সোমবার

৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
বিএমডিএ’র ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা নতুন সরকারের অধিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়তে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে : রিটন রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক কিশোর দেশের ৬৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকছেন : তথ্যমন্ত্রী বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হল ভ্যাকসিন, মানবদেহে সফল পরীক্ষা বাগমারার তাহেরপুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাবনায় নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে : শিল্পমন্ত্রী নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফ’র পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলো বিজিবি

দুর্গাপুর জনপ্রতিনিধিরা টিকা না নেয়ায় আস্থাহীনতায় সাধারণ মানুষ

Paris
Update : বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

মোবারক হোসেন শিশির, দুর্গাপুর : রাজশাহীর দুর্গাপুরে প্রথম পর্যায়ে ১২হাজার ৮৯০ ডোজ করোনার টিকার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারী। প্রতিদিন গড়ে উপজেলায় ৮০০জনকে টিকা দেবার সামর্থ্য থাকলে প্রতিদিন ৫০জনের গন্ডি অতিক্রম হচ্ছে না। ফলে অনেকটাই বেকায়দা পড়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। গত ৪দিনে উপজেলায় মেডিকেল, উপজেলা প্রশাসন, থানা স্টাফ ও কিছু সাধারণ মানুষ টিকা নিলেও আগ্রহ নেই নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের। ফলে জেলার টিকা নেওয়ার হার দুর্গাপুর উপজেলায় কম। গত রোববার নানা আয়োজনে স্থানীয় নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করলেও এখন পর্যন্ত তাঁরাও টিকা নেননি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজশাহী-৫ দুর্গাপুর-পুঠিয়া আসনের সংসদ সদস্য ডা. মনসুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, নারী ভাইসচেয়ারম্যান বানেছা বেগম, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব, ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম, শমসের আলী সহ অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত থাকলেও তারা এখন পর্যন্ত টিকা নেননি। ফলে সাধারণ জনগনের মধ্যে টিকা না নেওয়ার প্রবনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এদিকে, টিকা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাইকিং ছাড়াও নানা উদ্দ্যেগ নিয়েও নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধরা টিকা না নেওয়ায় সাধারনের জনগনের মাঝে টিকা নিতে আস্থা ফিরছে না বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

জানা গেছে, গড়ে প্রতিদিন উপজেলায় ৮০০জনকে টিকা দেওয়া যাবে। কিন্তু গত ৪দিনে মাত্র ২১৮জন টিকা নিয়েছেন। শুক্রবার উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ১২শ ৮৯টি ভায়াল ভ্যাকসিন আনা হয়। এ ১২শ ৮৯ ভায়াল থেকে উপজেলার ১২ হাজার ৮৯০জন মানুষকে টিকা প্রদান করা যাবে। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র ৩৫০জন লোক এ টিকা নিতে আবেদন করেছেন। এই ১২ হাজার ৮৯০ ডোজ টিকার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৮ফেব্রুয়ারী। ফলে টিকা নিতে সাধারণ মানুষের আগ্রহ না বাড়ায় অনেকটাই বেকায়দায় রয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তৃপক্ষ।

টিকা নিতে সাধারণ মানুষদের মাঝে আস্থা বাড়াতে গত রোববার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের আয়োজনে টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত। এ কর্মসূচিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ছাড়াও উপজেলার প্রায় নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তারা উদ্বোধন করে দিয়ে গেলেও কেউ টিকা নিতে আসছেন না। উদ্বোধনী দিনে হাসপাতাল ও থানা স্টাফের ১০জন টিকা নেন। এখন পর্যন্ত গত ৪দিনে টিকা নিয়েছেন ২১৮জন। এরমধ্যে অধিকাংশ মেডিকেল, থানা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা রয়েছেন। বাকি কয়েকজন শুধু মাত্র হাতেগোনা জনসাধারন। নেই কোন প্রভাবশালী নেতা বা জনপ্রতিনিধি। ফলে টিকা নিতে সাধারণ জনগনের মাঝে তেমন একটা আস্থা ফেরে নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টিকা নিতে রেজিস্ট্রেশনের পরির্বতে এখন ভোটার আইডি কার্ড হলেই চলবে মাইকে তা প্রচার করা হচ্ছে। তবুও টিকা মুখী হচ্ছে না সাধারণ জনগণ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবা খাতুন জানান, ১২ হাজার ৮৯০জন ডোজ ভ্যাকসিনের মেয়াদ শেষ হবে ১৮ফেব্রুয়ারী। প্রতিদিন গড়ে ৮০০জনকে টিকা দেওয়া যাবে। অথচ ভ্যাকসিন নেওয়ার আগ্রহ মানুষের মাঝে তেমন নেই। ইতিমধ্যে মানুষদের মাঝে আগ্রহ বাড়াতে পুরো উপজেলা জুড়ে মাইকিং করা হচ্ছে। তবুও দিনে গড়ে ৫০ বেশি টিকা দেওয়া হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত মাত্র ২১৮জন টিকা নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, জনপ্রতিনিধিরা টিকা নিচ্ছেন না। এজন্য সাধারণ জনগণ টিকামুখী হচ্ছে না। প্রতিদিন বার বার তাগাদা দেবারপরও তারা আসছেন না। উপজেলা প্রশাসনের কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর ও পল্লী বিদ্যুত সমিতি সহ নানা দপ্তরকে ডেকেও তারা আসছেন না। তিনি দ্রুত সবাই নিরাপদ টিকা নেওয়ার জন্য সবাইকে আহব্বান জানান।

জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘ দিন যাবত অসুস্থতায় বাড়িতে শয্যাশায়িত ছিলাম। বর্তমানে একটু সুস্থ হলেও আমি উচ্চ (রক্তচাপ) জনিত শারীরিক সমস্যায় ভূগছি। এজন্য টিকা নেওয়া হয় নি। তবে শীঘ্রই ডাক্তারের পরার্মশে টিকা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আগামীতে টিকাদান বাড়বে। আমি দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি যাতে তারা দ্রুত নিরাপদ টিকা গ্রহন করে।এ বিষয়ে রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর-পুঠিয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ডা. মনসুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্যে পাওয়া যায় নি।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris