স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন। তিনি শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ এর সাথে তাঁর নিজ বাসায় সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এ সমেয় উভয়ে জড়িয়ে ধওে কুলাকুলি করেন। সেইসাথে তারা বেশ কিছুক্ষণ একসাথে সময় কাটান এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময়ে সংসদ সদস্য এডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি। এ সময় উভয় নেতা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন। স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এ আসনে টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এসময় জামায়াত নেতা অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, সংসদ সদস্য এডভোকেট শফিকুল হক মিলন তাঁর ছোট ভাইয়ের মত। দীর্ঘদিন তারা একসঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। তিনি জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই রাজশাহী-৩ আসনের উন্নয়নে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন,“নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব। মতপার্থক্য থাকলেও সবার লক্ষ্য একটাই, জনগণের কল্যাণ। রাজশাহী-৩ আসনের উন্নয়নে সকলের মতামত ও সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।
তিনি আরও বলেন,“ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে। জেলা ও মহানগরের আদলে রাজশাহী-৩ আসনের উন্নয়ন করা হবে। আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন হড়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁরও কাজে অভিজ্ঞতা রয়েছে। এজন্য সবাইকে নিয়ে তিনি কাজ করতে চান। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর নির্দেশনায় আগামী বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এ ঘটনাকে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক বলেন,“রাজনীতিতে সৌজন্য ও সহ-মর্মিতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। এমন শুভেচ্ছা বিনিময় রাজনৈতিক সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।”
উল্লেখ্য, রাজশাহী-৩ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষ প্রতীকে এডভোকেট শফিকুল হক মিলন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লা প্রতীকে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ পান ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৭ ভোট। এ সময়ে মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন সরকার ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন।