শুক্রবার

১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী শুধু স্বপ্ন দেখাচ্ছেন না, স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করেও দেখাচ্ছেন : রাসিক প্রশাসক বন্ধ চিনিকলগুলোতে আশার আলো মোস্তফার ভরসা বুকে বাঁধা বেয়ারিং গাড়ি রাজশাহীকে পরিকল্পিত মহানগর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে: ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীর লিচুতে ৬০ কোটি টাকা বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা অবশেষে জেল ফটকে অপেক্ষারত তিন শিশু ফিরে পেল মায়ের কোল

রাজশাহীতে ভাসমান খাবারের দোকান বাড়ছে, সুরক্ষা নিয়ম অমান্য

Paris
Update : বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

আল সাকিব হোসেন : ‎রাজশাহী নগরীতে বিগত কয়েক বছরে ভাসমান খাবারের দোকান বেড়েছে কয়েক গুন। বর্তমানে নগরীর জিরো পয়েন্ট, ভদ্রা, তালাইমারি, বিনোদপুর, সিএন্ডবি মোড়, রাণীবাজার, নিউমার্কেট ও নগরভবনসহ প্রায় প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ স্থানের রাস্তার পাশের ভাসমান খাবারের দোকানগুলোর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন দোকান যুক্ত হচ্ছে এসব স্থানে। এসব দোকানের খাবারগুলো যেমন দামে সস্তা তেমন দেখতে ও খেতে লোভনীয়। ফলে ক্রেতাদের এগুলোর প্রতি আকর্ষণও বাড়ছে। এছাড়া স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভবান হওয়া যায় বলে অনেক শিক্ষিত বেকাররাও এই স্ট্রিট ফুডের দোকানগুলোর দিকে ঝুঁকছেন।
‎রাজশাহী শহরে এই ভাসমান খাবারের দোকানগুলোর বেশ কদর রয়েছে। এই শহর শিক্ষার্থীদের শহর বললেও ভুল হবে না। আর শিক্ষার্থীরা কম দামে লোভনীয় খাবারের খোঁজ করতে থাকে। ফলে ভাসমান এসব খাবারই তাদের পছন্দের তালিকায় থাকে। আর এসব ভাসমান দোকান থেকে তারা খাবারের পাশাপাশি টাকা দিয়ে ধূলাবালি ও রোগজীবাণুও কিনে খাচ্ছে। কেননা নগরীর প্রায় সকল ভাসমান খাবারের দোকানে নেই কোন সুরক্ষা ব্যাবস্থা।
‎রাস্তার পাশের এসব লোভনীয় খাবারের দোকানগুলোতে যে শুধু মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও শিক্ষার্থীরা ভিড় জমায় তা না কিন্তু নয় এখন এসব খাবারের দোকানে অভিজাত শ্রেণীর মানুষরাও ভিড় করছেন। তবে এসব খাবারের দোকানগুলো এদেশের বেকার সংখ্যা দূরীকরণে সাহায্য করলেও স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। কেননা এসব খাবারের দোকান গুলোতে মানা হয়না কোন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ম। ফলে এসব খাবার খাওয়ার পর নিয়মিত অসুস্থ হয় ক্রেতারা।
‎এ বিষয়ে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু বলেন, ফুটপাতের ব্যাবসায়ীদের খাবার বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কোন ধরনের জবাবদিহিতার প্রয়োজন পড়ে না কেননা তাদের খাবার বিক্রয়ের ব্যাপারে সরকারি কোন তদারকি হয় না। এছাড়া এসব ভাসমান দোকানগুলো করতে সরকারিভাবে কোন ধরনের অনুমতি বা লাইসেন্স এর প্রয়োজন পড়ে না। ফলে দোকানিরা কি বিক্রি করছে এবং ক্রেতারা কি খাচ্ছে সে বিষয়ে দেখভাল করারও কেউ নেই। আমরা আমাদের জায়গা থেকে কয়েক বার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছি। তবে এই বিষয়টার সাথে একটা বিশাল জনবল জড়িত আছে ফলে এদেরকে নিয়মের মধ্যে আনাটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কেননা বেকারত্বের কথা মাথায় রেখে এদের একবারে উচ্ছেদ না করে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও নিয়ম-নীতির মধ্যে আনলে ফুটপাতের খাবার ও নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকরভাবে গ্রাহককে পরিবেশন করা যাবে। আর এই বিষয়টা নিয়ে সরকারের কাজ করা উচিৎ বলে মনে করছি।‎ খাবারে যখন মান বজায় রাখা সম্ভব হয় না, তখনই বিবিধ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। খাবার দোকান ও হাসপাতালের সমান্তরাল সংখ্যাধিক্য প্রতীকী অর্থে এ বাস্তবতা তুলে ধরে যে আমাদের খাবারের মান স্বাস্থ্যসম্মত নয়, ফলে নানা রোগে আক্রান্ত হতে হয়। অনেক কারণও আছে, তবে এটি একটি বড় কারণ। ‎ক্রেতারা বলেন আমরা অনেক সময় রাস্তার পাশে ফুচকা, চটপটি, বার্গার, শরবত, আখের রস, ঝালমুড়ি, আচারসহ নানা ধরনের লোভনীয় খাবার দেখে লোভ সামলাতে পারি না। তাই বাধ্যহয়ে স্বাস্থ্যকর না হওয়া সত্ত্বেও এসব খাবার খেয়ে থাকি এবং অসুস্থ হলেও সুস্থ হয়ে আবারও এগুলাই খায়। তবে এসব ব্যাবসায়ীদের একটা নিয়মের মধ্যে এনে সরকারি তদারকি করা হলে এসব খাবারও কিছুটা স্বাস্থ্যকর হতে পারে এবং নিম্ন আয়ের মানুষরাও নিরাপদে এগুলো খেতে পারবে।
‎বিক্রেতারা বলেন আমরা কম পুঁজিতে ব্যাবসা করি এজন্য সবসময় স্বাস্থ্যকর ভাবে খাবার পরিবেশনা করতে পারি না। আবার আমাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সরকারিভাবে কোন সহযোগীতা করা হয় না ফলে আমরা সঠিক নিয়মে ব্যাবসা করতে পারিনা।
‎রাজশাহী কলেজেরই একজন উদ্যোক্তা বলেন আমি নিজেও ফুটপাতে ব্যবসা করি এবং চেষ্টা করি গ্রাহককে ভালো খাবার উপহার দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমাদের মত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের যদি সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে খাবারের সুরক্ষা বজায় রাখার উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হত তাহলে আমরা পরিচ্ছন্নভাবে খাবার বিক্রয় করার সুযোগ পেতাম।
‎এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা. রাজিউল করিম বলেন, ফিটপাতে ভাসমান খাবারের দোকানগুলোতে খাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সবসময় নিরুৎসাহিত করি। তারপরও সাধারণ জনগন এগুলা খাচ্ছে। আর খাবারের নিরাপত্তা দেখার দায়িত্ব সমসয় নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের। এধরনের খাবার খেলে পেট ব্যাথা, ডায়রিয়া, আমাশয়, খিচুনিসহ নানা ধরনের রোগ হতে পারে। তবে ক্রেতারা সচেতন হলে বিক্রেতারাও খাদ্য সুরক্ষার বিষয়গুলোতেও নজর দিতে বাধ্য হবে বলে মনে করি।
‎জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক মোঃ ইব্রাহীম হোসেন জানান, আমরা নিয়মিত মনিটরিং করি কিন্তু ফুটপাতে ব্যবসা করার অনুমোদন কারা দেয় সেই বিষয়ে আমাদের ধারণা নাই। ফুটপাতে এধরনের ব্যাবসার কোন অনুমতিই তো নাই। এরপরেও আমরা আমাদের জায়গা থেকে সচেতন করে থাকি তবে এগুলো খাবার গ্রহনের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সচেতন থাকতে হবে। ‎রাজশাহীতে এধরনের ফুটপাত ও রাস্তার পাশে কতসংখ্যক এমন খাবারের দোকান রয়েছে এর কোনো হিসাব সরকারের বা সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে নেই। একই সঙ্গে মান নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখার বিষয়গুলোও দেখার জন্য নেই কার্যকর ব্যবস্থা। এ থেকে সহজেই অনুমান করা যায়, মান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris