স্টাফ রিপোর্টার : ‘মুজিববর্ষের শপথ আবাসন হবে নিরাপদ’ শ্লোগানকে সামনে রেখে রিয়েল এস্টেট এন্ড ডেভেলপার্স এ্যাসোসিয়েশন রাজশাহীর (রেডা) উদ্যোগে রাজশাহীতে চতুর্থ আবাসন মেলা-২০২১ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নগর ভবনের গ্রীন প্লাজায় পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলার উদ্বোধন করেন রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন।
মেলায় ডেভলপারস প্রতিষ্ঠান ছাড়াও আবাসন খাতের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৫৫টি প্রতিষ্ঠান স্টল দিয়েছে। মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথিরা রাজশাহী নগরীর আবাসনখাতের মোটা অংকের বিনিয়োগের বিষয়টিকে প্রশংসার দাবিদার বলেও উল্লেখ্য করেন। বিল্ডিং কোড মান্য সাপেক্ষে এইখাতকে সকলের জন্য প্রসারিত করার আহ্বানও জানানো হয় উক্ত আয়োজনে।
মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, রাজশাহীতে দীর্ঘদিনেও শিল্পায়ন ও কলকারখানা হয়নি। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে এখনো পিছিয়ে আছে রাজশাহী। রাজশাহী একদিকে শিক্ষানগরী তো অন্যদিকে কৃষিপ্রধান অঞ্চল তাই, কৃষি পণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে শিল্প-কলকারখানা তৈরি করার চেষ্টা করলে সুফল আসবে। তিনি আরো বলেন, রাজশাহীর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হলে পদ্মানদীকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। রাজশাহী থেকে ভারত পর্যন্ত নৌরুট অনুমোদিত হয়ে আছে। এখন নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও নৌবন্দর প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তাহলে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ উদ্যোগে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সকলের প্রচেষ্টায় রাজশাহীতে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে রাজশাহীতে দুইশ বিঘা জমির উপর বিসিক শিল্পনগরী-২ এর ভূমি উন্নয়ন কাজ চলছে। সেখানে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হবে। শিক্ষানগরী রাজশাহীতে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আনতে চাই। সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। মেয়র আরো বলেন, রাজশাহীতে দৃশ্যমান উন্নয়ন হচ্ছে।
পূর্ববর্তী সময়গুলোতে নগরীর বিত্তবান ব্যক্তিরা ঢাকা চট্রগ্রামসহ বড় বড় শহরে বিনিয়োগে উৎসাহ দেখালেও বর্তমানে আবাসন খাতে অনেকেই মোটা অংকের বিনিয়োগ করছেন। রাজশাহীর অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা গতিশীল করতে এটা একটা ভাল দিক। বিল্ডিং কোড মেনে এবং বাড়ির সামনে রাস্তার জন্য বিশ ফিট জায়গা রেখে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুরোধ জানান মেয়র। অনুষ্ঠানে রেডার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান কাজী বলেন, রাজশাহীর অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে রিয়েল এস্টেট এন্ড ডেভেলপার্স এ্যাসোসিয়েশন।
রেডার সদস্যরা আবাসন খাতে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আমাদের ১০৫টি আবাসন প্রকল্প এবং ১৮০০ ফ্ল্যাট তৈরি চলমান আছে। এ খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় দুই লাখ জনবল কর্মরত আছে। তিনি আরো বলেন, ভবন নির্মাণের উপকরণের দাম বৃদ্ধি এই সেক্টরের একটি বড় বাঁধা। করনো ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এমনিতেই পিছিয়ে পড়েছে এই আবাসন খাতের চলমান উন্নয়ন ধারা। তার উপর নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধিতে হিমশিম খাচ্ছি আমরা।
সরকার যদি এই খাতকে বেগবান করতে চান তবে আমাদের প্রয়োজন সরকারি ভাবে আর্থিক প্রণোদনার মতো সহোযোগিতা। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আনওয়ার হোসেন উপস্থিত বক্তিতায় বলেন, বিশে^র সকল সংবিধানের চাইতে আমাদের দেশের সংবিধান দেশবাসির কল্যাণের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। কারণ, আমাদের সংবিধানে আছে পাঁচটি মৌলিক অধিকারের কথা। আর এরমধ্যে অন্যতম হলো মানুষের আবাসন ব্যবস্থার নিশ্চিতকরণের কথাটিও। যেটা বিশে^র অন্যান্য সংবিধানে নেই। ইতিমধ্যেই আমারা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিশে^র কাছে স্বীকৃতি পেয়েছি।
তিনি আবাসন মেলার সুবিধা সম্পর্কে বলেন, জমির উচ্চ মূল্যের কারণে অনেকেই এখন জমি কিনে বাড়ি নির্শাণ করতে আগ্রহ হারাচ্ছে। তাই আবাসন খাতের ব্যবসায়রা যদি ক্রেতাদের নিরাপত্তা আর ক্রয়ের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেন তবে এইখাতের উন্নয়র অবধারিত। তিনি সকলকে বিল্ডিং কোড মেনে সূউচ্চ ভবন নির্মাণের জন্য অনুরোধ করেন।
রেডা সভাপতি তৌফিকুর রহমান লাভলুর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আনওয়ার হোসেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ রাজশাহী সার্কেল রাজশাহীর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক শামসুল আলম, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারে পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) তৌহিদুল আলম। সর্বশেষে রেডার পক্ষ থেকে সকল সম্মানীত অতিথিবৃন্ধকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।