স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাই রোজাদারদের প্রাণ যায় যায় অবস্থা। এই কাঠফাটা গরমে প্রায় ১৫ ঘণ্টা রোজা রেখে শরীরকে সতেজ করার জন্য ইফতারের সময় ঠান্ডা পানিয়র পাশাপাশি দেশী কিংবা বিদেশী রসালো ফল খাওয়ার কোন বিকল্প নেই রোজদারদের জন্য। এ বছরে রোজা শুরু হয়েছে একেবারে বৈশাখেই। গ্রীষ্মের তেজও অন্যবছরের চাইতে এবার একটু বেশি। ফলে রমজানে রোজাদারদের পানিশূন্যতা, লবণ শূন্যতা ও বদহজম যেন না হয়, সেদিকে নজর দিতে হচ্ছে বেশি। লম্বা সময় রোজা রাখার পর দিনশেষে তাই ভাজাপোড়া ইফতার পরিহার করছেন বেশিরভাগ রোজাদারই।
অনেকেই ঝুঁকছেন ফলমূলের দিকে। করনোর প্রাদুর্ভাব কমাতে দেশে চলমান লকডাউনের কারণে প্রতিদিন সকাল থেকে দিুপুর পর্যন্ত নগরীর ফলের বাজারে ভিড় বাড়ছে। কিন্তু সবজির মতো স্বস্তি নেই ফলের বাজারেও! রমজানে চাহিদা বাড়ায় প্রতিটি ফলের দামই অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন কঠোর লকডাউনের কারণে সরবরাহ কম। বাইরে থেকে ফলের গাড়ি আসতে পারছে না। আমদানি প্রায় নেই বললেই চলে। তাই নগরীর বাজারগুলোতে ফলের দামও বেশি। রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার এলাকার ফল ব্যবসায়ী সাহাবুল, জাবেদ আলী পত্রিকার প্রতিনিধিকে বলেন, রমজানের প্রথমদিন থেকে কঠোর লকডাউনের কারণে বাজারে ফলের সরবরাহ অন্যান্য যে কোনো সময়ের চেয়ে কম।
আর রোজার কারণে এখন ফলের চাহিদাও বেশি। তাই প্রতিটি ফলের দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। আর আপেল, কমলা, আঙ্গুর, খেজুরের মতো ফলগুলো অন্য দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু লকডাউনে তা সম্ভব হচ্ছে না। তাই মৌসুমি ফলের পাশাপাশি এসব ফলের দামও বেড়েছে।
রাজশাহী মহানগরের সাহেব বাজার, সোনাদীঘির মোড়, লক্ষীপুর, গোরহাঙ্গা রেলগেইট ও শালবাগান সাগরপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে মৌসুমি ফলের চাহিদাই এখন বেশি। কিন্তু অন্য ফলের চেয়ে মৌসুমি ফলের দাম কম হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র উল্টো। বাজারে পর্যাপ্ত তরমুজ, আনারস, পেয়ারা ও বাঙ্গিসহ অন্যান্য দেশি ফল রয়েছে। কিন্তু দাম আকাশছোঁয়া!
সবচেয়ে বেশি চাহিদা এখন রসালো ফল তরমুজের। সারাদিন তীব্র গরমে রোজা থাকার পর তরমুজের এক কামড়; রোজাদারের মনে যেন প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। এই সময়ে তরদুজের দাম কম হবার কথা থাকলেও রোজা ও লকডাউন কেন্দ্রিক সেই তরমুজের দামও হ্রাস পাইনি আজ অবদি। এক মাসের বেশি সময় থেকে বাজারে তরমুজ উঠছে। কিন্তু দাম এখনও দাম ৪০ টাকা কেজি। যদিও একটু খারাপ মানের তরমুজগুলো কোথাও কোথাও ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ফলের বাজারে ৫০ টাকা কেজির আনারস এখন ৮০ টাকা কেজি, ৭০ টাকা কেজির থাই পেয়ারা ১২০ টাকা কেজি, ২০ টাকা হালির কলা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ১৫০ টাকা কেজির আতা ফল ২০০ টাকা, ২৫ টাকা পিসের বাঙ্গি ৪০ টাকা, ১০০ টাকা জোড়ার ডাব ১৬০ টাকা। এছাড়া বছরের নিয়মিত ফল হিসেবে পরিচিত খেজুর ১৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি, আঙ্গুর ২৫০ টাকা কেজি, আপেল মানভেদে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি, কমলা ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি, মাল্টা প্রকার ভেদে ১০০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি, বেদেনা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি, নাশপাতি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, আনারস ৯০ থেকে ১২০ টাকা পিচ, ১০০ গ্রাম চেরিফল ২৫ টাকা হলেও শনিবার ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মহানগরীর গোরহাঙ্গা রেলগেইট এলাকায় ফল কিনতে আসা সুলতানাবাদ এলাকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, এবার রমজানের শুরু থেকেই রাজশাহীতে দাবদাহ বইছে। গরমের তীব্রতায় মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। তাই স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ ইফতারে ফল রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু যে হারে ফলের দাম বেড়েছে তাতে সব ধরনের ফল এখন সাধারণ ক্রেতাদের হাতের নাগালের বাইরে। বাজারে মৌসুমি ফলের দামও বেশি। এতে নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে পারছেন না। এজন্য বাধ্য হয়েই বেশি দামে ফল কিনছেন বলেও মন্তব্য করেন অনেক ক্রেতা।