স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে গতকাল শনিবার দুপুর ১টায় রাজশাহী মালোপাড়াস্থ বিএনপি দলয়ি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও বিএনপি রাজশাহী মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বিএনপি রাজশাহী জেলা আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ এর নি:শর্ত মুক্তির দাবীতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, রাসিক সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, সরকার সম্পূর্নভাবে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে আটক রখেছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ। তাঁকে এখনই বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। তাঁর চিকিৎসা ভারত ও সিঙ্গাপুর নয় অন্য দেশে করাতে হবে। কারন তাঁর যে রোগ ঐ বোরেগ চিকিৎসা পৃথিবীর মাত্র কয়েকটি দেশে হয়। কিন্তু এই অবৈধ সরকারের প্রধান, অবৈধ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী মিলে বেগম জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, রাজশাহীর জনপ্রিয় নেতা বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও বিএনপি রাজশাহী মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বিএনপি রাজশাহী জেলা আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদকে বিনা কারনে জেলে আটক করে রেখেছে। এডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে ঢাকায় আটক কের জেলে পাঠায়। সেই মামলায় জামিন পেলেও সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁর বিরুদ্ধ আরো দুইটি মামলা দিয়ে ঢাকার জেল গেট থেকে তাঁকে আবারও আটক করে। এরপর রাজশাহীর বিভিন্ন থানায় অতিউৎসাহী পুলিশ সদস্যরা বাদী হয়ে একের পর এক মালা দিয়ে আটক রাখছে। প্রধান অতিথি আরো উল্লেখ করেন, এ পর্যন্ত মিলনে নামে রাজশাহীতে ছয়টি ভূয়া মামলা দেয়া হয়েছে। ঐ সব মামলার কোন ভিত্বিত নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিলন একজন অসুস্থ মামুষ। সব সময় তাঁর চিকিৎসার প্রয়াজন হয়। তাঁর স্ত্রীও অসুস্থ। ভারতে চিতিকৎসা করতে যেয়ে টাকার অভাবে চিকিৎসা না করে তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। দিনি বলেন, মিলনের ছেলে বিদেশে পড়লেখা করে। অর্থেও অভাবে আবেং মানষিক চাপে তাঁর লেখাপড়া বন্ধ হতে বসেছে।
তিনি আরো বলেন, আবু সাঈদ চাঁদকেও বিনা কারনে আটক রাখা হয়েছে। তাঁর অপরাধ একটি জনসভায় তিনি সামান্য একটা রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছিলেন। অথচ এদেশের ফ্যাসিস্ট ও বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রী তিন বারের সব থেকে সফল প্রদানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পদ্মা সেতু থেকে টুপ করে ফেলে দিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। কই এ নিয়ে কোন পুলিশতো শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা করেনি। অথচ আবু সাঈদ চাঁদেও নামে দেশের পনেরটি জেলায় ছাব্বিশটি মামলা দিয়ে প্রতিদিন তাঁকে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় নিয়ে বেড়াচ্ছে পুলিশ। আবু সাঈদ একদিকে যেমন অত্যন্ত অসুস্থ। অন্যদিকে তিনি একজন বয়স্ক মানুষ। তাঁর বয়স এখন বাহাত্তর বছর। এই একজন বয়স্ক মানুষকে এভাবে এই স্বৈরাচার সরকার হয়রানী করছে। মিনু আরো উল্লেখ করে বলেন, আবু সাঈদ এর স্ত্রীও খুব অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কখন কি হবে কেউ বলতে পারছেনা। এ অবস্থায় বেগম জিয়া, মিলন, চাঁদ দ্রুত মুক্তি দাবী করেন। এক সপ্তাহের মধ্যে মুক্তি না দিলে রাজশাহী থেকে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারী দেন তিনি। সেইসাথে এক দফা আন্দোলননের বর্তমান অবস্থাও তিনি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও রাসিক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল, বিএনপি রাজশাহী মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা, সদস্য সচিব মামুন অর রশিদ মামুন, জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব অধ্যাপক বিশ^নাথ সরকার, বিএনপি মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আসলাম সরকার, ওয়ালিউল হক রানা ও জয়নাল আবেদিন শিবলী ও বিএনপি রাজশাহী জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা মামুন।
এছাড়ার রাজশাহী বার এর আইনজীবী রইস উদ্দিন, পারভেজ তৌফিক জাহেদী, আলহাজ্ব আলী আশরাফ মাসুম, রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান জনি ও রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আকবর আলী জ্যাকিসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুর রহমান সৌরভ ও রাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহম্মেদ রাহিসহ বিভিন্ন জেলা ও মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।