আর কে রতন : মুকুলের গন্ধ ছড়িয়ে এখন পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে আমের গুটি। কয়েক দিনের মধ্যে গুটি পরিপক্ক হবে। তখন কাঁচা আমের টক-ঝাল ভর্তা সবাই বেশ মজা করে খাবে। তবে মিষ্টি পাকা আমের স্বাদ নেয়ার জন্য আরও প্রায় ২ মাস অপেক্ষা করতে হবে। রাজশাহীর আম চাষিরা বলেন, আওবহায়া অুনকুলে থাকলে চলতি মৌসুমে আমের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন হওয়ার সম্ভবনা হয়েছে। কারণ এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ভাল আছে। আর বর্তমান সময়ে উঁকি দেয়া আমের গুটি টিকিয়ে রাখতে চলছে জোর তৎপরতা।
গুটি টিকিয়ে রাখতে প্রতিদিন আম বাগানে সেচ দেয়া এবং পোকার হাত থেকে আমের গুটি রক্ষার্থে নিয়েমিত ছত্রাকনাশক ¯েপ্রসহ অন্যান্য পরিচর্যা নিয়ে ভিষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন আম বাগান মালিকরা। অবশ্য কোন কোন বাগান মালিক আমের মুকুল আসতে খুচরা পাইকারদের কাছে বিক্রি করেছেন।
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা কামারপাড়া এলাকার আম ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক জানান, এবার বাগানের প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমাণ আমের মুকুল আসে। সে মুকুল ফেটে আশানুপ পরিমাণ গুটিও হয়েছে। তবে গত সপ্তাহে একদিনের হালকা বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর ছৌবলে কিছুটা গুটি ঝলে গেছে। তবে এখনও গাছে গাছে যে পরিমান গুটি রয়েছে আর কোন কোন বড় ধরনের ঝড়-বৃষ্টি না হলে এ ক্ষতির পুষিয়ে যাবে।
বাঘা উপজেলার বাগান মালিক রিপন সরকার বলেন, যে পরিমাণ গাছে মুকুল এবং পরবর্তী আমের গুটি ধলেছে, যদি এই গুটিগুলো রক্ষা করা যায়-তবে গত মৌসুমের চাইতে এবার আমের ফলন অনেক ভালো হবে এবং কাঙ্খিত দামও পাওয়া যাবে। তিনি আরও জানান, গাছে মুকুল আসার পর হতে দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে পাইকাররা আম কেনা-বেচার জন্য যোগাযোগ করছেন।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ও কৃষিবিদ উম্মে সালমা বলেন, গাছে গাছে অজস্র্র মুকুল ও গুটি দেখে বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, আমচাষি ও বাগান মালিকরা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা আর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় আমের উৎপাদন বাড়ছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।