বাগমারা প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দেউলিয়া চৌরাস্তা এখন শুধু একটি ব্যস্ত সড়ক মোড়ই নয়, সুস্বাদু ও ব্যতিক্রমী একটি ঐতিহ্যবাহী খাবারের জন্যও পরিচিতি পাচ্ছে। এখানকার আলু দিয়ে তৈরি ‘আলুর গোল্লা’ স্বাদ ও মানের কারণে স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। দেখতে অনেকটা দুধের ছানার গোল্লার মতো হলেও এটি তৈরি হয় দেশি আলু ও বিশেষ জাতের আলু দিয়ে। নিপুণ কারিগরি আর সঠিক প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত হওয়ায় আলুর গোল্লা খেতে যেমন নরম, তেমনি সুস্বাদু। প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেউলিয়া চৌরাস্তায় ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আলুর গোল্লার উদ্যোক্তা মাহাবুর রহমান জানান, মানুষের কাছে ভেজালমুক্ত ও সুস্বাদু খাবার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি এই উদ্যোগ শুরু করেন। আলুর গোল্লা তৈরির কৌশল আয়ত্ত করার পর নিজেই উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আলুর গোল্লা বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, দেশি ও লাল জাতের আলু ভালোভাবে সিদ্ধ করে মিহি করে বিশেষ পদ্ধতিতে গোল্লার আকার দেওয়া হয়। এরপর সয়াবিন তেলে ভেজে চিনির শিরায় নির্দিষ্ট সময় ডুবিয়ে রাখা হয়। এতে গোল্লার ভেতর পর্যন্ত মিষ্টির স্বাদ পৌঁছে যায় এবং এটি দুধের ছানার গোল্লার মতোই নরম ও সুস্বাদু হয়ে ওঠে। মাহাবুর রহমান আরও বলেন, আগামী শীত মৌসুমে আলুর পিঠাসহ আরও কয়েক ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। মানুষের মুখে নিরাপদ ও সুস্বাদু খাবার তুলে দিতে পারলেই আমার পরিশ্রম সার্থক হবে।

স্থানীয় এক ক্রেতা জানান, একসময় বাগমারার বিভিন্ন হাটে আলুর গোল্লা, আলুর পিঠা, সাতপুতি, পাকান, পাটিসাপটাসহ নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা পাওয়া যেত। সময়ের সঙ্গে সেগুলো প্রায় হারিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন পর আবার আলুর গোল্লা দেখে পুরোনো দিনের স্মৃতি ফিরে এসেছে। তাই নিজে খাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের জন্যও কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি আলুর গোল্লা ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেকে এক, দুই এমনকি পাঁচ কেজি পর্যন্ত কিনে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। মোবাইল ফোনেও অর্ডার নেওয়া হচ্ছে এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে সোমবার ও শুক্রবার ভবানীগঞ্জ হাটের দিনে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। মোটরসাইকেল আরোহী, অটোরিকশা চালক, ট্রাকচালক, মাইক্রোবাসের যাত্রীসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা দেউলিয়া চৌরাস্তায় গাড়ি থামিয়ে আলুর গোল্লা খেয়ে আবার অনেকে সঙ্গে করে বাড়িতেও নিয়ে যাচ্ছেন। শুধু বাগমারাই নয়, দুর্গাপুর, মোহনপুর, আত্রাই, রানীনগর ও মান্দাসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও মানুষ এই আলুর গোল্লার স্বাদ নিতে আসছেন। ফলে মাহাবুর রহমানের ব্যবসায় যেমন সাফল্য এসেছে, তেমনি বাগমারার একটি নতুন খাদ্য পরিচিতিও তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা দেউলিয়া চৌরাস্তা এখন ভ্রমণপিপাসু ও খাদ্যরসিকদের জন্যও একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। সুস্বাদু আলুর গোল্লার সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় বাগমারার এই ছোট উদ্যোগ এখন বৃহত্তর অঞ্চলেও পরিচিতি লাভ করছে।