সোমবার

১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে ৫ দিন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্রীড়াকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে : মিনু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের নেতাদের বৈঠক তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার : মিলন সাংবাদিকসহ জনগণের সহযোগিতা কামনা করলেন আরএমপি কমিশনার মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা যেন লোক দেখানো না হয় : জামায়াত আমির রাজশাহী কোর্ট কলেজে বরণ-বিদায় ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পেলেন কবি শামীমা নাইস ছোট্ট জান্নাতের মৃত্যু যেনো নাড়িয়ে দিলো প্রতিটি হৃদয়

ওপারের মোবাইল নেটওয়ার্ক তরঙ্গের আগ্রাসনে এপারে অপারেটর বিঘ্নতা

Paris
Update : বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

শাহানুর রহমান রানা
মানুষ ক্রমাগত প্রযুক্তির দাস হয়ে পড়ছে, এমন বললে বোধহয় অত্যুক্তি হয় না। আজকাল মোবাইল এবং ইন্টারনেট ছাড়া একটি দিনও কাটানো প্রায় অসম্ভব বলে মনে হয়। পৃথিবীকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলেছে সেই জাল, সমুদ্রের তলদেশে ছড়িয়ে পড়ছে অপটিক্যাল কেবল। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র বসানো হচ্ছে মোবাইল টাওয়ার। সময় ও চাহিদার প্রয়োজনে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মোবাইল ব্যবহারকারির সংখ্যা। এনালগ থেকে ডিজিটাল অতঃপর ‘স্মার্ট ও ফাইভ-জি’ যোগাযোগ ব্যবস্থার ছোয়া এখন দেশজুড়ে। পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে থাকা মানুষদের সাথে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে মোবাইল নেটওয়ার্কের বদলতে। কিন্তু কিছুটা অবিশ^াস্য হলেও সত্য যে, রাজশাহী শহরের কিছু কিছু স্থানে মোবাইল নেটওয়ার্ক এতোটাই দূর্বল যে, দিনের অধিকাংশ সময় নেটওয়ার্ক শূণ্যের কোঠায় স্থিতিবস্থায় থাকে। বছরের পর বছর ধরে এই দূর্বল আর নেটওয়ার্কহীন বেড়াজালে কাঠাচ্ছে স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, বেশ কয়েকবার তারা একাধিক দপ্তর ও কর্তাদের লিখিত অভিযোগ দিলেও সুরাহা হয়নি আজ অবদি। ঐ সকল স্থানে ভারতীয় নেটওয়ার্কের আগ্রাসনের কারণে মোবাইল ফোনসেটের ঘড়ির সময়কে প্রভাবিত করে ত্রিশ মিনিট কমিয়ে দেয়। এইসকল স্থানে জরুরী কিংবা তাৎক্ষণিক সেবার জন্য ফোন করতে হলে পড়তে হয় চরম বিপাকে। নিজেদের বাসা-বাড়ি থেকে কমপক্ষে ৮০ থেকে ১০০ গজ দূরে গিয়ে ফোন করতে হয়। নতুনা ফোনে কথা বলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পরে বলে অভিযোগ স্থানীয় ও দুর্ভোগে থাকা মোবাইল ব্যবহারকারিদের।
সত্যতা স্বীকার করে গ্রামীণ ফোন সেন্টার রাজশাহীর ইনচার্জ সপ্নীল দৈনিক আমাদের রাজশাহীকে বলেন, নগরীর পদ্মানদী ঘেষা এলাকাগুলোর বেশ কয়েকটি স্থানে শুধু গ্রামীণফোন অপারেটরই নয়, অধিকাংশ অপারেটরগুলোর প্রায় একই অবস্থা। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)’র নিয়মানুযায়ী সীমান্তের কাছে কোন অপারেটরের টাওয়ার স্থাপন করা যাবেনা। তাই হয়তো টাওয়ার স্থাপন করা হচ্ছে না। কিন্তু, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী অঞ্চলসমূহে বিটিএস (ইঞঝ-ইধংব ঞৎধহংপবরাবৎ ঝঃধঃরড়হ) স্থাপন সংক্রান্ত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক সীমান্তরেখা হতে দেশের অভ্যন্তরে শূণ্য থেকে ৩ ও তিন থকে ৮ কিলোমিটার অঞ্চলে বিটিএস স্থাপন পক্রিয়া শর্তসাপেক্ষে চলমান রাখা যাবে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এর মালোপাড়াস্থ কার্যালয়ের জুনিয়র সহকারি ম্যানেজার (ট্রান্সমিশন) বলেন, পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধজুড়ে একটি টাওয়ার নেটওয়ার্ক কাভারেজ সেবা দিতে পারে। রাজশাহীতে বিভিন্ন সেলফোন অপারেটরের বিটিএস (টাওয়ার) সংখ্যা কত সেটি স্ব-স্ব অপারেটর কোম্পানিগুলোই ভাল বলতে পারবে বলে জানান তিনি। তবে এসম্পর্কে ঢাকাস্থ বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) কর্তৃপক্ষই ভাল বলতে পারবেন বলেও জানান ঐ কর্মকর্তা। সেবারমান আরো বেশি গতিশীল করতে পদ্মানদী সংলগ্ন স্থানে নতুন টাওয়ার (বিটিএস) স্থাপনের ক্ষেত্রে কোন বাঁধানিষেধ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিটিসিএল এর পক্ষ থেকে তেমন কোন নিষেধাজ্ঞা নেই বলেই জানি। তবে বেশকিছু নিয়মনীতি মান্য সাপেক্ষে থার্ড পার্টি ঐসকল টাওয়ার স্থাপন করে থাকে।
পদ্মানদীর পাড় ঘেষা বেশ কয়েকটি এলাকায় নেটওয়ার্ক সমস্যা স্থায়ী বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এরমধ্যে অন্যতম হলো ২৩নং ওয়ার্ড অন্তর্গত শেখেরচক, মহলদারপাড়া ও গঙ্গা মন্দির এলাকা। এসব এলাকার কয়েকশ বাসিন্দা মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ে বছরের পর বছর চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের। কখনো কখনো নেটওয়ার্ক একেবারেই মেলে না। কখনোবা নেটওয়ার্ক মিললেও সেটি এতোটাই দুর্বল যে, কয়েক সেকেন্ডও কথা বলা যায় না। কলড্রপের সমস্যাও অনেক। অপরপ্রান্ত থেকে ফোনকল কোনক্রমেই প্রবেশ করেনা এসব এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে বলে জানান ঐ এলাকার মুদি ও ভ্যারাইটিস দোকানের মালিক নূর নবী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সুমন চৌধুরী, রাসেল, অলীভ আল আসাদ, গঙ্গা মন্দিরের ঠাকুর সুমন চক্রবর্তী, তারেক সহ অধিকাংশ বাসিন্দা। ভারতীয় অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্ক এবং স্পেকট্রামের সাথে দেশীর অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্কের সাংঘর্ষিক প্রতিক্রিয়া (ইন্টারফেয়ারেন্স)’র কারণে দেশীয় অপারেটরদের নেটওয়ার্ক তরঙ্গ বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিস্টরা। একাধিকবার সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতাও মেলে। চরম বিড়ম্বনা মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ে। মাঝেমধ্যেই হারিয়ে যায় সেটের নেটওয়ার্কের চিহৃটি। যতসামান্য নেটওয়ার্ক প্রদর্শিত হলেও কথা বলাটা অনেকটাই দুষ্কর। অষ্পষ্ট আর ভাঙ্গা ভাঙ্গা স্বরে ভেঁসে আসে অপর প্রান্তের কথা।
সূত্র বলছে, মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার জন্য এলাকাভিত্তিক বেজ ট্রান্সসিভার স্টেশন বা বিটিএস বসানো হয়, যা মোবাইল টাওয়ার নামে পরিচিত। দেশে এখন গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটক এই চারটি মোবাইল অপারেটর রয়েছে। একসময় এই অপারেটরগুলো নিজেরা মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিচালনার জন্য টাওয়ার (বিটিএস) বসাত। ২০১৮ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) চারটি টাওয়ার কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয়। ইডটকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড, সামিট টাওয়ারস লিমিটেড, কীর্তনখোলা টাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড ও এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেড এই চার প্রতিষ্ঠান এখন টাওয়ার বসানো ও পরিচালনার কাজ করছে। যদিও রাজস্বের দিক দিয়ে ইডটকোর বাজারহিস্যা ৯৮ শতাংশের মতো। অন্যদিকে তাদের টাওয়ার সংখ্যা মোট টাওয়ারের ৮৫ শতাংশের বেশি। যার কারণে এই অপারেটরটির ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নতুন নিয়মানুযায়ী, একটি মোবাইল অপারেটর যদি একটি প্রান্তিকে ১০০টি টাওয়ার তৈরি করে, তার ২৫টির অধিক তৈরির দায়িত্ব দিতে পারবে না ইডটকোকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী ব্যবহারবকারিদের অনেকেই জানান, ভারতের বহরমপুর ও কলকাতা এলাকার স্বজনদের সাথে কথা বলার জন্য এখানের অনেকেই ভারতের বেশকিছু কোম্পানির সীম কার্ড ব্যবহার করে। স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, ভারতের রিলায়েন্স, ভোডাফোন (বর্তমানে ঠর নামে পরিচিত) ও এয়ারটেলের নেটওয়ার্ক দেশীয় অপারেটরগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্থ করছে। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে শেখেরচক, মহলদারপাড়া ও গঙ্গা মন্দির এলাকার বেশ কয়েকজন বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ি এই ব্যবসা থেকে সড়ে আসছেন। চরম ভোগান্তির কারণে কেউবা ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার কথাও ভাবছেন। গঙ্গা মন্দির ঠাকুর সুমন চক্রবর্তী, তারেক, নূরনবীসহ আরো অনেকেই দৈনিক আমাদের রাজশাহীকে জানায়, জরুরী ভিত্তিতে কোথাও ফোন করতে গেলে হিমশিম খেতে হয়। বাসা থেকে হেটে হেটে একশ মিটার উত্তর কিংবা পশ্চিম-উত্তরে গেলে কোনরকম কথা বলা যায়। বিষয়টি খুব বিব্রতকর।
সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য সূত্র মতে, বাংলাদেশ সীমান্তের অনেক এলাকায় দুই দিকের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক মাঝেমধ্যে এমন হয় যে, একটি আরেকটির ওপর ওভার ল্যাপ করে। এ সমস্যার কারণে কখনো সীমান্তবর্তী এলাকায় দেশি মোবাইল ফোনে কথা বললেও সেটি ভারতীয় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক হয়ে আসে। যার কারণে সেটি রোমিং কল হিসেবে বিবেচিত হয়। সূত্র মতে, এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করতে গ্রামীণফোন এবং রবি সীমান্তে টেকনিক্যাল জরিপও করেছিল। তাতে তিনটি ভারতীয় মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কের কারণে দেশের সীমান্তে গ্রামীণফোন এবং রবির নেটওয়ার্কের সমস্যা ধরা পড়ে। ভারতের বিএসএনএল ও রিলায়েন্সের স্পেকট্রামের কারণে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোয় রবির স্পেকট্রামে ইন্টারফেয়ারেন্স হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের শীর্ষ মোবাইলফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের স্পেকট্রামের সমস্যা বাড়াচ্ছে ভারতের ভোডাফোনের স্পেকট্রাম।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris