শেখ মেহেদী হাসান, ঈশ্বরদী : ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুুদ্ধের বিরোধী রাজাকারের ছেলে স্বেচ্ছাসেবকলীগে! ঈশ^রদী শহর জুড়ে আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র আলোচনা এবং ক্ষোভ প্রকাশের কারণে অবশেষে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো রাজাকারের সেই ছেলে খাইরুল ইসলামকে। গতকাল (দুপুরে) সম্প্রতি ঘোষিত ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক কমিটির সুপারিশে পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি ও সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকলীগ ঈশ্বরদী শাখার আহবায়ক মাসুদ রানা এবং যুগ্ন আহবায়ক সাকাওয়াত হোসেন সজিব মালিথা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সুত্রে জানা যায়, সুদীর্ঘ ১২ বছর পর গত ৩১ জুলাই তিন মাসের জন্য ঈশ^রদীতে স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাসুদ রানাকে আহবায়ক ও সাকাওয়াত হোসেন সজিব মালিথাকে যুগ্ন আহবায়ক এবং খাইরুল ইসলামকে সদস্য করে ২০ সদস্যের কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। দলে অনুপ্রবেশের বিষয়টি খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, সদস্য খাইরুল ইসলাম ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ঈশ্বরদীর চিহিৃত রাজাকার শহরের মশুড়িয়াপাড়ার (ভাটাপাড়া) এলাকার মৃত আবুল হোসেন রাজাকারের ছেলে। বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে হৈচৈ পড়ে যায়।
তাঁরা বিষয়টি ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র ইছাহক আলী মালিথা, স্থানীয় এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাসের দৃষ্টিতে এনে প্রতিকার দাবী করেন। একই সঙ্গে যারা খাইরুল ইসলামের মতো রাজাকারের পরিবারের সদস্যকে আওয়ামীলীগ ও বিভিন্ন সহযোগি সংগঠনে প্রবেশ ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিকভাবে কঠোর শাস্তি দাবী করা হয়েছে বলেও সুত্রগুলো জানিয়েছেন।
স্বেচ্ছাসেবকলীগ ঈশ^রদী শাখার আহবায়ক মাসুদ রানা জানান, কমিটিতে খাইরুল ইসলামের নাম আসায় চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে তার বিষয়ে জেলা কমিটির নিকট সুপারিশ করা হলে রবিবার খাইরুল ইসলামকে অব্যাহতি প্রদান করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবকলীগ পাবনা জেলা কমিটি। আশা করি এখন বিতর্কের অবসান ঘটবে।
স্বেচ্ছাসেবকলীগ ঈশ্বরদী শাখার আহবায়ক কমিটির যুগ্ন আহবায়ক সাকাওয়াত হোসেন সজিব মালিথা জানান, দীর্ঘদিন পর তড়িঘড়ি করে কমিটি ঘোষণা করায় দলের মধ্যে হাইব্রিডদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। খাইরুল ইসলাম রাজাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে জানার পর তাঁকে পাবনা জেলা কমিটির পক্ষ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ পাবনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন জানান, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক এক মেয়রের সুপারিশে রাজাকারের ছেলে খাইরুল ইসলাম কমিটিতে এসেছে। জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সঠিকভাবে যাচাই বাচাই না করে ঈশ^রদীতে কমিটি দেওয়া আমাদের ভুল হয়েছে। রাজাকারের ছেলে কমিটিতে থাকায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাই তাকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।