আরা ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের কৃষক সচ্ছল ও ভালো থাকলে পুরো বাংলাদেশই ভালো থাকবে। কৃষকের উন্নয়নই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ডের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে টাঙ্গাইলের ১৫ জন কৃষক-কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরাসরি ১০ ধরনের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে সারাদেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। বর্তমানে প্রাথমিকভাবে ২২ হাজার কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হলেও আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে পর্যায়ক্রমে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা নববর্ষের সঙ্গে কৃষকের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক রয়েছে। কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের হিসাব-নিকাশ নতুন করে শুরুর মধ্য দিয়েই পয়লা বৈশাখের প্রচলন হয়েছে। তাই এই দিনে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কৃষকদের সেচ সুবিধা বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু), এফএও’র কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ জিয়াউকুন সি, কৃষিসচিব রফিকুল ই মোহামেদ, কৃষক আবুল হোসেন ও কৃষাণী জুলেখা আক্তার বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।