স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র আয়োজিত রাজশাহী বিভাগীয় বইমেলার উদ্বোধন হল। সর্বমোট ৯০টি স্টল রয়েছে এই মেলাতে। আগামী নয় দিন (১-৮ নভেম্বর) বেলা তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মেলা চলবে। শুধু সরকারি ছুটিরদিন মেলা খোলা থাকবে সকাল এগারোটা থেকে রাত্রি আটটা পর্যন্ত। নতুন পাঠক সৃষ্টির লক্ষ্যেই ঢাকার বাইরে এইপ্রথম আয়োজন করা হয়েছে বিভাগীয় বইমেলা। ভালমানের প্রকাশনা ও ভালমানের বই এই মেলাতে স্থান পেয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। বই নিয়ে যারা ব্যবসা করবেন তারা ব্যবসায়ী। তাই মানসম্পন্ন প্রকাশক ও লেখকের গুরুত্ব বেশি বলে বক্তব্যে জানান অতিথীরা। বইমেলার পুরো মাঠজুড়েই ছিল পানি আর কর্দমাক্তবস্থা। আয়োজন দায়সাড়া গোছের কিছু দায়িত্ব পালন করেছে। মেলা মাঠের প্রবেশদ্ধারের ভেতরে যতসামান্য কিছু ভরাটবালি ফেলা হলেও পুরো মাঠজুড়ে ছিল পানি আর কর্দমাক্ত অবস্থা। কাদা আর জমে থাকা পানির জন্য স্টলগুলোতে উপচে পড়া ভিড়ের পরিবর্তে লক্ষ্য করা গেছে শূণ্যতা। কাদাপানির জন্য স্টলগুলোতে বই বিক্রি হয়নি বললেই চলে। ক্রেতাশূণ্যতার জন্য বিক্রেতাদের বিক্রির মার্জিন ছিল শূণ্যের কোঠায়। ৪৩ নং স্টল আহমেদ পাবলিশিং হাউজের আরফান বলেন, আমি বিভিন্ন জেলার বইমেলাতে অংশগ্রহণ করি। রাজশাহীর মেলার মাঠে জমে থাকা পানি আর কর্দমাক্ততার কারনে স্টলের সামনে ক্রেতারা আসছেনা। কিছুটা সাবলীলভাবে চলাফেরার জন্য আয়োজকদের উচিত ছিল কয়েক ট্রাক বালু ফেলা। কিন্তু সেটা তারা করেনি। প্রথমদিন মাত্র একটি বই বিক্রি হয়েছে। অনুপম প্রকাশনির শাখাওয়াত হোসেন বলেন ২৫ শতাংশ ছাড় দিয়েও ক্রেতা নেই। জমে থাকা পানি আর কর্দমাক্ত মাঠের কারনে স্টলের সামনে ক্রেতারা আসছেননা। কথাপ্রকাশ, শিখা প্রকাশনী, গ্ৰন্থরাজ, নবকথন প্রকাশনীসহ প্রায় প্রতিটি স্টলের সামনেই ছিল কর্দমাক্তবস্থা ও জলাবদ্ধতা। আগেরদিন

বৃহস্পতিবার রাতে বৃষ্টি হবার কারনে মেলার মাঠজুড়ে জমেছে পানি। আয়োজকরা শুধু মূল ফটক থেকে অতিথীদের স্টেজ পর্যন্ত বালি-মাটি ফেলেছেন। অথচ মেলার মূল আকর্ষণ বইয়ের স্টলগুলোর সামনে কর্দমাক্তবস্থা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বিন্দু পরিমানও কোন উদ্যোগ নেয়নি আয়োজকরা বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী কালেক্টরেট মাঠে মেলার উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ এনডিসি। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান পিপিএম (বার), রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হামিদুল হক, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম প্রমূখ। সৃজনশীল মানুষ গড়ে তোলার জন্য বই একটি বিশেষ সহায়ক উপকরণ।
প্রধান অতিথী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ এনডিসি নিজ বক্তব্যে বলেন, শিক্ষক সমাজের কাছে বিশেষ একটি অনুরোধ করে বলেন, শিক্ষকসমাজ পাঠদানকালে শিক্ষাকে মজা কর পড়াতে হবে। জনগণের দাবি থাকলে এই মেলা নয়দিনের স্থলে পনেরোদিন বৃদ্ধির জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করবো। আরএমপির পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, জ্ঞান অর্জনই শুধু শিক্ষা নয়। সমাজকে ভালকিছু দিতে পারাটাই প্রকৃত শিক্ষা। এই মেলার মাধ্যমে পাঠকগণ নিজেদের ভাললাগা বইগুলো কেনা ও পড়ার সুযোগ পাবেন। জেলা প্রসাশক আফিয়া আখতার বলেন, জ্ঞান অর্জনের সমারোহ তৈরি করাই বই মেলা আয়োজনের মূখ্য উদ্দেশ্য। বাচ্চারা আজ মোবাইলের স্ক্রিনের প্রতি আসক্ত বেশি। তাই বই পড়ার প্রতি আগ্ৰহ বৃদ্ধি করতে হবে।