বুধবার

১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী লিবিয়ায় অপহৃত মান্দার আলমগীরের মৃত্যু, আড়াই মাস পর মরদেহ শনাক্ত রাজশাহীতে ক্লুলেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, বিএনপি নেতাসহ ২ জন গ্রেপ্তার পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি বিএমডিএ’র ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা নতুন সরকারের অধিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়তে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে : রিটন রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক কিশোর দেশের ৬৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকছেন : তথ্যমন্ত্রী

সবজিতে মোহনপুরে কৃষকদের ভাগ্য বদল

Paris
Update : মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০

আর কে রতন, মোহনপুর : রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় শীতকালীন সবজি চাষ বদলে দিয়েছে বহু কৃষকের ভাগ্য। এ বছর মহামারি করোনার কারণে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হলেও পরবর্তীতে সে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে শীতকালীন বিভিন্ন সবজী চাষ করে এ উপজেলার কৃষকরা এবং আশানুরূপ দামের চেয়েও বেশি দাম পাওয়ায় দারুন খুশি সবজী চাষিরা, তাই বেশি করে সবজি চাষে ঝুকছেন কৃষকরা।

এই শীত মৌসুমে এ অঞ্চলের উৎপাদিত সবজী স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেসরবরাহ করে এবং ব্যবসায়ীর আগ্রহের সঙ্গে এখান থেকে ট্রাকে করে লাখ লাখ টাকার ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, কুমড়া, সিম, লাউ, বরবটি, পালং শাক ও লাল শাকসহ বিভিন্ন সবজি নিয়ে যাচ্ছেন। এ উপজেলার অনেক কৃষক শীতকলীন সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর আলম এ প্রতিবেদককে জানান করোনা কালীন উৎপাদিত সবজী এ এলাকার কৃষক বিক্রি করতে না পারায় প্রচন্ড কষ্টে কেটেছে চাষিদের দিন, পরে শীতকালীন সবজি চাষ করে বাজারে ভাল দামে বিক্রি করে সে লোকসান কাটিয়ে উঠেছে।

ঘাসিগ্রাম এলাকার সবজি ব্যবসায়ী আলী হাসান বলেন, জীবিকার তাগিদে আমি কৃষিকাজে সম্পৃক্ত হই ধীরে ধীরে আজ আমি স্বাবলম্বি হয়েছি। অপরদিরক, বাকশিমইল গ্রামের আনোয়ার হোসেন সবজি চাষের বদলৌতে বদলে গেছে আমার ভাগ্য। এখন আমার পরিবারের আর্থিক কষ্ট অনেকটা কমে গেছে। গত বছর শীত মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে তিনি সবজি চাষ করে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় করি। এ বছর সবজি চাষ করেছেন সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে বিভিন্ন শীতকালীন সবজি। ধুুরইল ইউনিয়নের আক্কাস আলী জানান, গত বছর ১০ কাঠা জমিতে টমেটো চাষ করে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা আয় করেছেন। ফলে এবছরও একই আবাদ করছেন। ইতিমধ্যে বিক্রিয়ও শুরু করেন।

তার চোখে এখন রঙিন স্বপ্ন। গত বারের চেয়ে এবার দামও অনেক বেশি। আশা করছেন আগের বছরের চেয়ে এবার আরো বেশি লাভ হবে। জাহানাবাদ ইউনিয়নের হারেছ আলী জানান, ৬-৭ বছর আগে রবিশস্য চাষাবাদ করতেন তিনি। তাতে খরচই উঠত না। কষ্টে করে দিন কাটত তাদের সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। অনেক ভেবে চিন্তে শুরু করেন লাউ চাষ। লাউ চাষের শুরুতেই আসে তার সফলতা। এরপর আর পেছনে ফিরে দেখতে হয়নি তাকে। চলতি বছরে ১ বিঘা জমিতে লাউ চাষ করেছেন তিনি। লাউ চাষে মাচা তৈরি সহ তার খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। তিনি এ পর্যন্ত ঐ ক্ষেত থেকে লাউ বিক্রি করে পেয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার টাকা। আরও ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

সরজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এ উপজেলার প্রধান অর্থকারী ফসল পান চাষ হলেও এখন ৬টি ইউনিয়নে পান চাষের সবজি চাষের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে চাষ হয়েছে বাঁধা, সিম, টাকা, ফুলকপি, ওলকপি ঢেঁড়স, করলা, বেগুন, বরবটি, লাল শাক, পেঁপে,শসা, টমেটো, কাঁচা মরিচ, পালং শাক উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আব্দুল মান্নান জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বিভিন্ন স্থানে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ বাম্পার ফলন হয়েছে। সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তারা বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তিনি আরও বলেন, “বাজারে সবজির দাম ভালো থাকায় এলাকার কৃষকরা সবজি চাষ আরও বেশী করে চাষাবাদ আরো আগ্রহী হচ্ছে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris