

বাজার সূত্রে জানা যায়, এ চক্রটি বীমা কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ানোর মধ্য দিয়ে গত বছর জুলাইয়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের আলোড়ন তৈরি করেছিল। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হন। পরে সাধারণ ছোট মূলধনি ও কম বাজারদরি অন্য অনেক শেয়ারের দর বাড়িয়ে মুনাফা নিয়ে সটকেও পড়েছে। কিছুদিন আগে এ চক্রের হাতে পড়ে ওয়ান ব্যাংকের শেয়ারের দর মাত্র তিন সপ্তাহে ১২ টাকা থেকে ২০ টাকা ছাড়িয়েছিল। চক্রটি মুনাফা নিয়ে বের হওয়ায় যেভাবে শেয়ারটির দর বেড়েছিল, ঠিক সেভাবে দাম কমে আগের জায়গায় ফিরেছে।

এর আগে ১০ টাকা দরের এনআরবিসির মতো নতুন ব্যাংকের শেয়ারদরও ৪০ টাকায় তুলেছিল। গত নভেম্বরের শুরুতেও শেয়ারটির দর ৪০ টাকা ছিল; এখন যা ২৫ টাকায়। এ চক্রের হাতে এখনও ফরচুন শুজ, জেনেক্স ইনফোসিস, ডেল্টা লাইফ, সোনালী পেপারের শেয়ার রয়েছে। এখন এসব শেয়ারই নিজেরা সার্কুলার ট্রেড করে শেয়ার লেনদেন বাড়িয়ে রেখেছে। যেকোন বিষয়ে অনিয়ম হলে এর বিপরীতে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিচার কার্যক্রম দ্রুত শেষ হবে- এমন প্রত্যাশা সবারই থাকে। বিশেষ করে পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানি কিংবা পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট যে কারো বিরুদ্ধে কারসাজি কিংবা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠলে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান করা নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দায়িত্ব্য।

কারণ এতে কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সঙ্গে সঙ্গে লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর ভাগ্য জড়িত। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন যে বিষয়টি, তা হলো বাজার তথা নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থার বিষয়টি। যদি বিনিয়োগকারীরা বাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে, তবে তা বাজারের অস্থিতিশীলতার মূল নিয়ামক হয়ে ওঠতে পারে। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিতে তদন্তের নামে কালক্ষেপন একটি নিত্য-নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থ্যাৎ তদন্ত শব্দটি নতুনরুপে ‘ত-দ-ন্ত’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আর যার অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে, পুঁজিবাজারে অনিয়মে বিপরীতে গঠিত কমিটির তদন্ত কার্যক্রম। আর এ কারণেই কারসাজি কিংবা আইন লঙ্ঘণ করে কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের হাড়ি বোঝাই করলেও বরাবর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা। এতে বাজারে আস্থার সঙ্কটেরও সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris