চারঘাট প্রতিনিধি : রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েও স্বস্তিতে নেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। নির্বাচনী মাঠে বিএনপির প্রার্থীরা না থাকলেও দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছেন তাদের। মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে চারঘাটের ৬ ইউনিয়নে ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন অন্তত ৮ বিদ্রোহী প্রার্থী। দল থেকে বহিস্কারের মতো কঠোর হুঁশিয়ারিতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরতে নারাজ তারা।
এদিকে, একই দলের একাধিক প্রার্থী নির্বাচন করায় দলের অনুসারী ও ভোটারদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের কেউ কেউ বিদ্রোহীদের পক্ষে মাঠে সরব থাকায় বিব্রত হচ্ছেন দলের জ্যেষ্ঠ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। বিদ্রোহীদের সরাতে বা নিস্ক্রিয় করতে প্রতিটি ইউনিয়নে গিয়ে বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন তারা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে সরদহ ইউনিয়ন ও সদর ইউনিয়নে আ’লীগের একক প্রার্থী থাকলেও বাকি চারটি ইউনিয়নে মাঠে রয়েছেন আটজন বিদ্রোহী প্রার্থী। আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু না হলেও সোমবার প্রার্থীতা যাচাই-বাছাইয়ে টিকে যাবার পর থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়া শুরু করেছেন এসব বিদ্রোহী প্রার্থীরা। বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন- উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নে নৌকা পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান শফিউল আলম রতন। বিদ্রোহী হিসাবে মাঠে আছেন উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম মাখন ও স্থানীয় আ’লীগ নেতা রেজাউল করিম।
শলুয়া ইউনিয়নে নৌকা পেয়েছেন উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। তাঁর বিদ্রোহী হিসাবে মাঠে রয়েছেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন-সম্পাদক প্রকৌশলী নয়ন ও আব্দুল গাফফার। ভায়লক্ষীপুর ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি আব্দুল মজিদ। বিদ্রোহী হিসাবে আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান শওকত আলী বুলবুল। এদিকে নিমপাড়া ইউনিয়নে নৌকা পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান। তাঁর বিদ্রোহী হিসাবে মাঠে আছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন আলী, জেলা যুবলীগ নেতা কামাল হোসেন ও যুবলীগ নেতা মহিদুল ইসলাম মধু।
মাঠে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে নিমপাড়া ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী সুজন আলী বলেন, গতবার মনোনয়ন চেয়ে পাইনি, এবারও তাই। দলের ত্যাগী নেতাকে বাদ দিয়ে নানা কারণে বিতর্কিত একজন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। স্থানীয় ভোটাররা চায় আমি নির্বাচন করি। তাই ভোটের শেষ সময় পর্যন্ত মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলাম বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হলে তা কারও জন্য সুখকর হবে না। আমরা আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই তারা নিজেদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন। নয়তো দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সামাদ বলেন, এসকল বিদ্রোহী প্রার্থী যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করেন তবে সংগঠনের ৪৭ এর ১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁরা দল থেকে সরাসরি বহিষ্কার হবেন। আর যেসকল নেতাকর্মী তাদের পক্ষে কাজ করবেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।