সোমবার

১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে ৫ দিন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্রীড়াকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে : মিনু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের নেতাদের বৈঠক তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার : মিলন সাংবাদিকসহ জনগণের সহযোগিতা কামনা করলেন আরএমপি কমিশনার মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা যেন লোক দেখানো না হয় : জামায়াত আমির রাজশাহী কোর্ট কলেজে বরণ-বিদায় ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পেলেন কবি শামীমা নাইস ছোট্ট জান্নাতের মৃত্যু যেনো নাড়িয়ে দিলো প্রতিটি হৃদয়

চারঘাটে রেলের জমিতে দোকান মার্কেট করে অনেকেই ‘জমিদার’

Paris
Update : রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

সনি আজাদ, চারঘাট
রাজশাহীর চারঘাটে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিগুলোর বারো ভূতের কবলে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের কোনো তদারকি না থাকায় এসব জমি দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ স্থাপনা। রেলওয়ের এসব জমি দখল করে দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে অনেকেই বনে গেছেন জমিদার।
পশ্চিমঅঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, চারঘাট উপজেলা সরদহ রোড স্টেশন ও নন্দনগাছী স্টেশন নামে দুইটি রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে। ১৯২৯ সালে স্টেশন দুইটি স্থাপিত হয়। বর্তমানে সরদহ রোড স্টেশনটি চালু থাকলেও জনবলের অভাবে সাত বছর যাবত নন্দনগাছী স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আর এ সুযোগে রেলের জমি দখল করে দোকান ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় নেমেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন উপজেলার দুই স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের কার্যক্রম চালু থাকায় সরদহ রোড স্টেশন এলাকায় অপেক্ষাকৃত কম জমি দখল হয়েছে। তবে নন্দনগাছী স্টেশনে জমি দখল করে প্রতিদিনই নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে। দু এক বছরের জন্য ফসল চাষের জন্য লিজ নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দিচ্ছেন তারা। বছরের পর বছর রেলের এসব জমি বেদখল হয়ে থাকায় সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব। সেইসঙ্গে রেললাইনের দুই পাশে শত শত অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধুমাত্র নন্দনগাছী স্টেশনেই রেলের জমিতে ৩৭৬টি দোকান ও স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। অপরদিকে সরদহ রোড স্টেশনের জমি নির্মাণ করা হয়ে ৩২ টি দোকান ও স্থাপনা। রেলওয়ে সূত্রমতে-মোট ৪০৮ টি দোকানের মধ্যে রেলওয়ের অনুমোদন আছে মাত্র ৩৭টি দোকানের। কিন্তু প্রতিটি দোকানে ১৫০০-২৫০০ টাকা ভাড়া তুলছেন দখলদাররা। গড়ে ২০০০ হাজার টাকা ভাড়া হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় ৮ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা এবং বছরে কোটি টাকা ভাড়া তুলছেন এ চক্রটি। রেলওয়ের পশ্চিম অঞ্চলের পাকশী ভূসম্পত্তি কার্যালয়ের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে উৎকোচের মাধ্যমে নামকাওয়াস্তে লিজ ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এসব জমি দখল করে নিয়েছে স্থানীয় এ চক্র।
এদিকে গত এক বছরে নন্দনগাছী ও সরদহ রোড এলাকায় একাধিকবার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে করার উদ্যোগ নিয়েও কার্যক্রম পরিচালনা করেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এজন্য প্রতিনিতই রেলের জমি দখল বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নন্দনগাছী স্টেশনের পাশে নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের গেটে আল-আমিন রেস্তোরাঁ নামে একটি হোটেল গড়ে তোলা হয়েছে। রেস্তোরাঁ মালিক আল-আমিন বলেন, প্রতিমাসে ২৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে হোটেল ব্যবসা করছি। দোকান ঘরের জমি রেলের কিন্তু আমি সানাউল্লাহ নামের এক ব্যক্তির কাছে থেকে ভাড়া নিয়েছি।
এ বিষয়ে ভাড়া আদায়কারী মো: সানাউল্লাহ বলেন, নন্দনগাছী স্টেশন বাজারে আমার ৮টি দোকান রয়েছে। সবগুলোই বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেওয়া আছে। এর মধ্যে ৪টি দোকানের রেল কতৃপক্ষের লাইসেন্স আছে। তবে লাইসেন্স হিসাবে যে কাগজ তিনি উপস্থাপন করেছেন সেখানে লেখা রয়েছে, “রেল ভূমি ব্যবহার বাবদ অর্থ আদায়ের রশিদ। এ রশিদ কোনো ক্রমেই লাইসেন্স হিসাবে গণ্য হবেনা। একই এলাকায় ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, প্রতি মাসে ছোট্ট এ দোকানের ভাড়া ২ হাজার ২০০ টাকা। ভাড়া দিই ব্যবসা করি, কার জমি সেটা জানা নেই।
ওই দোকানের ভাড়া আদায়কারী নজরুল ইসলাম বলেন, আমার নামে দুইটা দোকান রয়েছে। রেলের পাকশি বিভাগের একজন লোক বছরে একবার এসে খাজনা বাবদ টাকা নিয়ে যায়। অনেকে খাজনা না দিয়েও জমি দখল করে রেখেছে। তবে খাজনা আদায় করা ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।
এদিকে নন্দনগাছী স্টেশনের দক্ষিণ পাশে রেলওয়ের জমিতে মার্কেট নির্মাণ করেছেন মিজানুর রহমান। রেল দপ্তরের অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে নির্মাণকারী মিজানুর রহমান বলেন, রেলের জমিতে দোকানঘর নির্মাণ অনেকেই করেছে। শুধু আমি একা না। রেল দপ্তরের অনুমতি এখনো নেওয়া হয়নি। তবে অনুমতির জন্য আবেদন করবো। একই অবস্থা সরদহ রোড স্টেশনেও। ওই স্টেশনের হলিদাগাছী রেলগেটসহ আশপাশে মতিউর রহমান, জয়নাল হোসেন, মানিকসহ একাধিক ব্যক্তি রেলের জমিতে মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন।
স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী অসাধু সিন্ডিকেট মাসোয়ারা নিয়ে রেলের জমিতে দোকান নির্মাণ করে লাখ লাখ টাকা ভাড়া তুলছে। সাধারণ মানুষ টাকা দিয়েই ব্যবসা করছে। রেলের জমিতে মার্কেট ও দোকান নির্মাণ করে কিছু মানুষ রাতারাতি জমিদার বনে গেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় নিমপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, আমার পরিষদের সাথের নন্দনগাছী স্টেশনের জমির দোকানেও ভাড়া তোলে কিছু ব্যক্তি। সরকারি জমি অথচ পরিষদ কিংবা রেল কেউ লাভবান হচ্ছেনা।
রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ সূত্র জানা যায়, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার ৪১৯ একর। এর বর্তমান বাজার মূল্য দুই লাখ কোটি টাকার বেশি। রেলের পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তির আওতায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ একর জমি বেদখল অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে নন্দনগাছী-সরদহ রোড স্টেশন সেকশনে প্রায় ২০০ একর সরকারি জমি রয়েছে। পশ্চিমাঅঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগের সার্ভেয়ার শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা এত দুর থেকে গিয়ে সব সময় খোঁজ নিতে পারিনা, সেজন্য অনেকেই অবৈধভাবে জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে। কিছু দোকানের জমির লাইসেন্স রয়েছে। তবে সঠিক সংখ্যা বলতে পারছিনা। সেগুলোর আমরা বাৎসরিক লিজের টাকা রশিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করি। তবে স্টেশন এলাকায় স্থাপিত অধিকাংশ দোকানেরই লাইসেন্স নেই। এ বিষয়ে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে আমাদের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়না। এজন্য কিছু জমি বেদখল রয়েছে। খোঁজ নিয়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসীম কুমার বলেন, নন্দনগাছী স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চারঘাট এলাকায় কিছু জমি বেদখল হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরেও এসেছে। স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হলে এসব স্থাপনা ভেঙে রেলের জমি দখলমুক্ত করা হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris