এফএনএস : এবার দেশে বোরো আবাদের পরিমাণ বেড়েছে। মূলত ধানেরভালো দাম পাওয়া এবং নানা ধরনের উপকরণ সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনার কারণে চলতি বছর বেড়েছে বোরো ধান আবাদ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চলতি বছর প্রায় ৭৮ হাজার ৫৬০ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। আর প্রাথমিক হিসাবে গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি বছর বোরো আবাদে জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৮ লাখ ৫ হাজার ২০০ হেক্টর। কিন্তু৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে হাইব্রিড ধান চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১১ লাখ ৪ হাজার ৬৩৩ হেক্টর কিন্তু১২ লাখ ১৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। ফলে হাইব্রিড জাতের ধান এক লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে আবাদ বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর মোট আবাদ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর। আর হাইব্রিডের প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ বেড়েছে।
সূত্র জানায়, চলতি বছর বোরো ধান আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের মাঝে বিনা মূল্যে বীজ সহায়তা বাবদ প্রায় ১৪৫ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে। তার মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান চাষ বৃদ্ধিতে দেয়া হয়েছে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার প্রণোদনা। চাল উৎপাদন বাড়াতে চলতি বছর বেশি জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান চাষের লক্ষ্য ছিল। বোরো ধান আবাদ বিশেষ করে হাইব্রিড ধান আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি মন্ত্রণালয় চালের ভালো উৎপাদন হবে বলে আশাবাদী।
সূত্র আরো জানায়, ছোট এদেশে জনসংখ্যা অনেক বেশি। তাও ক্রমেই বাড়ছে। পাশাপাশি শিল্পায়ন, নগরায়ণসহ নানা কারণে আবাদি জমি পরিমাণ দিন দিন কমছে। ফলে কম জমি থেকেই এদেশের মূল খাদ্য চাল উৎপাদন করতে হবে, চালে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে সব ফসলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চেষ্টা করা হচ্ছে। যা খুবই চ্যালেঞ্জিং। ভুট্টা, আলু, শাকসবজি, তেল, ডাল ও মসলাজাতীয় ফসলের চাষ ও উৎপাদন বাড়াতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
কিন্তু জমিস্বল্পতার কারণে একটি ফসলের আবাদ বাড়াতে গেলে অন্য ফসলের উৎপাদন কমে যায়। এমন অবস্থায় সব ফসলের উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং তা আরো বাড়াতে হলে উৎপাদনশীলতাও বাড়াতে হবে। আর উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গবেষক-বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণকর্মীসহ সবাইকে অরো মনোযোগী হওয়া জরুরি।
এদিকেচলমান ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৬৮টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয়েছে ৪০ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় অগ্রগতি ৩৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ফলে জাতীয় গড়ের চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি বেশ ভালো।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক জানান, বোরো ধান আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এ বছর হাইব্রিড ধান আবাদ বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেয়া হয়। সেটিও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আশা করা যায় বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ধান উৎপাদন অনেক ভালো হবে। হাওরসহ সারা দেশের ধান সুষ্ঠুভাবে ঘরে তুলতে পারলে বোরোতে অনেক ভালো ফলন হবে। শুধু ধান নয়; মাঠে অন্যান্য ফসল উৎপাদন পরিস্থিতিও ভালো অবস্থায় আছে।