সর্বশেষ সংবাদ
সাপাহারে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ উদ্বোধন বর্ষায় দেখা নেই বৃষ্টির, হচ্ছে না জমি চাষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সুশাসন দাবিতে রাজশাহীতে ১১ দলের বিক্ষোভ মিছিল আওয়ামী লীগ আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত জুলাই শহীদের স্বজনেরা আরো শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো, সতর্কতা জাতিসংঘ’র জুলাই-আগস্টে দেশে বন্যার শঙ্কা পদ্মা নদী রক্ষায় রাজশাহীতে ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে সরকার : এমপি মিলন

রাজশাহী নগরীর রেলগেটে চাঁদাবাজের দৌড়াত্মে অতিষ্ট ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা

Paris
Update : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর বিভিন্নস্থানের মতো রেলগেট এলাকাতেও চাঁদাবাজদের দৌড়াত্ম বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আশেপাশের স্থানীয়রা একটি রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে নগদ অর্থ। হাজার হাজার টাকা বাকী খেয়ে নির্বিঘ্নে চলে যাচ্ছেন পণ্যের দাম পরিশোধ না করেই। দিনের পর দিন এমনটাই চলছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের। দোকানে ব্যবহার করা বিদ্যুৎ লাইন থেকেও তুলছেন প্রতিমাসে মাসোয়ারা। কয়েকদিন আগে বাবু নামের এক ফুটপাত ব্যবসায়ীর ড্রয়ার থেকেও জোড়পূর্বক নেয়া হয়েছে আটশ টাকা। হুঙ্কার দিয়ে বলে গেছে এখানে ব্যবসা করতে হলে চাদা দিয়েই ব্যবসা করতে হবে। তাদের ভয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট থানাতে অভিযোগ দিতেও ভয় পাচ্ছেন।
নগরীর রেলগেট এলাকার গোরহাঙ্গা গোরস্থান সংলগ্ন ফুটপাত ব্যবসায়ীরা এমনই অভিযোগ করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যবসায়ীরা বলেন, তারা কোন দলের নেতা বা তালিকাভুক্ত এ্যাকটিভ কর্মী নন। কিন্তু স্থানীয় ও প্রভাবশালী হবার কারনে তারা একটি রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের উপর এই ধরনের জুলুম করছে। প্রতিদিন তারা কয়েকজন একত্রিত হয়ে কোন না কোন দোকানে বাকি খায়। কয়েকদিনেই সেই বাকীর খাতায় জমা পরে হাজার টাকা। চাইতে গেলেই দেয়া হয় ব্যবসা বন্ধ করার হুমকি। কয়েকদিন আগে এক দোকানের ড্রয়ার থেকে বিক্রিত সমস্ত অর্থ তারা জোড়পূর্বক নিয়ে যায়। প্রতিবাদ করতে গেলেই উচ্ছেদের ভয়ভীতি দেখান তারা। তবে, যেসকল ব্যবসায়ীদের স্থানীয় ও দলীয় প্রভাব আছে তারা এই ভোগন্তি থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পায় বলেও জানান তারা।
দোকানগুলোতে লাগানো ছোট ও মাঝারি আকৃতির বৈদ্যুতিক লাইটগুলোর বিপরীতে দৈনিক ভিত্তিতে তারা টাকা তোলেন ১৫-২৫ টাকা পর্যন্ত। মাসখানেক আগে যেটা ছিল ২০-২৫ টাকা। দোকানে লাইট না জ্বলালেও দিতে হয় টাকা। বিদ্যুতের সংযোগ কোথায় থেকে নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা বলেন, অনেকদিন থেকে বন্ধ থাকা হোটেল ডালাস থেকে বিদ্যুতের সংযোগ তারাই দিয়েছেন। রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কারা এই চাঁদাবাজি ও বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছেন, এমন প্রশ্নের বিপরীতে তারা বলেন, ভাই তাদের নাম সাংবাদিকদের বললে তারা আমাদের উপর অত্যাচার করবে, এখানে ব্যবসা করতে দিবেনা। শিরোইল বাস্তুহারা এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, বছরখানেক আগে এখানে ঢোপ, টং ও ভ্রাম্যমান দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে একাধিক পক্ষের মধ্যে সৃষ্টি হয় হট্টগোলের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ফুটপাত ব্যবসায়ী গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, তাদের এই ভোগান্তি নিয়ে তারা মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাতে মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদ মামুনকে মৌখিকভাবে একটি অভিযোগ দেবেন। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে হতদরিদ্র মানুষেরা ফুটপাতের ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন। তাদের এই প্রাত্যহিক অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থানীয় প্রশাসন ও দলের নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।

 


আরোও অন্যান্য খবর
Paris