স্টাফ রিপোর্টার : দেশজুড়ে সরকারি দপ্তর ও কার্যালয়গুলোতে সরকারি অর্থের অপচয় করার প্রবণতা কম নয়। সেই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেল পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান কার্যালয়েও। সেবামূলক খাতের নামে সরকারি কোষাগার অর্থ্যাৎ জনগণের লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো অবহেলা আর দায়িত্বহীনতার অভাবে দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। অথচ, সেটি নিয়মিত ব্যবহারের কথা াকলেও সেটি ব্যবহার করা তো দূরের কথা উক্ত অবকাঠামোটি নিয়মিত পরিস্কার করার প্রয়োজনও মনে করেন না সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষ। যার কারণে সেখানে কর্মরতরা ছাড়াও নগরীর সচেতন নাগরিকরা বিষয়টিকে সরকারি অর্থের অপচয় বা নিজেদের পকেট ভারি করার অসদ অভিপ্রায়ের সাথেই তুলনা করছেন। আরো অভিযোগ অভিযোগ অপ্রয়োজনীয় ভাবে বন্ধ করা হয়েছে উক্ত কার্যালয়ের দুটি ফটকও।
যার কারণে সেবা গ্রহীতাসহ সেখানে কর্মরতদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ অনেকের।
বলা হচ্ছিল পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের ডান পার্শ্বে দামি টাইলস্, বেসিন ও লুকিং গ্লাস দিয়ে নির্মিত হাত ধোয়ার স্থান। গেল বছরের মার্চ মাসে দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে উক্ত কার্যালয়ের প্রধান ফটকের পার্শ্বে ছাড়াও সরঞ্জাম বিভাগ, অডিট দপ্তর, প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়, টেলিযোগাযোগ বিভাগ ছাড়াও প্রায় সমস্ত রেলভবন জুড়েই বসানো হয়েছিল বেসিন। আর প্রতিটির সাথে সংযুক্ত করা হয়েছিল ওয়াসার সংযোগ। রেলভবনে আগত সেবাগ্রহীতা ও সেখানে কর্মরতদের হাতকে করোনা ভাইরাস মুক্ত করার জন্য বসানো লাখ লাখ টাকা খরচ করে একাধিক স্থানে তৈরি করা হয়েছিল হাত ধোয়ার ব্যবস্থা।
বেসিন স্থাপন করা ছাড়াও বাইরে থেকে আগত সেবাগ্রহীতাদের হাতকে ভাইরাস কিংবা জীবানুমুক্ত করার অভিপ্রায়ে সেখানে দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ডদেরকে দেওয়া হয়েছিল ¯েপ্র করা স্যানিটাইজারের বোতল। কিন্তু, কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে পূর্বের ন্যায় প্রতিরোধবিহীন সেবার ধারাবাহিকতা। আর সেই ধারাবাহিকতায় স্থান পেয়েছে সরকারি কোষাগারের লাখ লাখ টাকায় নির্মিত সেই হাত ধোয়ার ব্যবস্থাগুলোও। সেখানে কর্মরতদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, স্থাপনকৃত বেসিনগুলোতে ময়লা আবর্জনার স্তুপ এমনভাবে গ্রাস করেছে যেটা কিনা ঐসকল নামিদামি ব্যান্ডর উপকরণগুলোকে নষ্ট করছে প্রতিনিয়িত।
দেখে মনে হচ্ছে বিগত কয়েক মাস ধরে অব্যবহৃত হয়েই পড়ে আছে বেসিনগুলো। পূর্ববর্তী সময়ে সেখানে কর্মরত গার্ডরা মাঝেমধ্যে সাবান পানি দিয়ে নিজের হাত ধৌত করলেও এখন তারাও আর সেটি করেনা। আর বাইরে থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা নিজেদের হাতকে কোন প্রকার জীবানুমুক্ত না করেই নির্দ্ধিধায় জীবানু কিংবা করোনা ভাইরাস যুক্ত হাত সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করছে রেলভবনে। বিষয়টি একদিকে, কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ তো, অন্যদিকে সরকারি অর্থের অপচয় তুল্য বিষয় বলেই মন্তব্য অনেকের। আবার কেউ কেউ বলেন, এটি হতে পারে নিজেদের পকেট ভারি করার জন্য অবকঠামো তৈরি করে সাধারণ মানুষের আইওয়াস করার একটি পন্থা।
অন্যদিকে, রেলওয়ে ভবনের প্রধাণ ফটক ব্যতীত অন্য দুটো ফটক কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করেই বন্ধ করে দিয়েছে। যার কারণে ঐ দুই দপ্তর ও শাখাতে সেবাগ্রহীতাদের প্রবেশ করতে অনেকটাই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়াও সেখানে কর্মরতরাও বিষয়টি নিয়ে নানাধরনের অভিযোগ তুলছেন। গেট দুটো বন্ধ করে দেবার কারণে সরঞ্জাম বিভাগ, অডিট কার্যালয় ও টেলিযোগাযোগ শাখাতে যেতে সেখানে কর্মরতদের প্রধান ফটক হয়ে যেতে হচ্ছে। যেটা কিনা সময় ক্ষেপন ছাড়াও কিছুটা ভোগান্তির বিষয়ে প্রতিয়মান হয়েছে বলে মন্তব্য অনেকের। বিষয়গুলো সম্পর্কে জানার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাওয়া হলে সেখানে দায়িত্বরত পিয়ন জানান, স্যার এখন নাই। আপনি পড়ে আসেন।