ধামইরহাট প্রতিনিধি : নওগাঁর ধামইরহাটে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন দুলছে। ধান রোপন থেকে শুরু করে ধানের শীষ বের হওয়া পর্যন্ত কৃষক হাড়ভাঙ্গা শ্রম দিয়ে চলেছে। বর্তমানে ধান গাছ থেকে শীষ বের হয়েছে। আর কয়েক সপ্তাহ পর তাদের সোনালী স্বপ্ন ধান কাটামাড়া শুরু হবে। উপজেলা কৃষি বিভাগ ধান কর্তনের প্রয়োজনীয় মাড়াই যন্ত্র্র ও কৃষি শ্রমিকের সংকট মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে,চলতি ইরি বোরো মওসুমে এবার ধামইরহাট উপজেলায় ১৮ হাজার ৬শত ৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ হাজার ৩০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২ হাজার ৫শত ৭৫ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। গত আমন মওসুমে কৃষকরা ধানের দাম বেশি পাওয়ায় এবার অধিক জমিতে বোরো ধান চাষ করেছে। অধিকাংশ জমিতে জিরাশাইল ও কাটারীভোগ জাতের ধান রোপন করা হয়েছে। এছাড়া ব্রিধান ৫৮,৮১,৮৬,৮৯ এবং সুগন্ধি গোল্ডেন আতব ধান রোপন করা হয়েছে। দির্ঘদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়া এবং বোরো ধান চাষের অনুকূল পরিবেশ থাকায় ধান গাছগুলো লকলকে ও তরতাজা আকার ধারণ করছে।
এবার ধানের রোগ বালাই তেমন নেই বললেই চলে। তারপরও কোন কোন জমিতে কারেন্ট পোকা (বাদামী গাছ ফড়িং) এবং গলাপঁচা রোগ দেখা দিয়েছে। উপজেলার নেউটা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন,তিনি পৌনে দুই একর জমিতে কাটারীভোগ ধান চাষ করেছেন। শেষ সময়ে এসে গলাপঁচা ও কারেন্ট পোকার (বাদামী গাছ ফড়িং) আক্রমণ দেখা দিয়েছে। গলাপঁচার জন্য একবার এবং কারেন্ট পোকার জন্য দুই বার তরল ঔষধ স্প্রে করেছেন। এতে তার অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। তারপরও ধানের দাম পেলে অতিরিক্ত খরচ পুষে নেয়া যাবে।
উপজেলার আবিলাম গ্রামের কৃষক রবিউল আলম বলেন,তিনি জিরাশাইল জাতের ধান রোপন করেছেন। গাছ থেকে ধানের শীষ বের হয়েছে। ধানের রোগবালাই এবার কম। আশা করছি ধানের ভালো ফলন পাবো। এলাকার হাজারো কৃষক আশার বুক বেঁধে বসে রয়েছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে তাদের প্রার্থনা যেন কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না নেমে আসে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাপলা খাতুন বলেন,গত আমন মওসুমে কৃষকরা ধানের দাম বেশি পেয়ে বোরো ধান চাষে ঝুঁকে পড়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো ধান রোপন করা হয়েছে। এবারের আবহাওয়া বোরো ধান চাষের উপযোগি। মাঠে মাঠে কৃষি বিভাগের লোকজন তদারকি করছে।
পোকামাড়কের আক্রমণ তেমন নেই বললেই চলে। তবে যতটুকু আক্রমণ হয়েছে তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কৃষকদের সচেতন করার লক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রামে গ্রামে সচেতনামূলক সভা,৫ হাজার লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন মাঠ দিবস ও প্রশিক্ষণে কৃষকদের সচেতন করা হয়েছে। ধান কাটার সময় যেন শ্রমিক সংকট না হয় সে ব্যাপারে কৃষি বিভাগ থেকে পূর্ব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ধান কাটামাড়ার কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনগুলো সচল রাখা হয়েছে। আশা করছি প্রাকৃতিক কোন দূর্যোগ না হলে এবারও বোরো বাম্পার ফলন হবে।