এফএনএস : সরকার দেশজুড়ে কৃষকের বাজার গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ওই বাজারে একদিক যেমন ভোক্তারা শতভাগ নিরাপদ বিষমুক্ত কৃষিপণ্য পাবে, অন্যদিকে কৃষকেরও উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে। ওসব বাজারে সরাসরি কৃষককে তার বিষমুক্ত কৃষিপণ্যে বিক্রির ক্ষেত্রে কোন ধরনের টোল দিতে হবে না। বরং সরকার প্রয়োজনে কৃষকের বাড়ি থেকে পণ্য বাজারে নিয়ে আসতে পরিবহন সহায়তা দেবে। ইতিমধ্যেই ৪৫ জেলায় গড়ে উঠেছে কৃষকের বাজার। দ্রুততই বাকিগুলোর কাজও শেষ হবে। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে শুক্র শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া ইভিনিউর সেচ ভবনে ওই হাট বসে। যা রাজধানীবাসীর কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ওই বাজারে সপ্তাহে দুই দিন লাখ টাকার উপরে কৃষকরা কৃষিপণ্য বিক্রি করে। আশপাশ জেলায় যারা সার ও বিষমুক্তভাবে শাকসবজি উৎপাদন করে কৃষি বিপণন অধিদফতর তাদের পণ্য পরিবহন দিয়ে নিয়ে আসে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে কৃষি বিপণন অধিদফতর নিয়মিত বাজার দেখাশুনা করছে। প্রতি সপ্তাহের ওই বাজারে অর্গানিক বিভিন্ন সবজি নিয়ে কৃষকরা অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে অধিক জনপ্রিয়তার কারণে দিন দিন ক্রেতার সংখ্যা বাড়ায় কৃষিপণ্যের বিক্রিও বাড়ছে। কৃষি মন্ত্রণালয় এবং কৃষি বিপণন অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের সব জেলায় কৃষকের বাজার গড়ে তোলা হবে। আর তা হবে নিরাপদ কৃষিপণ্যের মার্কেট। মূলত বাজারটি কৃষকেরই হবে। বিষয়টি এমন হবে না যে বাজার করার জন্য যে জায়গার দরকার হবে তা সিটি কর্পোরেশনের কাছ থেকে নিলামে নেয়ার কদিন পরই সেখান থেকে টোল আদায় করা হবে। তাহলে তা আর কৃষকের মার্কেট থাকবে না। তখন সেটা অন্যান্য মার্কেটের মতো হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সরকার তেমনটি চাচ্ছে না।
সূত্র জানায়, নিরাপদ কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় প্রত্যেক উপজেলায় দুটি করে গ্রাম নির্বাচন করেছে। ওসব গ্রামে নিরাপদ সবজি চাষ হচ্ছে কিনা তা কৃষি অফিসার মনিটরিং করবে। আর ওই মনিটরিং হবে ফসল রোপণ থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত। প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী ভিত্তিতে ওসব বাজার স্থাপন করে চালু হচ্ছে। তারপর হালকা অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পরবর্তী সময়ে ওসব বাজার স্থায়ী রূপ পাবে। মূলত তদারকির মাধ্যমে নিরাপদ সবজিসহ কৃষিপণ্য উৎপাদনে নজর দিচ্ছে সরকার। সেজন্য কৃষকের বাজারে নিরাপদ কৃষিপণ্য বিক্রির বিষয়েও জোর দেয়া হচ্ছে।
সূত্র আরো জানায়, সাধারণত কৃষকদের কাছ থেকে পাইকাররা পণ্য নিয়ে যায়। কিন্তু কৃষকের বাজার হলে চাষীরা জেলাপর্যায়ে নিজেই পণ্য নিয়ে সরাসরি বিক্রি করতে পারবে। তাকে কোনো ধরনের টোল দিতে হবে না। বর্তমানে সবজি চাষে রাসায়নিক সার প্রয়োগ ও পোকামাকড় দমনে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। তাছাড়া অধিক মুনাফার জন্য সবজির মাঠে কীটনাশক প্রয়োগ করে অল্প সময়ের মধ্যেই সবজি সংগ্রহ করে বিক্রি করা হয়ে থাকে। সঠিক সময়ে কীটনাশক প্রয়োগ ও প্রয়োগমাত্রা সম্পর্কে ধারণা না থাকায় নিরাপদ সবজি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আর মানুষের দেহে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টির অন্যতম কারণ মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিকারক কৃষিপণ্যের উপাদান।
এমন পরিস্থিতিতে জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিকমাত্রায় রাসায়নিক সার প্রয়োগ, উপযুক্ত সময় ও নির্ধারিত মাত্রায় কীটনাশকের ব্যবহার এবং সঠিক সময়ে সবজি সংগ্রহের মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। সেজন্যই বছরব্যাপী নিরাপদ সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
অন্যদিকে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর সংসদ ভবনের সামনের এই কৃষকের বাজার উদ্বোধনকালে কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন, কৃষকের বাজারে যে কৃষকরা অংশগ্রহণ করেছে তাদের এক বছর ধরে প্রস্তুত করা হয়েছে। কৃষকরা সম্পূর্ণরূপ কীটনাশকমুক্ত সবজি এই বাজারে নিয়ে আসছে। স্বল্প পরিসরে হলেও তা অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে তা বৃহৎ পরিসরে করার উদ্যোগ নেয়া হবে। ওই ধারাবাহিকতায় এবার জেলায় জেলায় ছড়িয়ে যাচ্ছে কৃষক বাজার। তাতে করে জেলার মানুষও নিরাপদ সবজি পাবে। কারণ তদারকির মাধ্যমে নিরাপদ সবজিসহ কৃষিপণ্য উৎপাদনে নজর দিচ্ছে সরকার এবং কৃষকের বাজারে নিরাপদ কৃষিপণ্য বিক্রির বিষয়েও জোর দেয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কৃষি বিপণন অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, আপাতত অস্থায়ীভিত্তিতে কৃষকের বাজার স্থাপন করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এর স্থায়ী রূপ দেয়া হবে। সেজন্য ২০০ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প নেয়া হবে। এভাবেই এগোচ্ছে সরকার। তাছাড়া ঢাকায় মানিক মিয়া এভিনিউকে এফএও-এর (জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা) সহায়তায় কেন্দ্রীয়ভাবে কৃষকের বাজার করা হবে। কৃষক বাজারে এসে কৃষক তার পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারবে আর ভোক্তা সঠিক দামে নিরাপদ পণ্যটি কিনে নিতে পারবে। এই উদ্দেশ্যেই কৃষকের বাজার প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।