শনিবার

৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়তে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে : রিটন রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক কিশোর দেশের ৬৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকছেন : তথ্যমন্ত্রী বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হল ভ্যাকসিন, মানবদেহে সফল পরীক্ষা বাগমারার তাহেরপুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাবনায় নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে : শিল্পমন্ত্রী নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফ’র পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলো বিজিবি তানোরে যেভাবে প্রাণ গেলো ৭টি গরুর তানোরে খাল পুনঃখনন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

সশস্ত্র বাহিনী মানুষের পক্ষে থাকায় বিগত শাসনের দ্রুত অবসান : প্রধান উপদেষ্টা

Paris
Update : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫

সশস্ত্র বাহিনী মানুষের পক্ষে থাকায় বিগত শাসনের অবসান দ্রুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বুঝতে পেরেছে, সে যেকোনও কিছু করার জন্য স্বাধীন, কিন্তু একজন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য চাইলেই সবকিছু করতে পারে না। তারা একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী, যেখানে সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতিতে একজন সেনা সদস্য কী করতে পারে! আমি নিশ্চিত যে এ নিয়ে বিতর্ক আলোচনা হয়েছে। সেনা সদস্যরা এমন পরিস্থিতিতে করবে কি- ছাত্রদের সঙ্গে যুক্ত হবে নাকি সরকারের। এই প্রশ্নে বিভক্ত হয়ে পড়ার কথা যে কারও পক্ষে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ একটি সৌভাগ্যবান দেশ যে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রধানদের নেতৃত্বে দেশের মানুষের পক্ষে প্রতিশ্রুত ছিল। যার কারণে বিগত শাসনের অবসান দ্রুত হয়েছে। বুধবার (১৯ নভেম্বর) মিরপুর সেনানিবাসে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে ডিএসসিএসসি-২০২৫ এর গ্র্যাজুয়েশনে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, তবে এই অবসান সব সমস্যার সমাধান না। এটি নতুন আরও সমস্যা সৃষ্টি করে স্থিতিশীল হতে। কিন্তু বাংলাদেশ সৌভাগ্যবান যে তার দেশের সশস্ত্র বাহিনী দাঁড়িয়েছে। ফলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পেরেছি। জাতির সব আশা আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের কাজ করা গেছে। কারণ, তাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের এই উত্তরণের মুহূর্তে যেটাকে আমরা বারবার বলছি, একটি নতুন বাংলাদেশে রূপান্তর; এ সময় আপনাদের এখানে অবস্থান খুবই গৌরবের। আমরা যা যা করছি সেটা খোলা চোখে দৃশ্যমান। দেশের কী অবস্থা ছিল সেটা সম্পর্কে আপনারা অবগত আছেন, তরুণরা বিপ্লবী হয়েছিল, রক্ত দিয়েছে, বুলেটের বিরুদ্ধে বুক পেতে দিয়েছে, এর ফলে ওই শাসনামলের অবসান হয়েছে এবং নতুন একটা দেশের সূচনা হয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা নয়, এটি বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষা। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও আনন্দময় পরিবেশে আয়োজন করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৪টি দেশের তরুণ সামরিক কর্মকর্তাদের হাতে সনদ তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা। এ বছর চীন, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের ৩১১ জন অফিসার প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেন। নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, দেশবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে একটি শান্তিপূর্ণ উৎসব এবং আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত করতে আমাদের সেনাবাহিনীর সহায়তা একান্তভাবে কামনা করছি। কোর্সে অংশগ্রহণকারী অফিসাররা অনুষ্ঠানে অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত ও পেশাগত ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাদের মতে, জাতীয় যে কোনো সংকটময় মুহূর্তে এই প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে। এক বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারী বলেন, ডিএসসিএসসি-তে এই কোর্সে আমরা যে নেতৃত্ব, কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেছি, তা আমাদের দেশের এবং এর বাইরে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করবে। বিশেষ করে যে কোনো জাতীয় সংকটে আমরা আমাদের অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করতে প্রস্তুত। চীন থেকে অংশ নেওয়া এক অফিসার বলেন, বাংলাদেশের এই সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে চলেছে। ২৩টি দেশের সহকর্মীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাওয়ায় আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী হয়েছে। আমরা আশা করি, এই জ্ঞান ভবিষ্যতে আমাদের নিজ নিজ দেশকে নিরাপত্তা দিতে কাজে লাগবে। বাংলাদেশি আরেক অফিসার প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, আমাদের প্রধান উপদেষ্টা যে কথাগুলো বলেছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমরা আশা করি, আমরা যারা এই কোর্স সম্পন্ন করলাম, তারা দেশ রক্ষায় এবং প্রয়োজনে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে, যেমন: একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ায়, আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত থাকব।-এফএনএস

 


আরোও অন্যান্য খবর
Paris