এফএনএস : ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ‘ত্রুটিপূর্ণ’ ফলাফল বাতিল করে সংশোধিত নতুন মেধা তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, যদি কোনো শিক্ষার্থী তার ফলাফল ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে মনে করেন তবে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে আবেদন করতে পারবেন। মন্ত্রণালয় সাতদিনের মধ্যে তা খতিয়ে দেখে সমাধান করবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই বিষয়ে করা রিট খারিজ করে এমন পর্যবেক্ষণ দেন। এর আগে গত সোমবার এই রিটের শুনানি শেষ হয়। পরদিন মঙ্গলবার এ বিষয়ে আদেশ দেয়ার জন্য দিন ধার্যের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও পরে গতকাল বৃহস্পতিবার দিন ঠিক করেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট ভার্চুয়াল বেঞ্চ। ওইদিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। এর আগে গত ১৯ মে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ত্রুটিপূর্ণ দাবি করে তা সংশোধন সাপেক্ষে নতুন মেধা তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে।
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট করেন। রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ও পরিচালক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়। রিটে বলা হয়েছে, গত ৪ এপ্রিল প্রকাশিত ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা ফলাফলে অসংখ্য ভুল এবং বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব জানান, এর আগে মঙ্গলবার ২৪৮ পরীক্ষার্থীর পক্ষে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ত্রুটিপূর্ণ মেধা তালিকার ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত এবং ত্রুটিপূর্ণ মেধা তালিকা বাতিল করে ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণপূর্বক নতুন মেধা তালিকা প্রণয়ন করতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তারপরও এ বিষয়ে কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করে রিট করা হয়েছে।