তানোর প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোর উপজেলার কাঁমারগা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মসলেম উদ্দিন প্রামানিকের ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম-দুর্নীতি ও সেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে জনমনে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। তৃণমুলের ভাষ্য, এতে তার চরম ইমেজ সঙ্কট সৃস্টি হয়েছে। ইতমধ্যে দলের দায়িত্বশীল নেতাকর্মী তাকে ত্যাগ করেছে, পাশাপাশি তৃণমুলের নেতাকর্মীরাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ফলে চরম সঙ্কটে পড়েছে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, এসব কারণে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন তার কপালে জোটেনি, ফলে প্রতিদন্দিতা তো পরের কথা দলে তার টিকে থাকায় কঠিন পড়েছে।
ইউপি আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জৈষ্ঠ নেতা বলেন, মসলেম আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে নাই, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদককে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা দিয়ে এর আগে দুই বার নৌকা প্রতিক হাতিয়ে নিয়েছেন, তবে এবার আর সেটা হয়নি। তারা বলেন, এমপিবিরোধীতার নামে নৌকাবিরোধী অবস্থান, লেখাপড়া না জানা, সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে না থাকা ও সাংগঠনিক কর্মকান্ড গতিশীল করতে ভুমিকা না রাখা ইত্যাদি কারণে তৃণমুল এবার তার পরিবর্তে ফজলে রাব্বী ফরহাদকে সমর্থন দিয়ে তার বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর সার্বিক সহায়তায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতিক নিয়ে মসলেম দুই বার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্ত্ত নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর পরই স্থানীয় সাংসদের বিরোধীতা করার নামে পৃথক বলয় বা দলীয় কোন্দল সৃস্টি করে দল ও নেতাকর্মীর কাছে বির্তকিত হয়েছেন। ফলে সরকার দলীয় চেয়ারম্যান হয়েও তিনি ১০ বছরে তেমন কোন দৃশ্যমান উন্নয়নই করতে পারেননি। এদিকে ইউপিবাসী উন্নয়ন বঞ্চিত হবার জন্য চেয়ারম্যান মসলেমকে দায়ী করে তাকে উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে অবিহিত করে তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয়রা বলছে, ইউনিয়নবাসীর জীবন-মানোন্নয়ন ঘটাতে না পারলেও চেয়ারম্যান মসলেমের নিজের উন্নয়নের কোন কমতি নেই, এই সময়ের মধ্য তিনি হয়েছেন অঢেল বিত্ত-বৈভবের মালিক। তৃণমুলের অভিযোগ, দল, নেতা ও নেতৃত্বের সঙ্গে বেঈমানী করে মসলেম এমপি বিরোধীতার নামে দলের নেতাকর্মীদের মধ্য বিভ্রান্তি ও দলীয়কোন্দল সৃষ্টি, জাতীয় সংসদ, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার মনোনিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম-শতবার্ষিকী মুজিববর্ষ-২০১, জাতীয় জেল হত্যা দিবস, বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎবার্ষিকী, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ইত্যাদি জাতীয় ও দলীয় অনুষ্ঠান তো তিনি করেননি বরং নানা কৌশলে বাঁধা দিয়েছেন বলেও এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে।
এদিকে এসব বিষয় বিবেচনা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী এমন ব্যক্তিকে যেনো নৌকা প্রতিক দেয়া না হয় সেটা বিবেচনা করতে আওয়ামী লীগের তৃণমুল দলের নীতিনির্ধারক মহলের কাছে আবেদন করায় তার মনোনয়ন হয়নি বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
সরেজমিন কাঁমারগা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ১০ বছর আগে এই ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট, বাজার-হাট যে তিমিরে ছিল, সেখানেই রয়ে গেছে।গ্রামের মোড়ে মোড়ে নেই সোলার লাইটের ব্যবস্থা, নেই বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা, নেই পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা।
যার ফলে বর্ষা মৌসুমে ইউপির অধিকাংশ এলাকা হয়ে থাকে জলমগ্ন। কাঁমারগা ইউপির হরিপুর ও হাতিনান্দা গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বয়োজৈষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান কি উন্নয়ন করেছে তা এবার ভোটের সময় তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তারা বলেন, যে পাড়ার নামে ইউনিয়ন সেই পাড়াতে ১০ বছরে একটি সোলার লাইট দিতে পারেনি সে আবার জনগণের কি উন্নয়ন করবে, এবার ভোট চাইতে এলে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে, তবে তাকে যেনো নৌকা দেয়া না তার জন্য হাইকমান্ডের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউপি সদস্য বলেন,আওয়ামী লীগ সরকার দেশের প্রতিটি এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছে, অথচ আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান হয়েও মসলেম লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতি করে এলাকাকে উন্নয়ন বঞ্চিত করেছে আমরা তার রাহুগ্রাস থেকে বাঁচতে বা পরিত্রাণ চাই। এবিষয়ে জানতে চাইলে কাঁমারগা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মসলেম উদ্দিন প্রামানিক এসব অভিয়োগ অস্বীকার করে বলেন, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছে। তিনি বলেন, তিনি যে উন্নয়ন করেছেন সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ইউপিবাসী আবারো তাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন ইনশাল্লাহ্।