বুধবার

১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী লিবিয়ায় অপহৃত মান্দার আলমগীরের মৃত্যু, আড়াই মাস পর মরদেহ শনাক্ত রাজশাহীতে ক্লুলেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, বিএনপি নেতাসহ ২ জন গ্রেপ্তার পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি বিএমডিএ’র ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা নতুন সরকারের অধিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়তে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে : রিটন রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক কিশোর দেশের ৬৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকছেন : তথ্যমন্ত্রী

সুমিষ্ট খেজুর গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যে দুর্গাপুরে গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষীরা

Paris
Update : রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৪

মোবারক হোসেন শিশির : শীতের মৌসুম শুরু হতে না হতেই আবহমান গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য খেজুরের রস আহরণে দুর্গাপুর প্রতিটি গ্রামে গ্রামে গাছিরা গাছ প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় শীতের আগমন উপলক্ষে অগ্রিম খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রস্তুতি নিচ্ছে গাছিরা। এ বছর রাজশাহীর দুর্গাপুরে উপজেলায় খেজুর রস থেকে দুই কোটি টাকার ওপরে গুড় উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। সুস্বাদু এ গুড় নিজ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে সারাদেশে সরবরাহ করা হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, শীতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস।
দুর্গাপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে খেজুর রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা খেজুরগাছ কাটার কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর সপ্তাহ দুইয়েক পর গাছ থেকে রস সংগ্রহের পর্ব শুরু হবে। এখন খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রতি দুর্গাপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রামে চোখে পড়ছে। খেজুর রস ও গুড়ের জন্য এ উপজেলার এক সময় খ্যাতি ছিল।
বরিদবাশাইল গ্রামের গাছি আফজাল হোসেন বলেন, গাছের ডালপালা পরিস্কার ও চাঁচা ছিঁলার কাজ চলছে। বাপ দাদার পেশা এখনও ধরে রেখেছেন। তার ৮০টি খেজুর গাছ চাঁচা ছিঁলার কাজ চলছে। এক সপ্তাহ সময় লাগবে পুরো কাজ শেষ হতে। তারপর গাছে গাছে ঘাট কেটে রাখা হবে। শীতের শিশির যত বাড়বে ঘাট দিয়ে রস গড়িয়ে পড়তে শুরু করবে। তিনি আরও বলেন, তার জমির আইল এ নিজস্ব গাছ রয়েছে ৪০টি। আরও ৪০টি গাছ তিনি বর্গা নিয়েছে। এ শীত মৌসুমে দাম ভাল থাকলে এসব গাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার মত গুড় বিক্রি করতে পারবেন।
রাজশাহীর দুর্গাপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, উপজেলায় ১০হাজারেরও বেশি খেজুর আছে। বছরে এক কোটি টাকার ওপরে গুড় উৎপাদন করা হয়। নিজ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে সারাদেশে যায় এ অঞ্চলের সুস্বাদু খেজুর গুড়। শীতকালীণ মৌসুমি এ পেশায় উপজেলার প্রায় সাড়ে ৭হাজার চাষি সম্পৃক্ত রয়েছে। অতীতে এ উপজেলা শীতকালে রস সংগ্রহের ব্যপকতা আরও বেশি ছিল। ইট ভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করায় বর্তমানে দিন দিন গাছের পরিমাণ কমছে। এখনও শীতকালে শহর থেকে মানুষ দলে দলে ছুটে আসে গ্রামে খেজুর রস খেতে। শীতের পুরো মৌসুমে চলে রস, গুড়, পিঠা, পুলি ও পায়েস খাওয়ার পালা। এছাড়া খেজুর পাতা দিয়ে আর্কষণীয় ও মজবুত পাটি তৈরি হয়। দুর্গাপুর পৌর এলাকার কাঠালবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল কাদের জানান, আমরা পেশাগত কারণে প্রায় প্রতি বছরই খেজুরগাছ মালিকদের কাছ থেকে চার মাসের জন্য গাছ বর্গা নিয়ে থাকি। গাছ ভেদে পাঁচ থেকে সাত কেজি করে খেজুরের গুড় দিতে হয় মালিকদের। এবারও প্রায় ২০০টি খেজুর গাছের জন্য মালিকদের সাথে চুক্তি করেছি। বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে না দিয়ে জীবন-জীবিকার জন্য এই পেশা ধরে রেখেছি। খেজুর রস সংগ্রহে অগ্রিম প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুন্তলা ঘোষ বলেন, সময়ের ব্যবধানে এ অঞ্চলেই খেজুরগাছ অনেকটাই কমছে। গাছিদের খেজুরগাছ কাটার কাজটি শিল্প আর দক্ষতায় ভরা। ডাল কেটে গাছের শুভ্র বুক বের করার মধ্যে রয়েছে কৌশল, রয়েছে ধৈর্য ও অপেক্ষার পালা। এজন্য শীত মৌসুমে আসার সাথে সাথে দক্ষ গাছিদের কদর বাড়ে। আশা করছি, আবহাওয়া ভাল থাকলে চাষিরা খেজুর গুড় থেকে অধিক লাভবান হবেন।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris