শুক্রবার

১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী শুধু স্বপ্ন দেখাচ্ছেন না, স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করেও দেখাচ্ছেন : রাসিক প্রশাসক বন্ধ চিনিকলগুলোতে আশার আলো মোস্তফার ভরসা বুকে বাঁধা বেয়ারিং গাড়ি রাজশাহীকে পরিকল্পিত মহানগর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে: ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীর লিচুতে ৬০ কোটি টাকা বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা অবশেষে জেল ফটকে অপেক্ষারত তিন শিশু ফিরে পেল মায়ের কোল

পশ্চিমাঞ্চল রেল আধুনিকায়নে চলছে ব্যাপক কার্যক্রম

Paris
Update : বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার
নিরাপদ চলাচল ও ট্রেনের গতি অক্ষুণ্ন রাখাসহ যাত্রীদের সেবার মানকে আরো আধুনিকায়নে পৌঁছানের লক্ষ্যে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে চলছে ব্যাপক কার্যক্রম। ইতোমধ্যে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্নরুটে চলাচলরত ট্রেনগুলোতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতা থাকে সার্বক্ষণিক। এছাড়াও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা রেলের নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মিতভাবে লাইন ও সেতু রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছেন। এসব কার্যক্রমে যাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুরো পশ্চিমাঞ্চল রেলে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়নের ছোঁয়া লাগছে। সেলক্ষ্যে ২০২১-২২ অর্থ বছরে এডিসি’র আওতায় ১৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। গেলবছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান প্রকৌশলী আসাদুল হক। প্রধান প্রকৌশলী জানান, নতুন এই প্রকল্পের আওতায় পুরোনো রেললাইনগুলো পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন লাইন বা ট্র্যাক ও স্লিপার পরিবর্তন করা হলে শীতের সময় রেল ব্রোকেন এবং গরমে বাকলিং হবে না। এছাড়াও পশ্চিমাঞ্চলের সব লাইন ও ট্র্যাক পরিবর্তন হবে। তিনি বলেন, নতুন এই প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী-আব্দুলপুর, আব্দুলপুর-পাবর্তীপুর ছাড়াও সান্তাহার ও কাউনিয়া রুটে নতুন করে ট্রাক ও কংক্রীটের স্লীপার স্থাপন করা হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যস্থলে পৌছানোর জন্য ডুয়েল লাইন স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধান প্রকৌশলী। এছাড়াও নতুন করে নির্মাণ করা হবে দ্বিতীয় হার্ডিংব্রীজ। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার নিমিত্তে বিভিন্ন সেকশন উন্নয়নের লক্ষ্যে সমীক্ষা, কাজের ড্রইং ডিজাইনসহ সংশ্লিষ্ট সকল কাজ চলমান রয়েছে। রাস্তা পারপারে অন্যান্য যানবাহন ও পথচারিদের জীবনের ঝুঁকি কমাতে উন্নয়নের আওতার মধ্যে আরো আছে সিগনালিং সিস্টেমের আধুনিকায়ন। রেলক্রসিংয়ের কাছে ট্রেন আসার আগেই স্বয়ংক্রীয়ভাবেই সতর্কীকরণ সিগনাল বেজে উঠবে। চলমান এই প্রকল্প শেষ হবে ২০২৫ সালে। আর এই প্রকল্প শেষ হলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে আরো আধুনিক হবে এবং যাত্রীদের সেবার মান হবে স্মার্ট ও নিরাপদ। তিনি বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানাবিধ নাশকতা ও ঝুঁকি হ্রাসে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোর গতি কিছুটা কমানো হয়েছিল। যেটি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে এখনো রয়েছে নানা কৌতুহল। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক হবার কারণে সেটি এখন প্রত্যাহার করে ট্রেনের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখন ট্রেন স্বাভাবিক গতিতেই চলছে।
রেলওয়ে সূত্র থেকে জানা গেছ, পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ১৩০টি ট্রেন চলাচল করে। শুধু রাজশাহী স্টেশন থেকে দিনে ৩৭ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনে ৫০ হাজার যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। যাত্রী নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে প্রাথমিকভাবে ২৪টি ট্রেনে সিসি ক্যামেরা সংযোজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রেল কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ রেলযাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস ও ট্রেনের শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়তা করবে। নাশকতার মতো পরিকল্পিত ঘটনা কমবে এবং জড়িতদেরও দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। একে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন যাত্রীরাও। রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী বিরতিহীন বনলতা, আন্তনগর ধূমকেতু, সিল্কসিটি ও পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়াও চিলাহাটি-খুলনা-চিলাহাটির মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এছাড়া পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, লালমনি, নীলসাগর ও একতা এক্সপ্রেস ট্রেন সিসি ক্যামেরার আওতায় আসবে। পরে পর্যায়ক্রমে অন্য ট্রেনগুলোতেও সিসি ক্যামেরা দেওয়া হবে। তবে পশ্চিমাঞ্চলের ৫৫টি মেইল ও ৩০টি লোকাল ট্রেন সিসি ক্যামেরার আওতায় আসবে না। এসব ট্রেন স্বল্প দূরত্বে চলাচল করে। পুরনো স্লীপারের জন্য বর্তমানে ঈশ্বরদী বাইপাস থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত গতি দেওয়া আছে ঘন্টায় ৯০-৯২ কিলোমিটার। নতুন ট্র্যাকে রেলের গতি হবে ঘন্টায় ১২০ কিলোমিটার।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris