শুক্রবার

১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী শুধু স্বপ্ন দেখাচ্ছেন না, স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করেও দেখাচ্ছেন : রাসিক প্রশাসক বন্ধ চিনিকলগুলোতে আশার আলো মোস্তফার ভরসা বুকে বাঁধা বেয়ারিং গাড়ি রাজশাহীকে পরিকল্পিত মহানগর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে: ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীর লিচুতে ৬০ কোটি টাকা বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা অবশেষে জেল ফটকে অপেক্ষারত তিন শিশু ফিরে পেল মায়ের কোল

পদ্মা নার্সিং ইনস্টিটিউটের মালিকানা প্রতারণা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে লিখে নেওয়ার অভিযোগ

Paris
Update : সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার : পদ্মা নার্সিং ইনস্টিটিউটের মালিকানা প্রতারণা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে লিখে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত দুই আসামী মাহবুবুর রহমান ও শরীফ আলী মুনমুন বর্তমানে জেল-হাজতে আছেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী শরিফুল ইসলাম তার পরিচালনায় রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান বিমান বন্দর রোডে ৪ তলা বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে পদ্মা নার্সিং ইনস্টিটিউট নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুরু করার পরিকল্পনা করেন। এরই প্রেক্ষিতে যাবতীয় ইক্যুইপমেন্ট সামগ্রী ক্রয় পূর্বক যথাযথ ল্যাব ও ক্লাসরুম সন্নিবেশিত করে প্রতিষ্ঠানের স্টাফ নিয়োগ করে বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল কর্তৃক প্রনীত নিয়ম অনুসারে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক একাউন্ট এবং দশ লাখ টাকার এফ.ডি.আর সম্পাদনও করেন তিনি।
মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হওয়ায় প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম একটু স্থবির হয়। এহেন অবস্থায় আমেনা মেডিকেল এসিস্টেন্ট ট্রেনিং স্কুল তালাইমারী এর পরিচালক বিবাদী মাহাবুর রহমান বাদী শরিফুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন। ওই সময় মাহাবুর রহমান তাকে মৌখিক প্রস্তাব দেন যে, তালাইমারীতে তার আমেনা ম্যাটস্ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। ওই ভবনেই যদি পদ্মা নার্সিং ইনস্টিটিউটটি পরিচালনা করা হয় তাহলে খরচ সংকুলান হবে। এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে শরিফুল ইসলাম সেখানে পদ্মা নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থানান্তর করেন। পরবর্তিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০২০ সালের পহেলা জুন পদ্মা নার্সিং ইনস্টিটিউট (স্বারক নম্বর ৫৯.০০.০০০০.১৪৩.০৬.০২.২০১৮-১৩০/১(৬)) এর অনুমোদন প্রদান করেন।
পদ্মা নার্সিং ইনস্টিটিউট অল্প দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে আস্থা ও জনপ্রিয়তা পায়। ঠিক সেই সময় লোভের বশবর্তী হয়ে মামবুর রহমান ও শরীফ আলী মুনমুন ইনস্টিটিউটি দখলের পায়তারা শুরু করে। ওই দুই জন মালিকানা নিয়ে নিতে ব্যাপক ভাবে তোড়জোড় শুরু করে এবং শরিফুল ইসলামকে নানাবিধ ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে।
এক পর্যায়ে ২০২১ সালের পহেলা মার্চ সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিট শরিফুল ইসলামকে ফোন করে রাজশাহী মহানগরীর জিরোপয়েন্টে জলিল বিশ^াস মার্কেটে ডাকেন ওই দুই জন। শরিফুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হলে আসামী শরিফ আলী মুনমুন তাকে বলেন যে, তুমি বাহিরের লোক, ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে তুমি প্রতিষ্ঠান চালাতে পারবে না। সে সময় তারা আরো ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন যে, চাঁদার টাকা না দিতে পারলে আমাদের নামে প্রতিষ্ঠান স্ট্যাম্পে লিখে দাও আমরা প্রতিষ্ঠান চালাবো। এভাবে কয়েক ঘণ্টা তাকে আটকিয়ে রেখে জোর পূর্বক মাহাবুর রহমান তার নামে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যে দেখিয়ে তিনশত টাকার একটি স্ট্যাম্পে শরিফুল ইসলামকে নানান ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জোর করে স্বাক্ষর করে নেয়। চুক্তিনামাটি ছয় মাসের মধ্যে রেজিষ্ট্রি করার বিধান থাকলেও তা রেজিষ্ট্রি না করে শুধুমাত্র নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে তালিকাভুক্ত করা হয়। পরবর্তিতে শরিফুল ইসলামকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠান হতে বের করে দেয়।
শরিফুল ইসলাম জানান, এতে তার প্রায় ২ (দুই) কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয় এবং মান সম্মান ক্ষুন্ন হয়। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ নানান কারণে তিনি এতে দিন কোন আইনী ব্যবস্থা নিতে পারেননি। এর সঙ্গে বিবাদীরা নানানভাবে লাগাতার হুমকি দিয়ে আসছেন তাকে। বর্তমান পরিবেশ অনুকূলে হওয়ায় থানায় মামলাটি চলতি বছর ০২ সেপ্টেম্বর দায়ের করেছেন তিনি। ওই মামলার প্রেক্ষিতে দুই অভিযুক্ত মাহাবুর রহমান ও শরীফ আলী মুনমুন আদলত থেকে আপসের শর্তে জামিন নেন। পরের ধার্য্য তারিখের আগেই আপোষ করে নেয়ার কথা থাকলেও তারা তা করেনি। সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর আবার আদালতে হাজির হলে অভিযুক্ত দুই জনকে জেল-হাজতে প্রেরণ করেন বিচারক। শরিফুল ইসলাম আরো অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ বিষয়টি নিয়ে তাকে বিপদে ফেলতে নানানভাবে অপচেষ্টা করে যাচ্ছেন। এরমধ্যেই তার বিরুদ্ধে চলতি বছর ১৪ অক্টোবর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন মাহবুর রহমান। শুধু তাই না, তার দায়ের করা মামলা উঠিয়ে নিতে তাকে নানানভাবে হুমকিও দেয়া হচ্ছে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে। এ নিয়ে তিনি প্রাণনাশের আশঙ্কাতেও ভূগছেন।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris