মোবারক হোসেন শিশির : রাজশাহীর দুর্গাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। এবার শুরু হয়েছে কলেজের এডহক কমিটি নিয়ে নানা নাটকীয়তা। বিএনপিপন্থি স্থানীয় নেতাদের কলেজটির এডহক কমিটির সভাপতি ঘোষণা, বাতিল ও পুনর্বহাল নিয়ে গত পনের দিনে তিন বার পত্র চালাচালি করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমন ঘটনাকে ‘তামাশা’ বলছেন কলেজটির শিক্ষকরা।
কলেজ সূত্র জানায়, এর আগে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গভর্নিং বডির কমিটির বাতিল করা হয়। পরে গত ২৪ (সেপ্টেম্বর) উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র আহবায়ক মাইনুল হক’কে কলেজের গভর্নিং বডির এডহক কমিটির সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে আদনান হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে গত ২৪ সেপ্টেম্বর একটি পত্র জারি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
পরে ৩ (অক্টোবর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গর্ভনিং বডি সংশোধন করে বিধিমালায় মাইনুল হক এর মনোনয়ন পরিবর্তন পূর্বক তদস্থলে সভাপতি হিসেবে হাসান ফারুক ইমামকে এডহক কমিটির সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী হিসাবে সাদিকুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলে আরেক একটি পত্র জারি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। হাসান ফারুক ইমাম উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক বলে জানা গেছে। উক্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারপর এই নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক। গত ৭ (অক্টোবর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি পত্র জারি করে সেখানে মাইনুল হক’কে আবারো পূর্বের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে ও আদনান হোসেনকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে বহাল রাখা হলো বলে পরিপত্র প্রকাশে জানায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কমিটি নিয়ে শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকদের মনে স্বস্তি ফিরলেও বিএনপি নেতা হাসান ফারুক ইমাম বাদ পড়ায় স্থানীয় বিএনপির একটি অংশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় দুর্গাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ। সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। গুঞ্জন সত্যি করে ৩ অক্টোবর আবারও এডহক কমিটির সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য পরিবর্তন করে পত্র দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ভাইস চ্যান্সেলরের (ভিসি) অনুমোদনক্রমে কলেজ পরিদর্শক মো. আব্দুল হাই সিদ্দিক সরকার সাক্ষরিত পত্রে জানানো হয়, ‘ ৩ অক্টোবর জারিকৃত পত্রটি বাতিল করা হলো। ৭ অক্টোবরথ জারিকৃত পত্রটিতে বলা হয়েছে একই সাথে ২৪ সেপ্টেম্বর জারিকৃত পত্রের সূত্র উল্লেখ করে মাইনুল হক’ কে সভাপতি করে এডহক কমিটি বহাল রাখা হলো।
এডহক কমিটি নিয়ে এমন বাদ-বহাল ‘খেলায়থ বিব্রত কলেজটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। তারা বলছেন, ‘ কমিটি নিয়ে এমন ঘটনা প্রমাণ করে কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন নয়, ভিন্ন কোনও উদ্দেশ্যে এমন নাটক শুরু হয়েছে। এতে করে কলেজের সাথে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে।থ পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করে কলেজটির সাবেক এক শিক্ষক প্রতিনিধি বলেন, ‘ আমরা বিব্রত। তামাশা শুরু হয়েছে। শিক্ষকরা পাঠদান করবেন নাকি কমিটি নিয়ে খেলা দেখবেন!’ সভাপতি পদ পাওয়ার পরও বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক হাসান ফারুক ইমাম সুমনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
নব গঠিত এডহক কমিটির সভাপতি মাইনুল হক বলেন, আমাকে বিধি অনুযায়ী জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় হতে এডহক কমিটির সভাপতি মনোনীক করা হয়েছিলো, কিন্তু পরবর্তীতে সভাপতি পদে আমার মনোনয়নটি অনিয়মের মাথ্যমে অবৈধপন্থায় বাতিল করে আমার সিনিয়র রাজনৈতিক নেতা হাসান ফারুক ইমাম সুমন সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন নেন। আমি ওই মনোনয়নের বৈধতা চ্যালেঞ্চ করলে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় হতে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই পূর্বক পরবর্তীতে অনুমোদন দেওয়া এডহক কমিটি বাতিল করে আমাকে পুনরায় সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। কমিটি নিয়ে এমন তামাশার বিষয়ে জানতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল হাই সিদ্দিক’কে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা দিয়ে কথা বলতে চাইলেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।