সোমবার

২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পবায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে পতিত জায়গায় মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ

Paris
Update : শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫

ইউসুফ চৌধুরী : রাজশাহী নওগাঁ মহাসড়কের রাস্তার ধারে সরকারী অথবা মালিকানাধীন পতিত জায়গায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে নিরাপদ, পুষ্টিকর ও বিষমুক্ত শাকসবজি চাষ করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পতিত জায়গায় চাষাবাদের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। রাস্তার ধার, ডোবা, নালাসহ যে সকল পতিত জায়গা পড়ে আছে সেখানে মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হবে। সেইলক্ষ্যে পবা উপজেলা পরিষদ গেট থেকে এয়ারপোর্ট গেট পর্যন্ত শাকসবজি চাষ করার জন্য মাচা পদ্ধতি স্থাপন করা হয়েছে।
এখানে জায়গা পরিষ্কার, বাঁশের খুটি ও নেট দিয়ে মাচা তৈরী, চারা রোপন বা গাছ লাগানোসহ সবকিছুই পবা উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত¦াবধানে হচ্ছে। এখানে লাউ, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়ো, পুইশাক, করলা, ঝিঙ্গা, চিচিংঙ্গা, পটোল, বরবটি, শসা, সীমসহ আরও নানা ধরনের সবজি উৎপাদন হবে। এই জায়গায় যেসব সবজি চাষ করা হবে, সেখানে যাদের জমি অথবা ঐ জায়গাটা যার বাড়ীর সামনে আছে সে পরিবারগুলোই এসব উৎপাদিত সবজি ভোগ করবে। উদ্দেশ্য হলো এসব দেখে যেন কৃষকসহ পথচারী সাধারণ মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়। দেশের বিভিন্ন রাস্তার ধার, নদীর ধার, খাল, বিল আনাচে-কানাচে আরো যেসব জায়গা খালি পড়ে আছে সেখানে তাঁরা এভাবে হেন চাষাবাদ করে, কোন জায়গা যেন খালি পড়ে না থাকে। আবার লেখাপড়া শেষ করে যারা বেকার বসে আছেন তাঁরা একাই অথবা কয়েকজন মিলে যদি এভাবে সরকারী রাস্তার ধার, নদীর ধারসহ বিভিন্ন জায়গায় চাষাবাদের উদ্যোগ গ্রহন করেন। এই উদ্যোগ গ্রহনের ফলে সেখানে তাদের বেকারত্ব দূরীকরণসহ উদ্যেক্তা তৈরী ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কোন জায়গা খালি পড়ে থাকবে না বরং চাষাবাদের আওতায় আসবে। এই উদ্যোগ গ্রহনকারীদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ প্রদান, পরামর্শ এবং উপকরণ সরবরাহসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তাঁরা। উদ্যোগ গ্রহনের ফলে কৃষকের উন্নয়ন হবে, কৃষকের মানেই দেশের উন্নয়ন। এরকম নতুন উদ্যোগ গ্রহনের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে উন্নত হবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ কৃষকদের নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উঠান বৈঠক, পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ ও দক্ষ করছেন। আর উদ্বুদ্ধ হয়ে কৃষকেরা রাসায়নিক ও বালাইনাশক ছাড়াই জৈব্য সার ব্যবহার করে পতিত জমিতে শাকসবজি চাষ, পুষ্টিবাগান তৈরী, বস্তায় আদা চাষসহ বিভিন্ন চাষ ও উৎপাদন করছেন। আর এইকাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কাদে কাদ মিলিয়ে সমানতালে কাজ করছেন। সংসারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি বসত বাড়ির আঙিনায় পতিত জায়গায় উৎপাদন করছেন নানা ধরনের সবজি। কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত হয়ে সফলতা পাচ্ছেন তাঁরা।
নওহাটা পৌরসভার পাকুড়িয়া এলাকার কৃষক মো. মিঠুন আলী বলেন, ‘গোবর, গাছের লতাপাতা পঁচিয়ে জৈব সার তৈরি করছেন। এরপর এই পদ্ধতিতে জৈব সার ব্যবহার করে সবজি উৎপাদনে করছেন। এরকম পদ্ধতি ব্যবহার করে চাষাবাদ করলে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন হয়, রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ কম ও খরচ কম হয়, ফসল দেখতে সুন্দর হয়, ফলন ভালো হয় এবং দাম ভাল ভালো পাওয়া যায়। এসব দেখে অন্য এলাকার কৃষকেরাও এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন।’
পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বর্তমান সময়ের মূল চ্যালেঞ্জ হল নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করা। সেই লক্ষে আমরা ডোবা, পুকুর পাড় বা রাস্তার ধারের পতিত জমিগুলিতে মাচা পদ্ধতিতে শাকসবজি চাষের উদ্যোগ গ্রহন করেছি। আশা করছি অন্যরাও এইটি দেখে নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনবেন।’ নওহাটা পৌরসভা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন দেওয়ান বলেন, ‘কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে উৎপাদিত ফসল বেশি পায় এতে কৃষকরা সাময়িকভাবে লাভবান হলেও এসব সবজি খেয়ে রোগ-বালাইসহ একদিকে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে। আবার মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ, প্রকৃতির উপকারী পোকা মাকড় ধ্বংস হওয়ায় পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জৈব বালাইনাশক ও পোকা দমনের জন্য সেক্স ফেরোমন ফাঁদ, রঙিন আঠালো ফাঁদ ও বিষটোপ, জৈব সার ব্যবহার করে সবজি উৎপাদন করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছেন।’


আরোও অন্যান্য খবর
Paris