গোমস্তাপুর সংবাদদাতা : অনাবিল সৌন্দর্য আর শুভ্রতায় মোড়ানো চিরসবুজ গ্রাম যে এখনও রয়েছে তা পাথরপূজা গ্রামটি দেখলে বিশ্বাস হবে। যান্ত্রিকতা, কৃত্রিমতা ও বিষাক্ত বাতাস এখনো স্পর্শ করতে পারেনি গ্রামটিকে। পাথরপূজা গ্রামটি তার নামের মতই সুন্দর। অপরূপ নিপুন শৈলী আর যত্ন নিয়ে বানানো মাটির বাড়িগুলো যেন শিল্প আর সৌন্দর্যের আধার। নয়ন জুড়ানো বাড়িগুলো দেখলে যেন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। রাস্তার চারপাশে কৃষি জমি আর সবুজ ঘাস যেন একেকটা রং তুলিতে আঁকা বিখ্যাত ছবির ক্যানভাস। মুগ্ধতার পল্লী এই পাথরপূজা গ্রামের প্রতি ইঞ্চি জমিতে রয়েছে প্রাচীন ইতিহাস।
ইতিহাস গুলো যেন অপেক্ষা করছে তাদের ঐতিহাসিক প্রকাশে। পুরো পাথরপূজা গ্রামটির মাটির নিচে রয়েছে প্রাচীন বিশাল আকৃতির পাথর। একটি দুইটি নয়, শত-শত,হাজার-হাজার পাথর রয়েছে। মাটি খুড়লেই এখানে বিশাল আকৃতির পুরোনো আমলের পাথর পাওয়া যায়। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক দিয়ে গ্রামটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নে। গ্রামে ঢুকতেই দেখা গেল বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বড় বড় পাথর। গ্রামটির বাঁশঝাড়ে এরকমই একটি পাথর পড়ে থাকতে দেখা গেল। পাথর দেখে বোঝা যাচ্ছে এটি যেনো তেনো কোন পাথর নয়, প্রাচীন পাথর। ওজন হবে বেশ।
বছরের পর বছর, একই স্থানে রয়ে গেছে পাথরটি। সেখান থেকে আর একটু দূরে জঙ্গলে দেখা মিলল একই রকম আরেকটি পাথরের। এরকম অসংখ্য পাথর বিভিন্ন স্থানে পড়ে রয়েছে। পাথর গুলো কবেকার তা নিয়ে কোনো ঐতিহাসিক সত্যতা না থাকলেও ইতিহাস বৌদ্ধাদের একটি অংশই মনে করেন নবম-দশম শতকের এসব পাথর। কথা হয় ওই এলাকার বাসিন্দা খানু সরদারের সঙ্গে, এখানে দুটা ঢিবি রয়েছে। একটু খুড়লেই অনেক বড় বড় পাথর পাওয়া যাবে। শুনা কথা এটা রাজার বাড়ি ছিল। তারা দুই ভাই ছিল।
তার পাশে একটি দীঘি রয়েছে। সেখানে ঘাট বাধা আছে। এলাকার নাজমুল হকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই গ্রামে অসংখ্য পাথর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ওইখানে যে ঢিবিটি আছে সেখানে একটু খনন করলেই বড় বড় পাথর পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান, যদি জায়গাটিতে ঐতিহাসিক কোন নিদর্শনের খোঁজ মেলে তাহলে আমি প্রত্নতত্ত অধিদপ্তরের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।