২৬ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi
শিরোনাম
ফুটপাত দখলমুক্তর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পুর্নবাসনের উদ্যোগ রাসিকেরভূমিমন্ত্রী মিনুকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি২৬ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষকদের পাকাধান কাটার জরুরি আহ্বানচাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ছাড়াই মামলা নেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে : আইজিপিবাংলার জাতীয় খেলা হা-ডুডুকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা হবে : এমপি মিলনপ্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে স্বাক্ষরিত হতে পারে কয়েকটি সমঝোতা স্মারকপ্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে স্বাক্ষরিত হতে পারে কয়েকটি সমঝোতা স্মারকলোকসান-সঙ্কটের অজুহাতে বেসরকারি ব্যবস্থায় দেয়া হচ্ছে আরো অর্ধডজন ট্রেন

বিলুপ্তির পথেগ্রাম বাংলার ঐতিহ্য লালপুরের চাকা শিল্প

প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর ২০২১, ৬:২২ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অর্থনীতি
বিলুপ্তির পথেগ্রাম বাংলার ঐতিহ্য লালপুরের চাকা শিল্প
বিজ্ঞাপন

শাহ্ আলম সেলিম, লালপুর : কালের পরিবর্তনে ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য লালপুরের চাকা শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। উপজেলার পলিদেহা, সাদিপুর, ফুলবাড়ী,গৌরীপুর ও আড়মবাড়ীয়া এলাকায় হাতুড়ী, বাটালের খট, খট শব্দে আর ক্রেতাদের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে থাকতো এই এলাকা।এসব এলাকার চাকা শিল্প এখন বিপর্যয়ের মুখে।চাকা তৈরির কারিগররা ও ব্যবসায়ীরা হতাশার মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বহন করতো গরু, মহিষ ও ঘোড়া গাড়ী।এসব পরিবহনে ব্যবহার করতো কাঠের তৈরি চাকা।

সে সময় প্রধান যানবহন ছিলো গরু,মহিষ ও ঘোড়া গাড়ী। বর্তমান ইঞ্জিন চালিত পাওয়ার ট্রলি, নসিমন, করিমন, ভটভটি, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার সহ বিভিন্ন যানবাহন বাজার দখল করে নিয়েছে। কৃষি কাজ, মালামাল বহন সহ বিয়েতে এসব পরিবহন ব্যবহারিত হচ্ছে। এসব পরিবহনের কারণে গরু, মহিষের গাড়ীর চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে,আর ঘোড়া গাড়ী তো চোখেই পড়ে না।ইঞ্জিন চালিত পাওয়ার ট্রলি, নসিমন, করিমন, ভটভটি, মাইক্রোবাস সহ প্রাইভেটকারে ব্যবহারিত হয় টায়ারের চাকা।

আর গরু, মহিষ আর ঘোড়া গাড়ীতে ব্যবহারিত হয় কাঠের তৈরি চাকা।চাকা তৈরির কাঠ, উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি ও চাহিদার হ্রাস সহ তৈরি চাকার ন্যায্য মূল্য না থাকায় ঐতিহ্যবাহী লালপুরের চাকা শিল্প দিন দিন বিলুপ্তির পথে।এছাড়া আজ থেকে ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে ওই সব এলাকায় ৫শ কারখানা প্রায় ৫হাজার কারিগর চাকা তৈরির কাজে নিয়োজিত ছিলেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে অনেক নিজেদের বাপ-দাদার এই পেশা ছেড়ে জীবিকার জন্য বিভিন্ন পেশায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।এখন মাত্র ১০টি চাকা তৈরির কারখানা রয়েছে।আগে কারিগরদের নিপুণ হাতে তৈরি হতো চাকা।

আর এই অঞ্চলের চাকা নাটোর, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, গাজীপুর, কাপাসিয়া, ভৈরব সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় লালপুরের চাকার অনেক কদর ছিলো। পুরোনো দিনের বাংলা সিনেমায় নায়ক গান গাইতো, আমার গরুর গাড়ীতে বউ সাজিয়ে, যাবো তোমার শশুর বাড়ি নিয়ে। আর নায়িকা গাইতো, তোমার ভাঙ্গা গাড়ীতে আমি যাবোনা, কারো ঘরের ঘরনি আমি হবোনা।

করবো না তো কোন দিনও বিয়ে। এছাড়া অগ্রাহন মাসে ধান কেটে গরু অথবা মহিষের গাড়ী করে নিয়ে বাড়ী ফেরার পথে গারুয়ান দারাজ কন্ঠে ভাটিয়ালি গান গাইতো।এসব পুরোনো দিনের বাংলা সিনেমার গানের সাথে সাথে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য চাকা শিল্প। এবিষয়ে চাকা তৈরির কারিগর শ্রী সমর সরকার বলেন, পাওয়ার ট্রলি ও নসিমনের কারণে আগেরমত আর কাঠের তৈরি চাকার কদর নেই। ৫শ টিরমত চাকা তৈরির কারখানা ছিলো,এর মধ্যে বর্তমানে ৮ থেকে ১০টি কারখানা আছে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন